Web bengali.cri.cn   
কফিহাউসের আড্ডা: বাবা-মায়ের চিন্তা: 'সন্তানের সাফল্যের জন্য কী করণীয়
  2018-09-28 17:04:39  cri


 

 

জীবন চলার পথে 'কত স্বপ্নের রোদ ওঠে, আর কত স্বপ্ন মেঘে ঢেকে যায়! কতজন এলো-গেলো কতজনই আসবে- কফিহাউসটা শুধু থেকে যায়।' প্রিয় বন্ধুরা, কফিহাউসও থাকবে আর এই ২০ মিনিট আমি আছি আপনাদের সঙ্গে। শেয়ার করবো জীবনের অনেক কথা।

সুপ্রিয় শ্রোতা আমি ইয়াং ওয়েই মিং স্বর্ণা। সাপ্তাহিক 'কফিহাউসের আড্ডা' অনুষ্ঠানে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। এ সপ্তাহে আড্ডার বিষয় হচ্ছে: বাবা মায়ের চিন্তা- সন্তানের সাফল্যের জন্য কি করণীয়। আজকের আড্ডায় আমার সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন ডঃ কিশোর বিশ্বাস । তিনি পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রকৌশল ও তথ্য বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন পি এইড ডি ছাত্র ছিলেন এবং পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ইন্সটিটিউটে "এক অঞ্চল এক পথ ভাষা প্রকল্পে" বাংলা ভাষার শিক্ষক ছিলেন। বর্তমান তিনি চীন-বাংলাদেশ প্রযুক্তি কোম্পানিতে (China-BD Tech ltd) জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্বে আছেন।

১. সন্তানের সাফল্যের জন্য বাবা মায়ের চিন্তা ও চাপ

সন্তান জন্ম নেওয়ার পর থেকেই প্রত্যেক বাবা-মা'র পুরুষের অন্যতম ও প্রধান স্বপ্ন থাকে তার সন্তানকে ঘিরে। সন্তানের জীবন, ভবিষ্যৎ ও সাফল্য নিয়ে সবসময়ই বাবা-মা চিন্তা করেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রার্থনা করেন, সন্তানের সুন্দর জীবন ও সাফল্যের জন্য।

সন্তানের জন্য চিন্তা, প্রার্থনা ছাড়াও মা-বাবা সন্তানের সাফল্যের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যান। সন্তানের সফলতা দেখতে, তাদের সাফল্যের জন্য ভূমিকা রাখতে সন্তান ছোট থাকতেই মা-বাবাকে কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়। তবেই-তো সন্তান একজন সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠবে, সফল মানুষ হবে।

সম্প্রতি ৬১ বয়স্ক হংকংয়ের সাবেক গায়িকা ছেন মেই লিং আবার আলোচিত হয়েছেন। কিন্তু এবার গায়িকা হিসেবে নয়, এবার সফল মা হিসেবে। ফেসবুকে তিনটি সন্তানের সঙ্গে তার একটি ছবি দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলা ওই ছবি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তার তিনটি ছেলে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছে। যখন চীনের সব বাবা-মা নিজের সন্তানের সফল ভবিষ্যত জীবনের জন্য চিন্তিত ও প্রচণ্ড চাপের মধ্যে থাকেন, তখন সবাই জানতে চান তিনি তিনটি ছেলেকে কীভাবে এতটা সফলভাবে বড় করেছেন? টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাত্কার নিজের অভিজ্ঞা শেয়ার করেছেন তিনি।

প্রথমে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাবা-মার দুশ্চিন্তা ও চাপ সন্তানের ভবিষ্যতেকে ধ্বংস করে দিতে পারে! এরপর তিনি যে প্রস্তাবগুলো দেন, সেগুলো শুনে সব অভিভাবক অবাক হয়ে যায়। তিনি বলেন, বাচ্চাদের প্রতিদিনের সময়সূচি নির্ধারিত করা দরকার নেই, বাচ্চাদের কোচিং সেন্টারে পাঠানোর দরকার নেই এবং বাচ্চাদের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবেন না।

