v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2008-03-28 14:25:38    
পাহাড় থেকে উড়ে গেছে সোনালী ফিনিক্স

cri
 ১৪ বছর বয়সী কিশোরী ফু ছিন চীনের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ছেংতু শহরের লোং ছুয়ান ই জেলার লোং ছুয়ান পাহাড়ে থাকে। প্রাথমিক স্কুল পড়ার সময় তার বাবা মা বাইরে চাকরি করেতেন। সে এবং তার ছোট বোন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ দাদা ও দাদীর সঙ্গে পাহাড়ে বাস করতে থাকে। ছ'বছরের প্রাথমিক শিক্ষার সময়ে ফু ছিন একটি পাহাড়ী প্রাথমিক স্কুলে লেখাপড়া করেছেন। ফু ছিন বলেন,

    আমার প্রাথমিক স্কুলের নাম থুয়ান চিয়ে প্রাথমিক স্কুল এবং তা প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা একশ'রও বেশি রয়েছেন। শিক্ষকের সংখ্যা ১০। বাসা থেকে স্কুল পর্যন্ত হেঁটে যেতে মোট ৪০ মিনিট লাগে।

    এতো কষ্টের পরও ফু ছিন মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে থাকে এবং প্রাথমিক স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক হন। কিন্তু ফু ছিনের বাড়ির কাছাকাছি একটিও মাধ্যমিক স্কুল নেই। হেঁটে সবচেয়ে কাছের মাধ্যমিক স্কুলে পৌঁছাতেও দেড় ঘন্টা সময় লাগে। স্কুলের হোস্টেলে থাকার ফি খুব বেশি। বাবা মার সঙ্গে ছেং তু শহরে থেকে লেখাপড়া করলে আরো বেশি আর্থিক সমস্যা। ফু ছি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। সে পরিবারের ঝামেলা বাড়াতে চায় না। কিন্তু স্কুলে পড়াশুনার জন্য তার আকাংক্ষা তীব্র হয়ে ওঠে। ঠিক এ সময় তার শিক্ষকের কাছ থেকে একটি দারুন খবর আসে। ফু ছিন আমাদের সংবাদদাতাকে জানিয়েছে,

    শিক্ষক আমাদেরকে মনোযোগ দিয়ে লেখপড়ার অনুপ্রেরণা দিতে থাকেন। বর্তমান সরকারের অনেক সহায়ক নীতি রয়েছে। যেমন "সোনালী ফিনিক্স" প্রকল্প চালু করায় আমরা নিজেদের চেষ্টায় শহরে লেখাপড়া করতে এবং অবৈতনিক শিক্ষাসুবিধা ভোগ করতে পারি।

    ফিনিক্স হচ্ছে চীনের কিংবদন্তীতে বর্ণিত এক ধরণের উপকারী পাখি। সাধারণত চীনারা "সোনালী ফিনিক্সকে" দুরুহ পরিবেশে বড় হওয়া সেরা ধীশক্তির উপমা হিসেবে ব্যবহার করেন। ফু ছিনের মুখে বলা "সোনালী ফিনিক্স" প্রকল্প হচ্ছে স্থানীয় সরকারের বরাদ্দে পাহাড়ী অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের শহরের ছেলেমেয়েদের মতো ভাল শিক্ষার সহায়ক একটি প্রকল্প। এই প্রকল্প চালু হওয়ায় পাহাড়ী অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের ভাগ্যে পরিবর্তন আসে। এসব পাহাড়ী ছাত্রছাত্রীরা যেন পাহাড় থেকে উড়ে যাওয়া "সোনালী ফিনিক্স"।

    লোং ছুয়ান ই জেলায় পাহাড়ী ভূমির আয়তন সারা অঞ্চলের ৪২ শতাংশ। পাহাড়ী অঞ্চলে স্কুলের সংখ্যা বেশি। কিন্তু এ সব স্কুলের পরিসর ছোট, অবস্থা খারাপ এবং শিক্ষকরা দুর্বল। স্কুলে লেখাপড়া করতে গিয়ে পাহাড়ী অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের অনেক অসুবিধার মুখে পড়তে হয়। লোং ছুয়ান ই জেলা জরিপের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছাত্রছাত্রী এবং তাদের বাবা মার মতামত সংগ্রহের পর ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে "সোনালী ফিনিক্স" প্রকল্প চালু হয়।

