v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2008-06-03 20:38:21    
তিব্বতের অতীত ও বর্তমা

cri
আজ চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে তিব্বতীরা সত্যি সত্যিই মালিকে পরিণত হয়েছেন । বেশির ভাগ তিব্বতী অধিবাসীরা এখন স্থায়ী পাকা বাড়িতে বসবাস করছেন । তিব্বতের কৃষি ও পশু পালন এলাকাগুলোতে বিনাখরচে চিকিত্সার ভিত্তিতে সহযোগিতা চিকিত্সা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে । ৯০ শতাংশেরও বেশি লোক প্রাথমিক স্কুল থেকে মাধ্যমিক স্কুল পর্যন্ত ন'বছর মেয়াদী বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থার অধিকার পেয়েছেন । কিন্তু ৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে ৯৫ শতাংশেরও বেশি তিব্বতী সামন্ততান্ত্রিক ভূমি দাস ব্যবস্থার শাসনাধীনে ছিলেন । তারা ভূমি দাস হিসেবে দুঃখ-দুর্দশায় দিন কাটাতেন । আজ এ অনুষ্ঠানে তিব্বতের অতীত ও বর্তমান সম্পর্কে আপনাদের জানাচ্ছি আমি…

তিব্বতের ইতিহাস যাদুঘরে পুরনো তিব্বতের একজন সামন্তবাদী প্রভুর একটি চিঠি প্রদর্শিত হচ্ছে । চিঠিতে দু' প্রভুর জুয়া খেলার কথা বর্ণনা করা হয়েছে । জুয়াতে একজন জিতেছেন এবং আরেকজন হেরে গেছেন । জয়ী প্রভু তিন ভূমি দাস , সাত ঘোড়া ও বিশ রুপালী ডলার জয় করেছেন । এ থেকে বোঝা যায় , পুরনো তিব্বতে ভূমি দাসকে মুদ্রা হিসেবে ক্রয়-বিক্রয় করা হতো । এ প্রসঙ্গে চীনের তিব্বত বিষয়ক গবেষণাগারের উপ-মহাসচিব গেলেক বলেন ,

তার নানীকে উপহার অর্থাত্ ভূমি দাস হিসেবে এক প্রভুর হাত থেকে আরেক প্রভুর কাছে হস্তান্তর হয়েছে । এর পাশাপাশি তার পরিবার পরিজনকেও উপহার হিসেবে প্রভুর কাছে পাঠানো হয়েছে । পুরনো তিব্বতে ভূমি দাসরা ভীষণ দুঃখ-দুর্দশায় জর্জরিত ছিলেন । তাদের পরিবারের মতো আরো বেশি তিব্বতীকেও গবাদি পশুর মতো প্রভুর কাছে উপহার দেয়া হতো । ভূমি দাসরা গোশালায় থাকতেন । প্রতি দিন কঠোর শ্রম করতেন । বাচ্চা জন্মদানের পাশাপাশি মাকে পরিশ্রম করতে হতো । লাসায় বসবাসকারী ছিজুমার বয়স ৭০ বছর । পুরনো তিব্বতে তিনি ছিলেন একজন ভূমি দাস ।

ভূমি দাসকে প্রভুর কথা মানতে হতো । প্রভুরা যা খুশি তাই বলতে পারতেন । কিন্তু কোন কথা বলার অধিকার ভূমি দাসদের ছিল না । ভূমি দাসদের নিজের ভূমি ছিল না । কিন্তু প্রভুরা খুব সচ্ছল ছিলেন ।

সেসিন গ্রাম লাসার ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত । বাইরে ছেলে মেয়েরা স্বাছন্দ্যে খেলছে । তবু কয়েক দশক আগে এটাই ছিল দালাই লামা ও তার পরিবার পরিজনের বাসভবন । প্রভুদের শাসন ও নির্যাতনের কবল থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য বেশ কিছু ভূমি দাস পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন । তাদের মধ্যে ছসফেল ও তার বড় বোনও ছিলেন । আজ তারা বয়সী হয়েছেন । তাদের শৈশব ছিল খুব শোচনীয়। কিন্তু তাদের সন্তান সন্ততিরা আরাম ও সুখে জীবনযাপন করছে ।

