v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2008-06-03 20:30:09    
তিব্বতী সঙ্গীত শিল্পী ছাইতান চোমা

cri

১৯৩৭ সালে ছাইতান চোমা তিব্বতের রিকাচা এলাকার একটি গরিব ভূমিদাস পরিবারে জন্ম নেন । তিব্বতী ভাষায় ছাইতানের অর্থ হল দীর্ঘায়ু আর চোমার অর্থ মেয়ে । কিন্তু তিব্বতের শান্তিপূর্ণ মুক্তির আগে শৈশবকালে ছাইতান চোমার পরিবার অত্যন্ত কষ্টে ও দারিদ্রতার মধ্যে জীবনযাপন করত । ভূমিদাসের মালিকদের জন্য শারিরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে সংসার চালাতো । তিনি বলেন , আমার পরিবার খুবই গরিব ছিল । জমি ছিল না , গৃহ ছিল না । এই সব জমিদারের । আমরা জমিদারের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে জমি চাষ করতাম । ফসল হলে বেশির ভাগ জমিদারকে দিতে হত । আমাদের জীবনযাত্রার কোনো নিশ্চয়তা হত না ।

১৯৫১ সালে তিব্বতের শান্তিপূর্ণ মুক্তিরপর ছাইতান চোমার ভাগ্যের পরিবর্তন হয় । এক আকস্মিক সুযোগে ছাইতান চোমা তিব্বত যুব নারী ফেডারেশনে ভর্তি হন । এর পর তিনি মাঝেমাঝে যুব নারী ফেডারেশনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশনের সুযোগ পেতেন ।

২১ বছর বয়সে ছাইতান চোমা নিজের এলাকায় এক বিখ্যাত গায়িকায় পরিণত হন । এক বছর পর আরেক সুযোগ এলো। তিব্বতের সঙ্গীত শিল্পী গড়ে তোলার জন্য সাংহাই সঙ্গীত ইনস্টিটিউটে একটি "সংখ্যালঘুজাতি বিভাগ" খোলা হয় ।১৯৫৮ সালের একদিন সাংহাই ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা তিব্বতে ছাত্রছাত্রী আনতে গেলেন । ছাইতান চোমার প্রতিভা শিক্ষকদের প্রশংসা পেলো । শিক্ষকরা ব্যতিক্রমী হিসেবে তাকে সাংহাই সঙ্গীত ইনস্টিটিউটে গ্রহণ করলেন ।

ছাইতান চোমা বলেন , আমাদের ওখানকার অনেক লোক পরীক্ষা দিতে এসেছেন । আমার আগের সঙ্গীত দলের হানজাতির বেশ কয়েকজন শিল্পীও এসেছেন । তারা পরীক্ষার শিক্ষককে বললেন , তাদের মধ্যে ছাইতান চোমা নামে একটি মেয়ের কন্ঠস্বর অত্যন্ত ভাল , আপনি একবার শুনুন । শুনেই তিনি আমাকে নিয়ে নিলেন ।

নিজের মধুর কন্ঠস্বরের মাধ্যমে ছাইতান চোমা সাংহাই সঙ্গীত ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলেন । তবে মাত্র এক বছর লেখাপড়া করেছে বলে ছাইতান চোমার পক্ষে নিঃসন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করা একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ । শিক্ষকরা তার কন্ঠস্বরের প্রশংসা করতেন । কিন্তু তিনি নিরক্ষর, সঙ্গীত সুরের জ্ঞান ছিল না বলে লেখাপড়ায় বেশি অগ্রগতি হয়নি । এক সময় তিনি ইনস্টিটিউট ত্যাগ করার কথা চিন্তাও করেছিলেন । এ সম্পর্কে ছাইতান চোমা বলেন, সাংহাই সঙ্গীত ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার শুরুতে হান ভাষা জানতাম না । আমি ভাবতাম , আমি ফিরে যাব , এখানে আর আমি থাকব না ,শিখব না ।

ছাইতান চোমার অবস্থা জেনে সাংহাই সঙ্গীত ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা বিশেষ শিক্ষার পদ্ধতিতে তাকে শেখাতে শুরু করেন । যিনি তাকে শেখান তিনি তিব্বতী ভাষা শিখতে শুরু করলেন । সবাই আপন ভাইবোনের মতো ছাইতান চোমার দেখাশুনা করতেন । ছাইতান চোমার গানের অনেক উন্নতি হয়েছে । এ সময়কালে ছাইতান চোমা "মুক্তিপ্রাপ্ত ভূমিদাস আনন্দে গায় গান" নামক ছবির থিম গান গেয়েছেন । এ সম্পর্কে তিনি বলেন , পেইচিং চলচ্চিত্র কেন্দ্র একটি বৃহদাকার প্রামাণ্য চলচ্চিত্র তৈরী করেছে । ছবিটিতে তিব্বতের অতীতকাল এবং জাতীয় সংস্কারের পর তিব্বতী জনগণের অবস্থার পরিবর্তন তুলে ধরেছে । আমি ছবিটিতে এই গান গেয়েছি ।

এর পর ছাইতান চোমা একটার পর একটা তিব্বতী গান গেয়ে যাচ্ছেন। তার বিশেষ কন্ঠস্বর ও অকৃত্রিম মনোভাব অনেকের মনে গভীর রেখাপাত করেছে । ছাইতান চোমার গাওয়া "পার্টিকে একটি পাহাড়ী গান শোনাছি" ও " পেইচিংয়ের সোনালী পাহাড়" প্রতিটি পরিবারে পরিচিত । গানগুলো গোটা চীনে জনপ্রিয় ছিল এবং গভীরভাবে জনগণের মনে শিকড় গেড়েছে । তিব্বত উন্নয়নের প্রয়োজনে লেখাপড়া শেষ হওয়ার পর ছাইতান চোমা দ্বিধাহীনভাবে সাংহাই থেকে উন্নয়নরত তিব্বতে ফিরে গেলেন । এ সম্পর্কে তিনি বলেন , একজন তিব্বতী গায়িকা হিসেবে আমি এই জাতির এবং আমাদের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের । আমার গানের স্টাইল এখানে গড়ে তোলা হয়েছে । আমি এই ভূমিতে জন্ম নিয়েছি এবং বড় হয়েছি । আমি এখানে আরও বেশি ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হব ।

তিব্বতে ফিরে ছাইতান চোমা তিব্বত নৃত্য-সঙ্গীত দলে যোগ দিলেন । তিনি তিব্বতের প্রতিটি এলাকায় গিয়ে গানের মধ্য দিয়ে পশুপালকদের কাছে নিজের শুভেচ্ছা ও কামনার কথা জানাতেন । গত ৪০ বছর ধরে ৭০ বছর বয়সী ছাইতান চোমা জনগণের জন্য গান গেয়েছেন । তিনি গানের মাধ্যমে পুরানো তিব্বতের ভূমিদাস পরিবারের মেয়ে হিসেবে বড় হওয়ার ইতিহাস বর্ণনা করেছেন এবং আজকার তিব্বতের সুখী জীবনযাপনের প্রশংসা করেছেন ।