v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2008-04-22 18:23:05    
তিব্বতীদের নতুন জীবনধারা

cri
ভৌগলিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে দক্ষিণ পশ্চিম চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে বসবাসকারী বেশ কিছু তিব্বতী অধিবাসী এখনও দরিদ্র । গত কয়েক বছর ধরে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের দারিদ্র্য দূরীকরণ খাতে চীন সরকার আরো বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে । ২০০৬ সাল থেকে তিব্বতে চীন সরকার কৃষক ও পশু পালকদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত একটি কার্যক্রম শুরু করেছে । গত দু' বছরে তাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে সরকার ৭ বিলিয়ন ইউয়ান বরাদ্দ করেছে । এতে ১.২ লাখ পরিবারের প্রায় ৬ লাখ কৃষক ও পশু পালক উপকৃত হয়েছেন । তিব্বতের রাজধানী লাসা শহরের ইয়াংদা থানার তিব্বতী অধিবাসী বেনবা তাদের মধ্যে একজন ।

বেনবার বাড়ির উজ্জ্বল ও পরিপাটি বৈঠকখানায় গৃহকর্তা এক দিকে অতিথিদের মাখন চা খেতে দিলেন , অন্য দিকে তার এখনকার নতুন বাসা প্রসঙ্গে বললেন ,

তার এখনকার বাসা ২০০৭ সালে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে । ২০০৬ সালে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সরকার গোটা অঞ্চলে কৃষক ও পশু পালকদের জন্য পুনর্বাসনের প্রকল্প শুরু করেছে । তার নতুন বাসা নির্মাণের জন্য তার নিজের খরচ ছাড়া আঞ্চলিক সরকার তাকে ২৪ হাজার ইউয়ান ভর্তুকী দিয়েছে । আগে তার পুরনো বাসা খুব ছোট ছিল । অন্ধকার ঘর , আলো নেই , সব জায়গা নোংরা । এখন তারা পরিপাটি ও উজ্জ্বল বাড়িতে থাকেন । সবাই সুখী জীবন যাপন কাটাচ্ছেন । তিনি বলেন , স্থানীয় সরকার শুধু তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে তা নয় , তারা বিভিন্ন দিক থেকে গ্রামবাসীদের সাহায্য দিচ্ছে ।

বিভিন্ন পর্যায়ের সরকার তাদের গ্রামকে বেশি সাহায্য দিয়েছে । গ্রামাবাসীদের জন্য সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে , তা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে । সরকারী ভর্তুকীর মধ্যে অধিবাসীদের পুনর্বাসনের ভর্তুকী , কৃষকদের ভর্তুকী , পশুপালকদের ভর্তুকী এবং নিম্ন উপার্জনকারী পরিবারের ভর্তুকী অন্তর্ভুক্ত। কৃষি কাজ চালাতে উত্সাহ দেয়ার জন্য সরকার কৃষি জমির আয়তন অনুসারে কৃষকদের ভর্তুকী দেয় । এ ছাড়াও কৃষকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর জন্য বিনা পয়সায় বেশ কিছু প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেছে । প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি পণ্যের গুণগত মান বাড়ানোর প্রযুক্তি শেখানো হয়েছে । গ্রামের উদ্বৃত্ত শ্রম শক্তি যাতে পার্শ্বজাত শিল্প চালাতে পারে , সেজন্য তাদেরকে মোটর গাড়ি মেরামতসহ বিভিন্ন ধরনের কৌশলও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে । স্থানীয় সরকারের এ সব কল্যাণমূলক ব্যবস্থায় বেনবার ছোট ভাইও উপকৃত হয়েছেন । তিনি প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে কিছু প্রযুক্তি শিখে নিয়েছেন । তিনি এখন পার্শ্বজাত শিল্প চালাচ্ছেন । বেশি আয় করেছেন ।

