v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2008-06-24 21:20:09    
তিব্বতী লোক কাহিনীর সংরক্ষণ ও বিকাশ

cri

এতক্ষণ আপনারা যা শুনলেন , তা তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ৮৬ বছর বয়স্ক লোক শিল্পী সামদ্রুপের পরিবেশিত ' রাজা গেসার' জীবনির একটি অংশ । রাজা গেসার জীবনী এমন একটি ঐতিহাসিক মহাকাব্য , যার মাধ্যমে প্রাচীনকালের তিব্বতী সমাজ নিয়ে অধ্যয়ন করা যায় । গত এক হাজার বছর ধরে লোক শিল্পীদের মুখে মুখে প্রচারের মাধ্যমে এ ঐতিহাসিক মহাকাব্যের কাহিনী ও ভাষা নিরন্তরভাবে পূর্ণাঙ্গ হয়ে উঠেছে । আজ এ অনুষ্ঠানে তিব্বতী জাতির লোক কাহিনী ও পরিবেশনের ঐতিহ্য সুরক্ষা ও বিকাশের ক্ষেত্রে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সমাজ বিজ্ঞান একাডেমীর তিব্বতী অধ্যাপক সেরিং পুনসোক সম্পর্কে আপনাদের জানাচ্ছি আমি …

বন্ধুরা, যে সব তিব্বতী শিল্পী রাজা গেসারের জীবনী পরিবেশন করতে পারেন , তাদের মধ্যে ৮৬ বছর বয়স্ক সামদ্রুপ সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ । তিনি তিব্বতের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা গেসার জীবনির শিল্পী । পুরনো তিব্বতে শিক্ষার ব্যবস্থা অত্যন্ত অনুন্নত ছিল । সুতরাং তিনি কখনও লেখাপড়া করতে পারেন নি । সামদ্রুপ প্রসঙ্গে রেসিং পুনসোক বলেন ,

গত শতাব্দিতে আদমশুমারীর সময় এ শিল্পীকে খুঁজে পাওয়া যায় । তিনি বলেন , ১১ বছর বয়সে যখন তিনি তৃণভূমিতে ঘুমিয়েছেন , তখন তিনি একটি স্বপ্ন দেখেছেন । ঘুম থেকে উঠার পরই তিনি রাজা গেসার জীবনী গাইতে পারতেন ।

তৃণভূমিতে বহু লোক সামদ্রুপকে স্বপ্নের শিল্পী বলে অভিহিত করতেন । অর্থাত্ তিনি স্বপ্নের মাধ্যমে রাজা গেসার জীবনী গাইতে পেরেছেন । তিব্বতে বৃদ্ধ সামদ্রুপের মতো শিল্পী অনেক বেশী । তাদের সবার বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা আছে । তাদের মধ্যে কেউ কেউ যখন পশু পালন করছেন , তখন হঠাত্ অজ্ঞান হয়ে পড়লেন । ঘুম থেকে উঠার পর তারা বিস্তারিতভাবে রাজা গেসার জীবনী বর্ণনা করতে পারলেন । এ সব শিল্পী অশিক্ষিত । তবু তারা বুদ্ধিমান । তিব্বতের সমাজ বিজ্ঞান একাডেমীর অধ্যাপক সেরিং পুনসোক বলেন ,

বেশির ভাগ শিল্পী দরিদ্র কৃষক ও পশু পালকদের পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন । নয়া চীন প্রতিষ্ঠিত হবার আগে তাদের মধ্যে কেউ কেউ সংসারের কারণে নাচ গান পরিবেশনের জন্য যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতেন । অন্যান্য ক্ষেত্রের লোকদের চেয়ে তাদের মর্যাদা খুব নিম্ন পর্যায়ে ছিল । সুতরাং তারা তৃণভূমিতে এক দিকে পশু পালন করতেন , অন্য দিকে নাচ গান পরিবেশনের মাধ্যমে আয় করার জন্য বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে বেড়াতেন । এ প্রক্রিয়ায় তারা সাধারণ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতেন এবং পরস্পরকে সাহায্য করতেন । ফলে শিল্পীরা নাচ গান ও অপেরা রচনার জন্য আরো বেশি তথ্য সংগ্রহ করতেন । সে যুগে সামদ্রুপের মতো বহু কৃতী শিল্পী দেখা দিতো ।

