v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2008-05-27 20:42:11    
সিহু হ্রদের নারী মাঝি ইয়াং সিউপিং

cri
    সিহু হ্রদে নৌবিহারের সময় আশেপাশের সুন্দর দৃশ্য দেখার পাশাপাশি ইয়োচু অপেরার মনোরম সুর শ্রবণ করা একটি অতি আনন্দের কথা তাই না ? আপনারা এখন যে গানটি শুনেছেন তা আজকের নায়িকা সিহু হ্রদের নারী মাঝি ইয়াং সিউপিংয়ের গাওয়া ইয়োচু অপেরা ।

    অতীতে জীবনযাপনের অসুবিধার কারণে সিহু হ্রদের নারী মাঝিরা বাধ্য হয়ে নৌকা চালিয়ে সিহু হ্রদে পর্যটকদের নিয়ে ঘুরতেন । তবে কয়েক দশক আগে প্রাচীনযুগের সর্বশেষ অবস্থান সিহু হ্রদের নারী মাঝিরা ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকে সরে এলেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে পর্যটকরা ও হাংচৌ শহরের নাগরিকরা "পর্যটককদের নিয়ে ছোট নৌকায় সিহু হ্রদে ভেসে বেড়ানোর পাশাপাশি নারী মাঝিদের হালকা সুরে সুরে দুপাশের সুন্দর দৃশ্য বর্ণনা এবং সুরেলা ইয়োচু অপেরা শোনাচ্ছে" অতীতের এমন দৃশ্য দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন । এ জন্য ২০০৬ সালের মে মাসে হাংচৌ সিহু হ্রদের পর্যটন নৌকো কোম্পানি সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০জন সিহু নারী মাঝিকে আমন্ত্রণ জানায় । আপনারা যে অপেরা শুনেছেন তা গেয়েছেন ইয়াং সিউপিং । তিনি অনেক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিহু হ্রদের একজন নারী মাঝি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন । পরীক্ষায় নাম দেওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আগে আমি কখনো নৌকা চালাই নি অর্থাত মাঝির কাজ করিনি । অনেকে নৌকা চালিয়ে আস্তেআস্তে হ্রদে ভেসে ভেসে আরাম করে দেখে আমি ভাবতাম, কাজটা হয়তো বেশি কঠিন হবে না । তাই আমি পরীক্ষা দিতে আসলাম । এখানকার কর্তৃপক্ষরা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন , নৌকা চালানো অত্যন্ত কঠিন , আপনি ভয় করেন না ? উত্তরে আমি "না" বললাম । কারণ আমি মনে করলাম , অন্যান্যরা যা করতে পারেন তা আমিও করতে পারব । কিন্তু কাজের মধ্যে আমি অনুভব করেছি , এটা একটি অত্যন্ত পরিশ্রমী কাজ ।

    মাঝি হতে চাইলে তাকে নৌকা চালাতে এবং সাঁতার কাটা শিখতে হবে । নিজের জন্ম স্থান ওয়েনচৌতে ইয়াং সিউপিং ড্রাগণ নৌকা চালিয়েছিলেন । তিনি মনে করতেন , নিজের স্বাস্থ্য খুবই ভাল । কিন্তু মাঝি হওয়ার যোগ্যতা পাওয়া এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করার পর তিনি অনুভব করতে পেরেছেন, এই কাজ সত্যিই সহজ নয় । তিনি বলেন , গ্রীষ্মকালে ৪০-৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের তাপমাত্রায় আমাদেরকে এখানে বসে পর্যটকদের জন্য অপেক্ষা করতে হয় । পর্যটক আসলে তাদের নিয়ে ঘুরতে হয় । তখন আমাদের শরীর থেকে ঘাম ঝরে । এই গরম আর ক্লান্তিকে সহ্য করা যায় না ।

    মাঝি হওয়ার আগে ইয়াং সিউপিং হাংচৌ শহরে ৯ বছর ধরে কিন্ডারগার্ডেনের শিক্ষক ছিলেন । ২০০২ সালে তিনি কিন্ডারগার্টেনের কাজ ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে বৈদেশিক ব্যবসা শুরু করেন । তারা বছরে ২ লাখ ইউয়ান আয় করতেন । এখন হাংচৌয়ে তাদের নিজের বাড়ি ও গাড়ি আছে । তারা সুখে ও স্বাচ্ছন্দে জীবনযাপন করছেন । অনেকে বুঝতে পারেন না যে, কেন তিনি মাঝির কাজ পছন্দ করেছেন। তিনি বলেন , সিহু হ্রদ খুবই সুন্দর । তার দৃশ্য আমাকে আকর্ষণ করে । সিহু হ্রদে মাঝি হিসেবে কিছু কাজ করতে পারলে খুশি হব । এটা আমার পছন্দেরকাজ ।