আগে দালাই লামা ও তার পরিবার পরিজনের জন্য ভূমি দাসদের সারা দিন খাটতে হতো । ভূমি দাসরা মধ্যরাতে একটু ঘুমোতে পারতেন । ভোরে খুব সকাল উঠতে হতো । পরিশ্রমের সময় প্রভুরা তাদেরকে তত্ত্বাবধান করতেন । সবাই খুব ক্লান্ত হতেন । ক্লান্ত হলে মাটিতে একটু ঘুমোতেন । পরিশ্রমের পর তারা মাঝে মাঝে খেতেও পারতেন না ।

বড় বোন বলেন ,

পরিশ্রমের পাশাপাশি প্রভুরা ভূমি দাসদেরকে প্রহারও করতেন । ভূমি দাসরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন ।

পুরনো তিব্বতে ভূমি দাসদের সন্তান সন্ততিরাও ছোট দাস হিসেবে প্রভুদের নির্যাতনে দিন কাটাতো । তাদের জীবনযাপনের পরিবেশ দারুণ কষ্টকর ছিল । তাদের খাবার ও বস্ত্রের ভীষণ অভাব ছিল । বহু ছেলে মেয়েরা রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে মারা যেতো ।

পুরনো তিব্বতে ভূমি দাসের সংখ্যা তিব্বতের মোট জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশেরও বেশি ছিল । তারা প্রশাসক , প্রভু ও মন্দিরের উর্ধ্বতন পর্যায়ের ভিক্ষুদের শাসন ও নির্যাতনের স্বীকার হতো রয়েছে । প্রভুদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশেরও কম ছিল । তবু তারা তিব্বতের সকল জমি , পশু খামার , বনাঞ্চল, পাহাড় ও বেশির ভাগ গবাদি পশু নিয়ন্ত্রণ করতেন । সপ্তদশ শতকে ছিং রাজবংশের প্রথম দিকে তিব্বতে দু' লাখ হেক্টরেরও বেশি আবাদী জমি ছিল । প্রশাসক , প্রভু ও মন্দিরের উর্ধ্বতন পর্যায়ের ভিক্ষুরা সকল জমি দখল করতেন । ১৯৫৯ সালে গণতান্ত্রিক সংস্কার চালু হওয়ার আগে তিব্বতে ১৯৭জন বড় প্রভু ছিলেন । তারা প্রত্যেকেই প্রায় এক হাজার হেক্টর জমি নিয়ন্ত্রণ করতেন । চীনের তিব্বত বিষয়ক গবেষণাগারের অধ্যাপক চৌ ইউয়ান বলেন ,

সামন্তবাদী ভূমি দাস ব্যবস্থা ছিল এমন একটি ব্যবস্থা , যার মাধ্যমে ভূমি দাসদের ওপর উর্ধ্বতন পর্যায়ের ভিক্ষু ও প্রভুদের শাসন কায়েম করা হতো । পুরনো তিব্বতের শাসকরা ভূমি দাসদের ওপর কঠোর শাসন ও শোষণ করতেন । তাদের শাসন জোরদার করার জন্য ভূমি দাসদের বিরুদ্ধে আদালত ও জেল গড়ে তোলা হতো ।

১৯৫৯ সালে তিব্বতের শ্রমজীবি ও উর্ধ্বতন পর্যায়ের দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের অনুরোধে সামন্তবাদী ভূমি দাস ব্যবস্থার অবসান ঘটে । তিব্বতে গণতান্ত্রিক সংস্কার চালানো হয় । তিব্বতে স্বায়ত্তশাসিত সরকার গড়ে তোলা হয় । ১০ লাখ ভূমি দাস নিজের ভাগ্যের জোরে মালিকে পরিণত হন । চীনের তিব্বত বিষয়ক গবেষণাগারের কর্মকর্তা গেলেক বলেন ,

১৯৫৯ সালে গণতান্ত্রিক সংস্কার ছিল তিব্বতদের আধুনিকায়নের সূচনা । গণতান্ত্রিক সংস্কারে ভূমি সকল ভূমি দাসকে বিলি করা হয়েছে । তখন থেকে তারা নিজের ভূমি পেয়েছেন । ১৯৬৫ সালে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গঠিত হবার পর থেকে তিব্বতীরা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের অধিকার পেয়েছেন । ২০০৬ সালের শেষ নাগাদ তিব্বতের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্যাডারদের মোট সংখ্যার ৭০ শতাংশই তিব্বতী । এর সংখ্যা ছিল ৬০ হাজার ।

(থান ইয়াও খাং)