রাজা গেসার জীবনী একটি অতিশয় মহাকাব্য । এ মহাকাব্য ১২০টি খন্ডে বিভক্ত করা হয় । তার শব্দের সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি । তাহলে বিশ্বের বৃহত্তম মহাকাব্য হিসেবে শিল্পীরা কেমন করে তা স্মৃতি থেকে বলতেন ? তিব্বতের সমাজ বিজ্ঞান একাডেমীর অধ্যাপক সেরিং পুনসোক বলেন ,

প্রাচীনকালের গ্রীস ও ভারতেও কয়েকটি অতিশয় মহাকাব্য ছিল । পরে এ সব মহাকাব্যের কোনো প্রচার হয় নি । গত ১ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে শুধু রাজা গেসার জীবনী শিল্পীদের মুখে মুখে প্রচলিত রয়েছে । এ মহাকাব্যে নিরন্তরভাবে বীরদের কাহিনী ও অন্যান্য নতুন বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । বর্তমানে এ মহাকাব্যকে বিশ্বের একমাত্র জীবিত মহাকাব্য বলে অভিহিত করা হচ্ছে । এ ব্যাপারে শিল্পীরা তাদের অসাধারণ প্রতিভা ও নৈপুণ্যকে তুলে ধরেছেন ।

সেরিং পুনসোক বলেন , ১৯৫৯ সালে তিব্বতে গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রবর্তিত হবার পর থেকে আধুনিক সংস্কৃতি দিন দিন সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠার পাশাপাশি লোক ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিও সংরক্ষিত ও বিকশিত হয়েছে । গত দশ বারো বছরে সেরিং পুনসোক রাজা গেসার জীবনী গবেষণার কাজে নিয়োজিত হন । তিনি আবেগের সঙ্গে বলেন ,

চীন সরকার তিব্বতের রাজা গেসার জীবনী রক্ষার কাজের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয় । এ কাজ সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য ১৯৭৯ সালে চীনের একটি বিশেষ বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । সরকার এ মহাকাব্য রক্ষার কাজ দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিষয়ক একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে । এ ক্ষেত্রে বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে । রাজা গেসার জীবনী নিয়ে সার্বিক জরিপের কাজ চালানোর জন্য তিব্বতের নাছু ও ছানতুসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে । ফলে জনসাধারণের কাছ থেকে ৭৪টি মহাকাব্য খুঁজে পাওয়া গেছে ।

তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সমাজ বিজ্ঞান একাডেমীর সংখ্যালঘু জাতি বিষয়ক গবেষণাগারের উপ-মহাপরিচালক সেরিং পুনসোক বলেন , তিব্বত সমাজ বিজ্ঞান একাডেমীর উদ্যোগে লোক শিল্পী সামদ্রুপের মহাকাব্য পরিবেশন নিয়ে একটি গবেষণার কাজ চলছে ।

সামদ্রুপ যে রাজা গেসার জীবনী পরিবেশন করেন , তা অপেক্ষাকৃত পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং তাতে মহাকাব্যের সারাংশ তুলে ধরা হয়েছে । রাজা গেসার জীবনির সারাংশ রেকর্ড করার জন্য ২১১৪ ঘন্টা লাগে । আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এ মহাকাব্যের পুরোপুরি রেকর্ড ও প্রকাশনার কাজ সম্পন্ন করা হবে । গত ৩০ বছরে তথ্য সংগ্রহ ও রেকর্ড করার মাধ্যমে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে মহাকাব্য রাজা গেসার জীবনির গবেষণা ও সম্পাদনার ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে । এ সম্পর্কে সেরিং পুনসোক বলেন ,

গত ৫০ বছর ধরে তিব্বতে অভূতপূর্ব লোক সাহিত্য ও শিল্পকলা উদ্ধার , তথ্য সংগ্রহ , সম্পাদনা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে একটি অভিযান চালানো হয়েছে । গণতান্ত্রিক সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ হওয়ার পর সরকার তিব্বতের সংস্কৃতির রক্ষা ও উন্নয়নের ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে আসছে ।

এতক্ষণ শুনলেন ওরা অনন্য । (থান ইয়াও খাং)