v চীনের বিশ্ব কোষv চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগ
শাংগ্রিলার ভবিষ্যত্ আরো উজ্জ্বল হবে
2008-12-30 21:37:31
এখন শুনুন ওরা অনন্য । আজ এ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ পশ্চিম চীনের ইউন নান প্রদেশের দিছিং তিব্বতী জাতি স্বায়ত্তশাসিত বিভাগের শাংগ্রিলা অঞ্চল সম্পর্কে আপনাদের কিছু জানাচ্ছি আমি…

শাংগ্রিলা একটি সুন্দর দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিশ্ববিশ্রুত । তিব্বতী ভাষায় শাংগ্রিলার অর্থ মনের সূর্য ও চন্দ্র । মানবের স্বর্গ বলে সুবিদিত শাংগ্রিলা অসংখ্য দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে । গত কয়েক বছরে পর্যটন শিল্প ও অর্থনীতি ক্রমাগত বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি শাংগ্রিলা চীনের তিব্বতী অধ্যুষিত অঞ্চলের একটি সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী স্থানে পরিণত হয়েছে ।

পাহাড়ের বনাঞ্চলের অগ্নি নেভানো , অবৈধ শিকার বন্ধ ও বর্জ্য প্লাস্টিক থলি সংগ্রহের কাজ চালানোর জন্য তিব্বতী কৃষক ছিলিনফেইছু ও অন্যান্য গ্রামবাসীদের প্রতিদিন নানা স্থান ঘুরে বেড়াতে হয় । তারা নিজেদের শিশুদের আদর ও দেখাশুনার মতো পাহাড়ী বনাঞ্চলের সর্বত্র তত্ত্বাবধান ও তদারকী করে থাকেন । পাহাড়ী বনাঞ্চল পরিদর্শনের সময় তিব্বতী গ্রামবাসীরা আনন্দের সঙ্গে গান গান । ছিলিনফেইছু বলেন ,

পরিবেশ সুরক্ষার জন্য গ্রামবাসীরা জঞ্জাল পরিস্কার করে থাকেন । এর পাশাপাশি অবৈধ কাঠ কাটা এবং বন্য প্রাণী শিকার রোধ করার জন্য তারা পাহাড়ী বনাঞ্চলে সর্বত্র ঘুরে বেড়ান ।

ছিলিনফেইছু শাংগ্রিলা জেলার ফুদাছু অঞ্চলের লুরুং গ্রামে বসবাস করছেন । এ অঞ্চল আদিম বনাঞ্চল , উপত্যকা , ঝরণা , হ্রদ , জলাশয় এবং বৈচিত্র্যময় বিরল বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদে সমৃদ্ধ । এ অঞ্চলে তুজু ও বিথাই নামে দুটো হ্রদ সবচেয়ে সুবিদিত । মালভূমিতে অবস্থিত এ দুটো হ্রদের পরিবেশে পরিশ্রমী ও দয়ালু তিব্বতীদের লালন পালন করা হয় । বিথাই হ্রদের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপে একটি তিব্বতী বৌদ্ধ মন্দির আছে । উপাসনা করার জন্য স্থানীয় তিব্বতীরা এ মন্দিরে আসেন । সমুদ্র সমতলের তুলনায় ৪১০০ মিটার উঁচুতে মিলি নামে একটি হ্রদ ও এর আশাপাশের অঞ্চল এমন একটি জায়গা , যেখানে তিব্বতী পশুপালকরা পশু পালন করেন । সেখানে অসংখ্য তিব্বতী ষাঁড় যেখানে সেখানে ছড়িয়ে পড়ে । ঝরণার পানি স্বচ্ছ । সূর্য আলোতে ঝরণার জলপ্রপাত চকচক করছে ।

১৯৯৮ সালের আগে শাংগ্রিলা অঞ্চলের অধিবাসীরা পরিবেশ সুরক্ষার ওপর নজর দিতো না । বিস্তীর্ণ আদিম বনাঞ্চল কেটে ফেলে হয়েছে , তৃণভূমি নষ্ট হয়েছে , ফলে পাহাড়ের কাদা মাটি ও পাথরের ঢল নামাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায়শঃই ঘটে । ১৯৯৬ সালে এ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা হয় । প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য চীন সরকার বনাঞ্চল কাটা রোধ , কৃষি জমির পরিবর্তে বনাঞ্চল আবার গড়ে তোলা , গাছ ও ঘাস লাগানো ও পুনঃব্যবহার্য জ্বালানীকে জনপ্রিয় করে তোলাসহ নান রকম ব্যবস্থা নিয়েছে । দশ বারো বছর প্রচেষ্টার মাধ্যমে শাংগ্রিলা অঞ্চলে প্রাকৃতিক সম্পদ কার্যকরভাবে সুরক্ষা ও বিকাশ লাভ করেছে ।