কিন্তু বর্তমান চীনে, বিশেষ করে বেইজিংয়ের মতো মহানগরে বাচ্চাদের সফল ভবিষ্যতের জন্য অভিভাবকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন, বাচ্চাদের জন্য সবচেয়ে ভালো কোচিং সেন্টার খুঁজে বের করা এবং সবচেয়ে ভালো স্কুলে ভর্তি করার চেষ্টা করেন।

গত বছর অনলাইনে চীনের কুয়াংচৌ শহরে এক মায়ের লেখা প্রবন্ধ অনেক অভিভাবকের মনের কষ্টের কথা প্রকাশ করেছে। কুয়াংচৌয়ের ওই মায়ের মাসিক বেদন ৩০ হাজার ইউয়ান। তারপরও বাচ্চার গ্রীষ্মকালীন ছুটির খরচের হিসাব নিয়ে তার মাথা ব্যথা হয়। তিনি প্রবন্ধে হিসাব দেখিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় সফরের জন্য খরচ ২০ হাজার ইউয়ান, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বাসায় বাচ্চাকে দেখাশোনা করা বেবিসিটারের জন্য খরচ ৫ হাজার ইউয়ান, পিয়ানো শেখার জন্য ২ হাজার ইউয়ান, সাঁতার কাটা শেখানোর জন্য ২ হাজার ইউয়ান, চীনা ভাষা, অঙ্ক ও ইংরেজি কোচিং ক্লাসের জন্য ৬ হাজার ইউয়ান। সব মিলে ৩৫ হাজার ইউয়ান প্রয়োজন। তার এক মাসের বেতন দিয়েও এসব খরচ উঠানো যায় না। আর কোন কোন অভিভাবক একটি ভালো স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য সেই স্কুলের কাছে বাসা কিনতে বাধ্য হন। কিন্তু বেইজিংয়ের অবস্থা হলো, ভালো ভালো স্কুলগুলো শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত। সেখানে বাড়ির দাম অনেক! প্রতি বর্গমিটার ৮০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ইউয়ান হয়ে থাকে! একটি ছোট বাড়ি কিনলেও ৮০ লাখ ইউয়ান খরচ করতে হয়। ফলে অনেক পরিবার ঋণ করে বাসা কেনে এবং ঋণের চাপের মধ্যে পড়ে যায়!

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে শিক্ষাসংক্রান্ত খরচ সবচেয়ে বেশি হয় চীনে। চীনে তিন ভাগের এক ভাগ অভিভাবক নিজের সবটুকো সময় সন্তানকে দেন। কিন্তু তারপরও বাবা-মায়ের উদ্বেগ কমেনি। সন্তানকে ভালো স্কুলে পাঠাতে না পারলে, ভালো শিক্ষক না পেলে, অন্য বাচ্চাদের চেয়ে ভালো পারফর্মেন্স না-করলে... কী হবে! এমন উচ্চ প্রত্যাশা বাচ্চার ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা নিয়ে বিশ্লেষণমূলক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিভাবকের চিন্তা ও উদ্বেগ বাচ্চাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এরপর তারা একবার পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে আত্মহত্যার চিন্তা করে।

ছেন মেই লিং বলেন, শিক্ষার প্রধান দায়িত্ব পড়ে অভিভাবকের ওপরে, স্কুল বা শিক্ষক শুধু এ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। অভিভাবক তার সন্তানের জন্য সারা জীবনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। অজানা ভবিষ্যত ও কঠিন প্রতিযোগিতার জন্য বাচ্চাকে প্রস্তুত করতে হয়। তাদের মনের কথা শুনতে হয় এবং তাদের সিদ্ধান্তের জন্য কি কি হতে পারে বা কি কি কষ্ট করতে হবে তা জানাতে হবে।


1  2  
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040