v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2008-07-14 17:05:24    
চীন বিশেষজ্ঞ ইউরি ইলিয়াখিন

cri

  চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কানসু প্রদেশের রাজধানী লান চৌ চীনের হান ও থাং রাজবংশের প্রাচীন রেশম পথের একটি বিখ্যাত শহর। এখানে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রাচীন চীনের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়। পেইচিং অলিম্পিক মশাল লান চৌ শহরে হস্তান্তরের সময় বিদেশের অনেক অতিথি এখানে মশাল বাহকের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাশিয়ার ইউরি ইলিয়াখিন হচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম।

    চীন সম্পর্কে ইউরি ইলিয়াখিন একজন সবজান্তা। তিনি পেইচিংয়ে ১০ বছর কাটিয়েছেন এবং সাবলীলভাবে হান ভাষা বলতে পারেন। চীনে বিদেশীদের জন্য আয়োজিত পেইচিং অলিম্পিক গেমসের মশাল বাহকদের প্রতিযোগিতায় ইউরি'র পরিবেশনা ছিল খুব আকর্ষণীয়। অবশেষ তিনি লান চৌয়ে মশাল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আমাদের বেতারের সাংবাদিককে সাক্ষাত্কার দেয়ার সময় তিনি হান ভাষায় প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেন, পেইচিং অলিম্পিক গেমসের একজন মশাল বাহক নির্বাচিত হওয়া তাঁর জন্য এক ধরণের গৌরবের। তিনি সংবাদদাতাকে বলেন, বর্তমান রাশিয়ায় কয়েকটি কনফুসিয়াস ইন্সটিটিউট আছে। অনেক রুশ হান ভাষা শিখতে আগ্রহী। তিনি আরো বলেন,

    রাশিয়ায় এখন হান ভাষা খুব জনপ্রিয়। আমি জানি, অনেকে বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা হান ভাষা শিখতে শুরু করেছে। বিশ্বে কনফুসিয়াস ইন্সটিটিউটের অনেক স্কুল রয়েছে। আমার মেয়ে চীনে আসার পর হান ভাষা শিখতে শুরু করে, তারপর মেক্সিকোয় ফিরে যাওয়ার পরও হান ভাষা শেখা অব্যাহত রেখেছে।

    এখন ৫৩ বছর বয়সী ইউরি গত শতাব্দীর ৮০'র দশকে পেইচিংয়ে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের একজন সংবাদদাতা ছিলেন। তিনি বলেন, তিনি চীনের পু-আর চা খেতে খুব পছন্দ করেন। তাঁর প্রিয় অপেরার নাম হলো "বিদায়, আমার কোংক্যুবাইন" এবং "হোয়াইট স্নেইক" প্রভৃতি। এক কথায় বলা যায়, তিনি নিজেকে চীনের একজন সাধারণ বাসিন্দা হিসেবে মনে করেন। তাঁর জন্মভূমি মেক্সিকোর চেয়ে পেইচিং সম্পর্কে তাঁর জানাশোনা অনেক বেশি। তিনি বলেন,

    পেইচিং আমার দ্বিতীয় জন্মভূমি। এখন পর্যন্ত আমি পেইচিংয়ে ১০ বছরেরও বেশি সময় কাটিয়েছি। আমি মেক্সিকোয় ফিরে গেলে কিভাবে বাসে চড়াতে হয় এমনকি এক কেজি'র মাংসের দাম কতো তা জানবো না। কিন্তু এখন আমি পেইচিংয়ে একজন সাধারণ বাসিন্দার মতো।

    ইউরি ১৯৯৯ সালে আবার পেইচিংয়ে ফিরে আসেন। তিনি ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনের কাজ করতে শুরু করেন। চীনে এটা হচ্ছে একটি সম্পূর্ণ নতুন সেবা। ইউরির নেতৃত্বে তাঁর দল ব্যক্তি বিজ্ঞাপনের ড্যাটা-বেস নির্মাণ করেছে। তারা পেইচিং, শাংহাই এবং হা'আর পিনে বিনা খরচে বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে হাজার হাজার চীনা জনগণকে তথ্য বিনিময় ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সমর্থন যুগিয়েছে।

    ইউরি সাম্প্রতিক দু'বছর চীন ও রাশিয়ার মধ্যে তথ্য বিনিময়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। চীন আন্তর্জাতিক বেতারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত "চীন-রাশিয়া মৈত্রী যাত্রা" বিষয়ক বড় ধরণের সাক্ষাত্কার সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি মনে করেন, এ ধরণের বেসরকারী বিনিময় বিপুলভাবে দু'দেশের মৈত্রী ত্বরান্বিত করেছে। তিনি বলেন,

  "চীন-রাশিয়া মৈত্রী যাত্রার" প্রভাব বিশাল। চীনা সাংবাদিকরা জীপ চালিয়ে সাইবেরিয়ার মধ্য দিয়ে মেক্সিকোয় পৌঁছেছিলেন। আমি জানি, এই কাজে অংশগ্রহণকারীরা রাশিয়ার ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে খুবই আগ্রহী। রুশ জনগণ চীনা জনগণকে স্বাগত জানান।

    একজন মশাল বাহক হিসেবে তিনি আন্তরিকভাবে আশা করেন, চীন ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অলিম্পিক গেমস আয়োজন করবে। এতে তিনি আস্থাশীল। কারণ তিনি গভীরভাবে চীনা জনগণের অতিথি পরায়নতা অনুভব করেছেন। তিনি বলেন,

    আমার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী চীনারা সবচেয়ে উত্সাহী স্বাগতিক। আমার মনে হয়, অলিম্পিক গেমস একটি ভালো সুযোগ। বিদেশীরা আরো বেশি চীনা সংস্কৃতি জানতে পারবেন। (লিলি)