    সিহু হ্রদের সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য ৩৫ বছর বয়সী ছেন কোচুয়েনকেও আকর্ষণ করে । তিনি সাওসিং শহর থেকে হাংচৌতে এসে মাঝির কাজ শুরু করেন । তিনি বলেন, হাংচৌতে জীবনযাপন করা ও মজুরী করা আমার জন্য গর্বের কথা ।

    দেড় বছর ধরে অনেক কষ্টভোগ করলেও ২০জন নারী মাঝির মধ্যে একজনও কাজ ছেড়ে যাননি । তারা অবসর সময়ে ইয়োচু অপেরা গাইতে, বাঁশি ও গুজেন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে এবং বিদেশী ভাষা শিখে নিয়েছেন । ইয়োচু অপেরা ছাড়া ইয়াং সিউপিং ইংরেজী , ফরাসী এবং জাপানী ভাষা দিয়ে বিদেশী বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে পারেন । তারা পর্যটক ও সমগ্র সমাজের সম্মান অর্জন করেছেন । হাংচৌ পর্যটন কমিটি তাদেরকে " হাংচৌ পর্যটনের প্রতিমূর্তির দূত" নামে আখ্যায়িত করেছেন । তিনি বলেন , আমরা পর্যটকদের চোখে একটি সুন্দর প্রতিমূর্তি । তাই আমাদের ভালভাবে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে । কেউ যথেচ্ছা এখানেওখানে বর্জ্য জিনিস ফেলে দিলে তাদের নিষেধ করতে হবে । আসলে আমরা সুন্দরী নই, আমাদের কাজ সুন্দর ।

    ২০০৬ সালের আগষ্ট মাসে হাংচৌ সফররত মিস ওয়ার্ল্ডদের সম্মানে আয়োজিত এক অর্ভ্যথনানুষ্ঠানের কথা স্মরণ করে ইয়াং সিউপিং বলেন , সংবাদদাতা পর্যটকদের জিজ্ঞেস করলেন, কারা সুন্দর? নারী মাঝি না মিস ওয়ার্ল্ড ? মিস ওয়ার্ল্ড সুন্দর পর্যটক উত্তর দেবেন নিশ্চয়ই, আমি মনে করলাম । কিন্তু আশ্চর্য হল যে , পর্যটকরা উত্তর দিলেন , নারী মাঝিরা সুন্দর । তারা মনে করেন , শ্রমজীবীরা সুন্দর । এটা আমাদের সবচেয়ে ভাল প্রশংসা ।

    ইয়াং সিউপিং ২০০৮ সালের পেইচিং অলিম্পিক গেমসের মশালবাহক নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন । স্বাভাবিক ভাবমানস ও সরল কথা দিয়ে ইয়াং সিউপিং ১০ হাজারেরও বেশি প্রার্থীর মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়েছেন । তিনি বলেন , আমার সৌভাগ্য, সিহু হ্রদের কল্যাণে আমি সবার কাছে পরিচিত হয়েছি । বিশ্বের কাছে হাংচৌ পরিচিত হবে , বিশ্বে হাংচৌ ও সিহু হ্রদ জনপ্রিয় হবে এবং বিশ্বের পর্যটকরা সুন্দর সিহু হ্রদ দর্শন করবে বলে হাংচৌ বাসীরা আশাবাদী ।

    সিহুর মাধ্যমে সবাই এই সব নারী মাঝিদের চিনেছেন । সিহু হ্রদ তাদের জন্য সীমাহীন আনন্দ এনে দিয়েছে । সিহু হ্রদের গান ইয়াং সিউপিং ও তার নারী মাঝি বন্ধুরা গাইতে পছন্দ করেন । গানটি তাদের জন্যই রচিত হয়েছে । গানটির কয়েকটি কথা এমনি, আমি একজন নারী মাঝিতে পরিণত হয়েছি । রঙবেরঙের মেঘ আমার পোশাক । আমাদের ভেসে থাকায় সিহু হ্রদ আরও সুন্দর আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে ।