
সুরকার গু চিয়ান ফেন
গত শতাব্দীর ৮০'র দশকের প্রথম দিকে চীনের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ বসন্তকালের মিষ্টি বাতাসের মতো চীনের মাটিতে ঢেউ লেগেছে, দেশের দ্বার খুলে গেছে আর মানুষের মন উন্মুক্ত আলোয় শিক্ত হয়েছে। চেপে রাখা আবেগ ঝর্ণার মতো কল কল ধারায় প্রবাহিত হয়েছে। ১৯৮০ সালে চীনের বিখ্যাত সুরকার গু চিয়ান ফেন 'তরুণ বন্ধুদের পুনর্মিলন' নামে একটি গানে সুরারোপ করেন। সে বছরের আগস্ট মাসে বেইজিং-এর রাজধানী স্টেডিয়ামে আয়োজিত 'নতুন তারকা সংগীতানুষ্ঠানে' এ গান প্রথমবারের মতো পরিবেশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারা চীনে তা জনপ্রিয় হয়ে যায়। তখন চীনের স্কুল, কল-কারখানা, সেনানিবাস ও গ্রামসহ সব জায়গায় সবার কন্ঠেই 'তরুণ বন্ধুদের পুনর্মিলন' গানটি শোনা যেতো। ১৯৮৫ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও চীনের সংগীত সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'যুবকদের সমসাময়িক জনপ্রিয় গান' নির্বাচনে 'তরুণ বন্ধুদের পুনর্মিলন' গানটি প্রথম পুরস্কার পেয়েছে।
গানের কথা এমন, 'তরুণ বন্ধুরা, আজ আমরা মিলিত হচ্ছি। ছোট নৌকা চালাই, নাতিশীতোষ্ণ বাতাসে হালকা আমেজ, ফুলের সুগন্ধ ছড়িযে যাচ্ছে, পাখিরা গান গাইছে, বসন্তের এ রঙিন দৃশ্যে আমরা মুগ্ধ হয়ে যাই। আনন্দময় গান ও হাসির শব্দেরা রঙিন মেঘের পাখায় উড়ে বেড়ায়। প্রিয় বন্ধুরা, এমন বিস্ময় সৃষ্টি করতে কার ওপর নির্ভর করতে হয়? তোমার ওপর, আমার ওপর, এক কথা আমাদের এ ৮০'র দশকের তরুণদের ওপর।'

কন্ঠ শিল্পী চাং চেন ফু ও গেন লিয়ান ফাং
বন্ধুরা, আপনারা এই মাত্র 'তরুণ বন্ধুদের পুনর্মিলন' গানটি শুনলেন। গানের কথা লিখেছেন চাং মেই থোং, সুর দিয়েছেন গু চিয়ান ফেন, কন্ঠ শিল্পী চাং চেন ফু ও গেন লিয়ান ফাং। এ গানটিতে গত শতাব্দির ৮০'র দশকের চীনের যুবকযুবতীর মনের কথাই প্রকাশ পেয়েছে। এতে তাদের আধুনিকায়ন স্বদেশ নির্মাণের আদর্শ ও আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে। গানটি শুনে আমাদের মন প্রবল উত্সাহে উদ্দিপীত হয়ে ওঠে।
নতুন শতাব্দীতে প্রবেশের পর জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী চাং মাই ও তো টিয়ে সিন আবারও নতুন করে এ গানটি রেকর্ড করেছেন। (ইয়ু কুয়াং ইউয়ে) |