স্থানীয় কর্মকর্তা তিং ওয়েন তুং বলেন , স্থানীয় সরকার এ অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষার কাজ জোরদার করার জন্য বিভিন্ন বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে । এ সব ব্যবস্থা অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষার জন্য দর্শনীয় অঞ্চলে অস্থায়ী আশ্রয় ও বাড়িঘর সরানো হয়েছে । ফলে বর্জ্য পদার্থের নির্গমন বিপুল পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে । পর্যটকদের ভ্রমণের সুবিধার জন্য দূষণমুক্ত জ্বালানী চালিত বিশটিরও বেশি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে । জ্বালানী সাশ্রয়ের ব্যবস্থা নেয়ার ফলে বনাঞ্চলের ওপর বায়ু মন্ডলের দূষণও কমে গেছে । এ ছাড়াও পানি ও ভূমির ক্ষতি নিবারণের জন্য রাস্তার দু'পাশে গাছ ও ঘাঁসও লাগানো হয়েছে । এর পাশাপাশি দর্শনীয় স্থানে দূষণমুক্ত রেস্তোরাঁ ও বাথরুম গড়ে তোলার জন্য সৌর শক্তি ও ভূগর্ভস্থ গরম পানিসহ বিভিন্ন জ্বালানী সম্পদ ব্যবহার করা হয়েছে । এ প্রসংগে তিং ওয়েন তুং বলেন ,

দর্শনীয় অঞ্চলে পরিবেশ সুরক্ষার জন্য দূষণমুক্ত জ্বালানী চালিত গাড়ি ব্যবহৃত হয়েছে । অগ্নি নেভানোর জন্য বিশেষ পথ , দূষণমুক্ত রেস্তোরাঁ ও বাথরুম গড়ে তোলা হয়েছে । এ সব অবকাঠামো ব্যবস্থা নির্মাণের ক্ষেত্রে ২৩ কোটি ইউয়ান অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে । পরিবেশ সুরক্ষার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে , তা এ অঞ্চলের মোট অর্থ বরাদ্দের ২ তৃতীয়াংশে দাঁড়িয়েছে ।

বর্তমানে শাংগ্রিলা অঞ্চলের অধিবাসীরা পরিবেশ সুরক্ষার ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছেন । তারা এ অঞ্চলের প্রতিটি গাছ , ঘাঁস , পাহাড় ও নদ-নদী খুব ভালবাসেন । আদিম ও সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এ অঞ্চলের লোকরা শাংগ্রিলাকে মানবের স্বর্গ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন । যাতে এখানে ভ্রমণের জন্য আরো বেশি পর্যটককে আকর্ষণ করা যায় ।

চিয়ান থাং থানার একজন গ্রামবাসী ছিওয়ানিপংছু বলেন , আগে তিব্বতীরা দু'তলা কাঠ দিয়ে নির্মিত বাড়িতে থাকতেন । তাদের চোখে বাড়ি যতো বড় তত ভাল । ফলে আদিম বনাঞ্চল অনেক নষ্ট হয়েছে ।

আগে বাড়িঘর নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত কাঠ ব্যবহার করা হতো। কারণ তিব্বতীদের ঐতিহ্যিক ধারণা অনুযায়ী বাড়ি যতো বড় তত ভাল । এতে বহু টাকা পয়সা অপচয় হয়েছে এবং পরিবেশের ক্ষতিও হয়েছে । পাহাড়ের ওপরে বড় গাছ বিপুল পরিমাণে কাটা হয়েছে । এখন এ ক্ষেত্রে বহু লোকের ধারণার পরিবর্তন হয়েছে । জ্বালানী সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার অধিবাসীদের জন্য বিনা পয়সায় সৌর শক্তি চালিত ব্যবস্থা স্থাপন করেছে ।

তিনি বলেন , সরকারের উদ্যোগে বাড়িতে বাড়িতে বিনা পয়সায় সৌর শক্তি চালিত ব্যবস্থা বসানো হয়েছে । এর পাশাপাশি তাদের জন্য মিথেন গ্যাস উত্পাদনের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে । গ্রামবাসীদের নিত্য দিনের জীবনযাত্রায় দূষণমুক্ত ও বিশুদ্ধ জ্বালানী ব্যবহার শুরু হয়েছে ।

(থান ইয়াও খাং)

  • সাক্ষাত্কার
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • অন-লাইন জরীপ
     
    © China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
    16A Shijingshan Road, Beijing, China