    ফু ছিন এই ভালো সুযোগটি কাজে লাগায়। বর্তমান লোং ছুয়ান ই জেলার পাহাড়ী অঞ্চলের সবগুলো মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফু ছিনসহ ৩১০০ জনেরও বেশি পাহাড়ী ছেলেমেয়ে শহরের মাধ্যমিক স্কুলে লেখাপড়া শুরু করে। সেখানে কেবল যে তারা শিক্ষা ও বিবিধ ফি , বই কেনার টাকা এবং স্কুলে থাকার ফি মওকুফ পায়। তাই নয়, প্রতি মাসে তারা এক'শ রেনমিনপি'র খাবার ভাতা, বিশ রেনমিনপি পরিবহন ভাতা এবং দশ রেনমিনপি গরম পানি ভাতা পেতে থাকে। তা ছাড়া, স্কুল তাদেরকে দুটি করে স্কুলড্রেসও দেয়।

    ফু ছিন যে স্কুলে লেখা পড়া করছে সেটি ছেং তু শহরের অর্থনীতি উন্নয়ন অঞ্চলের শি ইয়ান মাধ্যমিক স্কুল। এখানে ছাত্রছাত্রীদের জন্য আবাসিক হোস্টেলও আছে। এই স্কুল ২০০৭ সালের জানুয়ারী থেকে নির্মাণ শুরু হয় এবং সেপ্টেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। বর্তমানে পাহাড়ী অঞ্চলের মাধ্যমিক স্কুলের সব ছাত্রছাত্রী এখানে পড়াশুনা করছে। আগে এসব ছাত্রছাত্রীর অধিকাংশই তাদের বাবা মা বাইরে চাকরি করার কারণে একা একা বাসায় থাকতো। তাদেরকে গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী কৃষক শ্রমিকদের ছেলেমেয়ে বলে গণ্য করা হতো। তাদের মধ্যে অনেকে খুব বিষণ্ণ থাকতো। স্কুলে থাকতে পেরে তারা এখন সঙ্গীদের সঙ্গে আনন্দে জীবনযাপন করছে। ছাত্রছাত্রীদের আশাবাদী মানসিক বিকাশ হচ্ছে। ভবিষ্যত নিয়েও তাদের নিজেদের চিন্তা আছে। ফু ছিন আমাদের সংবাদদাতাকে বলেন,

    আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাই। আমি বাবা মায়ের জন্য ভাল জীবন গড়ে তোলার চেষ্টা চালাবো। আমি শাংহাই কিংবা পেইচিংয়ের মতো বড় বড় শহরে যেতে চাই।

    বর্তমান ছেং তু শহরের সরকার লোং ছুয়া ই জেলার "সোনালী ফিনিক্স"প্রকল্পের সফল অভিজ্ঞতা আরো সম্প্রসারিত করার প্রস্তুতি নিয়েছে। যাতে শহর ও গ্রামের শিক্ষার ভারসাম্যমূলক উন্নয়ন বাস্তবায়িত হবে। ছেং তুন শহরের শিক্ষা ব্যুরোর একজন কর্মকর্তা চৌ চিপিং বলেন,

    আমাদের লক্ষ্য ভারসাম্য। কিন্তু আমাদের চুড়ান্ত উদ্দেশ্য নয়। আমাদের একান্ত উদ্দেশ্য হলো ভারসাম্যমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে আমাদের ছেলেমেয়েদের উন্নত করে গড়ে তোলা।

    চীনে লোং ছুয়ান শানের মত দরিদ্র পাহাড়ী অঞ্চলের সংখ্যা বেশি। গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী কৃষক শ্রমিকদের ছেলেমেয়েদের সংখ্যা ২ কোটির মতো। শহরের সঙ্গে গ্রামের ব্যবধান কমানো, শিক্ষার সমতা বাস্তবায়ন করা এবং শহরের সঙ্গে গ্রামের ছেলেমেয়েদের একই শিক্ষার সুযোগ দিয়ে গড়ে তোলার জন্য চীন সরকার এবং সমাজের সম্মিলিত চেষ্টা দরকার। (লিলি)