v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2008-07-28 16:06:58    
ভালোবাসার শক্তিতে জীবনে ফিরে আসা

cri

   ১৪ জুলাই চীনের ছাং ছুন শহরে অনুষ্ঠিত পেইচিং অলিম্পিক গেমসের মশাল হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় সুই লি হুয়া নামে একজন মশাল বাহক রয়েছেন। তিনি একজন জীবন্মৃত ছিলেন। কিন্তু তিনি জীবনের বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। তিনি যথাক্রমে আন্তর্জাতিক থাইজি-মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতায় নানা ধরণের পদক পেয়েছিলেন। এবার হচ্ছে তাঁর দ্বিতীয় বারের মতো অলিম্পিক গেমসের মশাল হস্তান্তর করা। কি কি তাঁর জীবন বদলে ফেলেছে? অলিম্পিক গেমসের মশাল হস্তান্তর তাঁর জন্য কি কি বিশেষ অর্থ কি? এখন আমি সু লি হুয়া নিয়ে আপনাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবো।

    আমি বিশ্ব চ্যাম্পিন ছিলাম। তা ছাড়া, আমি বিদেশে গিয়েছিলাম এবং একজন মশাল বাহক ছিলাম। একজন আগেকার মশাল বাহক হিসেবে আমার মনে হয়, বর্তমানের সাফল্য অর্জন করা খুব গৌরবের। বিশ্বে কে সবচেয়ে সুখী? অবশ্যই আমি। আমি মনে করি, আমি বিশ্বে সবচেয়ে ভাগ্যবান।

    অলিম্পিক গেমসের মশাল হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় কোন কোন মশাল বাহক আমাদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। সু লি হুয়া তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ২০০৬ সালের টুরিন শীতকালীন অলিম্পিক গেমস এবং ২০০৭ সালে ছাং ছুনে অনুষ্ঠিত এশীয় শীতকালীন গেমসের ���শাল হস্তান্তরে অংশ নিয়েছিলেন। ১৪ জুলাই নিজের জন্মভূমিতে পেইচিং অলিম্পিক গেমসের মশাল হস্তান্তর করা তাঁর জন্য বিশেষ তাত্পর্য রয়েছে। তিনি বলেন,

    সবচেয়ে আগে ২০০৬ সালে ইতালির টুরিন আমি চীনের প্রতিনিধিত্ব করে মশাল হস্তান্তর করেছিলাম। ২০০৭ সালের ২১ জুলাই আমার জন্মভূমিতে অনুষ্ঠিত এশিয়ার শীতকালীন গেমসে আমি জন্মভূমির জনগণের পক্ষ থেকে মশাল হস্তান্তরে অংশ নিয়েছিলাম। এবার পেইচিংয়ে ২০০৮ সালের অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হবে। আমি খুব আবেগক্রান্ত হয়ে পড়ি। সঙ্গে সঙ্গে আমি গৌরব বোধ করি। আমার জন্য এটা হলো সর্বোচ্চ গেরিবময় ব্যাপার এবং আমার সারা জীবনে অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

    ১৯৭৫ সালে একটি আকস্মিক দুর্ঘটনায় সু লি হুয়ার মাথা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জীবন্মৃতে পরিণত হন। ভাগ্যবান বিষয় হলো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়ে তাঁর স্বামী ত্যাগ করেননি। তিনি মনোযোগ দিয়ে সু লি হুয়াকে যত্ন নেন। নিঃস্বার্থ ভালোবানা অবশেষে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। এক বছরের পর সু লি হুয়া আরোগ্য লাভ করেন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সুস্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য স্বামীর অনুপ্রেরণায় সু লি হুয়া থাইজি-মুষ্টিযুদ্ধ চর্চা করতে শুরু করেন।

    অন্যান্যরা এক মাস শেখার পর থাইজি-মুষ্টিযুদ্ধ হস্তগত করতে পারেন। কিন্তু এক মাসেরও বেশি সময়ের পর আমি একটি মুদ্রা শিখতে পারিনি। আমি কান্নাকাটি করেছিলাম এবং শিখতে চাই না। কিন্তু এখন আমার স্বামী আমাকে সাহস ও প্রত্যয় দিয়েছেন। ভালোবাসা এক ধরণের শক্তি। তখন থেকে আমি রোগ সংগ্রামের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অবশেষে আমি থাইজি-মুষ্টি যুদ্ধ আয়ত্ত করেছি।

    চীনের হা'আর পিনের ২১ তম আন্তর্জাতিক বরফ ও তুষার দিবসের থাইজি মুষ্টিযুদ্ধ আন্তর্জাতিক আমন্ত্রী প্রতিযোগিতায় সু লি হুয়া ১৫০০ জনেরও বেশি দেশি-বিদেশী থাইজি মুষ্টিযুদ্ধ নৈপুণ্য একই মঞ্চে পরিবেশনা করেছেন। তিনি একটি স্বর্ণ পদক, দুটি রৌপ্য পদক এবং একটি ব্রঞ্জ পদক পেয়েছেন। সু লি হুয়া বলেন, স্বামী এবং থাইজি মুষ্টিযুদ্ধ তাঁর জীবনটা বদলে ফেলেছে। তিনি আরো বলেন,

    স্বামী আমার জন্য আবার জীবন কাটানো এবং রোগকে হারিয়ে করার আশা ও প্রত্যয় দিয়েছেন। থাইজি মুষ্টিযুদ্ধ এবং ক্রীড়া আমাকে দ্বিতীয় প্রাণ দিয়েছে। আমি মনে করি, এখন আমি আস্থাশীল এবং আমার জীবন প্রাণবন্ত। ইতালিতে মশাল হস্তান্তরের সময় দু'কেজি মশাল উত্তোলন করে অনেক ছেলে ক্লান্ত হয়ে ঘামছিলেন। কিন্তু আমি এক হাত উত্তোলন করে চার'শ মিটার দৌঁড়েছিলাম। কোন সমস্যা নেই।

    জীবন্মৃত থেকে আন্তর্জাতিক থাইজি মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিন এবং একজন মশাল বাহক হওয়ার প্রক্রিয়ায় সু লি হুয়া গভীরভাবে ভালোবাসার শক্তি অনুভব করেছেন। তিনি বলেন,

    সাম্প্রতিক বছরের অভিজ্ঞতা আমার জীবন সংক্রান্ত দৃষ্টি ভঙ্গী পরিবতণ করেছে। আমি অসুস্থ্যকালে অনেকে আমাকে যত্ন নিয়েছিল। এখন আমি অন্যন্যদের জন্য কাজ করতে চাই। আমি সমাজের প্রতিক্ষা করবো। তান তান নামে একজন মেয়ে আত্মহত্যা করতে চাই। আমি পত্রিকায় তাঁর গল্প দেখেছি। তারপর আমি তাকে আমার অভিজ্ঞতা বলেছি। অবশেষে সে মুদ্ধ হয়েছে। তা ছাড়া, আমার থাইজি মুষ্টিযুদ্ধ প্রশিক্ষকের যোগ্যতা আছে। কিন্তু আমি অন্য মানুষকে শেখানোর সময় কখনো ফি নেবো না। কারণ আমি আমাদের সমাজ ও আমাদের দেশের প্রতিক্ষা করতে চাই। (লিলি)