৪ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাবলিউ বুশ হোয়াইট হাউসে সফররত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দু'পক্ষের আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু ছিল ইরানের পরমাণু সমস্যা, ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের শান্তি প্রক্রিয়া এবং লেবাননে সিরিয়ার প্রভাব। বিশ্লেষকগণ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে এহুদ ওলমার্টের এবার সফর মধ্য প্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় কম প্রভাব ফেলছে।
ইরান হচ্ছে ওলমার্টের সফরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বৈঠকের আগে বুশ বলেছেন, ইরান শান্তির প্রতি হুমকি স্বরূপ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ হুমকি নিষ্ঠার সঙ্গে মোকাবেলা করা উচিত। ওলমার্ট ইরানকে কড়াকড়িভাবে সর্তক করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, যে কোন উপায়েই হোকনা কেন ইরানের পরমাণু প্রকল্প প্রতিরোধ করবেন। তিনি আরো বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানের ওপর অর্থনৈতিক শাস্তি জোরদার করার পাশাপাশি আরো কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন ।
বৈঠকে বুশ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান পরমাণু অস্ত্র গবেষণা প্রতিরোধের জন্য প্রচেষ্টা চালাতে থাকবে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের পরমাণু সমস্যার ব্যাপারে অভিন্ন মত রয়েছে। তবে তা সম্পূর্ণ এক নয়। ইসরাইলের গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান দৃঢ়ভাবে মনে করে, ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরী প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয় নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান মনে করে, ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরীর প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়েছে। সুতরাং দু'দেশের আরো কড়াকড়ি ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের পরমাণু সমস্যার সমাধান সম্পর্কে আরো পরামর্শ করা দরকার।
মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া হচ্ছে দু'পক্ষের আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড অংগরাজ্যের রাজধানী আনাপোলিসে অনুষ্ঠিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি সম্মেলনে বুশ প্রস্তাব দিয়েছেন যে, ফিলিস্তিন ও ইসরাইল চলতি বছরের শেষ নাগাদ শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করবে। তিনি বলেছেন, ওলমার্ট ও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস হচ্ছেন এই ঐতিহাসিক ঘটনা বাস্তবায়নের প্রকৃত নেতা। তবে বর্তমানে বুশ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে অনেক বেশি বাধার সম্মুখীন।
বর্তমানে ইসরাইল ও হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা এলাকার সীমান্ত অঞ্চলে বল প্রয়োগমূলক সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে। ইসরাইল জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরে নতুন বসতি নির্মাণ করায় ফিলিস্তিন অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
সিরিয়া সমস্যায় দু'পক্ষের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। বর্তমানে ইসরাইল সিরিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আরও মনে করে, সিরিয়া হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য এলাকা তার দৃঢ়তার অভাবের প্রধান কারণ। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে নিঃসঙ্গ করতে চায়। বিশ্লেষকগণ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতে সিরিয়া মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য প্রতিকূল।
এক মাসের মধ্যে ওলমার্ট বুশের সঙ্গে দু'বার বৈঠক করেছেন। মে মাসে বুশ ইসরাইল সফর করেছেন এবং ইসরাইলের ৬০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। যদিও এবারের বৈঠকে দু'পক্ষ ইরান বিষয়ে কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছে, তবে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার তাত্পর্য সময়ের ওপরই নির্ভর করবে। (লিলু)
|