বেনবা বলেন , নববর্ষে গ্রামবাসীরা নিজেদের নতুন বাসায় বসন্ত উত্সব কাটিয়েছেন । সবাই খুব আনন্দিত । তারা সরকারী ভর্তুকী পেয়েছেন এবং আয় করেছেন । বসন্ত উত্সব উদযাপন উপলক্ষে তারা বেশি কেনা-কাটা করেছেন । তিনি বলেন ,

আগে গ্রামবাসীদের জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিম্ন ছিল । বসন্ত উত্সবেও তারা শুধু কিছু শাক-সবজি খেতেন । বাড়িতে রিফ্রিজারেটর ছিল না । খাবার সুরক্ষার জন্য খুব মুষ্কিল ছিল । এখন গ্রামবাসীরা সচ্ছল হয়েছেন । তাদের বাড়িতে বাড়িতে রিফ্রিজ্যারেটর আছে । তারা নতুন আসবাবপত্রও কিনেছেন । আগে গ্রামে শুধু একটি সাধারণ সাদা কালো টেলিভিশন ছিল । অনুষ্ঠান দেখার জন্য গ্রামবাসীদের টিকেট কিনতে হতো । একটি টিকেটের দাম চল্লিশ পঞ্চাশ পয়সা । এখন গ্রামবাসীদের প্রত্যেকের বাসায়ও টেলিভিশন আছে । টেলিভিশনের মাধ্যমে গ্রামবাসীরা দেশি-বিদেশী খবর ও বহু টেলিভিশন নাটক দেখতে পারছেন । টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখার জন্য বসন্ত উত্সব উত্সব উপলক্ষে গ্রামবাসীদের আনন্দ বেড়ে গেছে । এতে তাদের আবসরকালীন জীবনযাত্রা অনেক বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে ।

বেনবার বাবা ফুরেনপুছির বয়স হয়েছে । গত কয়েক দশকে তিনি স্বচক্ষে তিব্বতীদের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি প্রত্যক্ষ করেছেন । গত কয়েক বছরে তার পরিবারের জীবনযাপনের পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি আবেগের সঙ্গে বলেন ,

আগে তার পরিবারের শুধু ২০ বর্গ মিটারেরও কম আয়তনের একটি ঘর ছিল । পরে থাকার অবস্থা কিছুটা ভাল হয়েছে । কিন্তু বাড়িতে সন্তান বেশি এবং আয় কম ছিল । সংস্কার চালু হওয়ার পর তাদের পরিবারের নতুন বাসা নির্মিত হয়েছে । বেনবার বাবার বয়স এখন ৬৭ বছর । তিনি সুখী শেষ জীবন কাটাচ্ছেন ।

তেনচেনয়ানতুই বেনবার ছোট ছেলে । তার বয়স ১০ বছর । সে তার পরিবার ও পরিবার পরিজনদের খুব পছন্দ করে । সে বলেছে ,

তার নতুন বাড়িতে দুটো টেলিভিশন আছে । বাড়িতে নতুন আসবাবপত্রও আছে ।

বেনবা ও তার পরিবার পরিজনদের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি থেকে বোঝা যায় , তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে কৃষক ও পশু পালকদের পুনর্বাসন বিষয়ক চীন সরকারের কার্যক্রম সফল হয়েছে । পরবর্তী ৩ বছরে পশু পালকদের পুনর্বাসন , কৃষকদের পুরানো বাড়িঘরের পুনর্গঠন ও দারিদ্র্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বছরে ১০ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ করবে । এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর তিব্বতের ৮০ শতাংশেরও বেশি কৃষক ও পশু পালক নিরাপদ , আরামদায়ক ও পরিপাটি বাড়িঘরে থাকতে পারবেন ।

এ ছাড়াও তিব্বতের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার আরো বেশি অর্থ বরাদ্দ করবে । ২০১০ সালের মধ্যে তিব্বতে ৩০ হাজার কৃষক ও পশু পালক পরিবার নতুন বাড়িঘরে থাকবেন ।