v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2008-02-08 21:14:04    
কৃষি বিজ্ঞানী ছেন চিয়ান পিং

cri
    গত বছরের অক্টোবর মাসে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সপ্তদশ কংগ্রেস পেইচিংয়ে অনুষ্ঠিত হয় । আজ এ অনুষ্ঠানে এ কংগ্রেসে অংশগ্রহণকারী দু'জন প্রতিনিধি, কৃষি ভাইরাস প্রতিষেধক বিজ্ঞানী ছেন চিয়ান পিং ও ছেন পাও চেন সম্পর্কে আপনাদের কিছু বলছি আমি…

    গত দশ বারো বছর ধরে পূর্ব চীনের চেচিয়াং প্রদেশের কৃষি একাডেমীর মহাপরিচালক ছেন চিয়ান পিং উদ্ভিদের ভাইরাস প্রতিষেধক তৈরীর কাজে নিয়োজিত রয়েছেন । ১৯৮৯ সালে তিনি ব্রিটেনের বোথামস্টাড গবেষণাগারে গিয়ে উদ্ভিদের ভাইরাস বিষয়ক গবেষণা কাজে নিয়োজিত হন । তিনি নির্ধারিত এক বছর মেয়াদী পরিকল্পনার ৯ মাসের আগেই তার গবেষণার কাজ সম্পন্ন করেন । তার পর ছেন চিয়ান পিং গত ৩০ বছর ধরে বিভিন্ন দেশের বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে অমীমাংসিত সমস্যা- ভাইরাস ও ব্যাঙের ছাতার সম্পর্ক জনিত সমস্যার নিষ্পত্তি করেছেন । তিনি ৮ মাসের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ব্যাঙের ছাতা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান । তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে উদ্ভিদের ভাইরাস আবিষ্কার করেন । এতে তিনি ব্যাঙের ছাতার মাধ্যমে উদ্ভিদের ভাইরাস বিস্তারের প্রত্যক্ষ দিকগুলোও অন্বেষণ করেন । তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার সাফল্যকে আন্তর্জাতিক উদ্ভিদের ভাইরাস তত্ত্ব বিষয়ক ইতিহাসের একটি মাইলফলক বলে অভিহিত করা হয়েছে । যখন ছেন চিয়ান পিং এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল আবিষ্কার করেন , তখন তার বয়স মাত্র ২৭ বছর ।

    তার পর ছেন চিয়ান পিং গমের ম্যাজেইক ভাইরাস এবং তার পরিবর্তনের পরিবেশ ও নিয়মবিধিও আবিষ্কার করেন । ফলে গত বিশ বাইশ বছর ধরে বিশ্বের উদ্ভিদের ভাইরাস ক্ষেত্রে অমীমাংসিত একটি বড় সমস্যার সমাধান হয়েছে । তিনি নিজের পরিশ্রম ও প্রতিভার কারণে বিশ্বের উদ্ভিদের ভাইরাস ক্ষেত্রে একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানীতে পরিণত হয়েছেন ।

    ১৯৯৫ সালে চে চিয়াং প্রাদেশিক সরকারের উদ্যোগে উদ্ভিদের ভাইরাস বিষয়ক একটি পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠিত হয় । ছেন চিয়ান পিং তার গবেষণার কাজ বন্ধ করে চে চিয়াং প্রাদেশিক কৃষি একাডেমীতে ফিরে আসেন । এ ব্যাপারে ছেন চিয়ান পিং-এর বিদেশী শিক্ষক বুঝতে পারেন নি । ছেন চিয়ান পিং বলেন ,

    তিনি বৈজ্ঞানিক গবেষণার মান উন্নততর করার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন । এখন তার কর্তব্য শেষ । দেশে ফিরে না আসার যুক্তি আর নেই ।

    দেশে ফিরে আসার পর চেন চিয়ান পিং তার গবেষণার কাজকে কৃষি উত্পাদনের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছেন । গত ৩০ বছর ধরে গমের ম্যাজেইক রোগ চীনে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে । যেখানে এ রোগ সংক্রমিত হয়েছে , সেখানে ফলন বিপুলমাত্রায় কমে গেছে । ছেন চিয়ান পিং ও তার সহকর্মীরা এ বিষয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন । একটানা দশ বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তারা যেমনি গমের ম্যাজেইক ভাইরাস খুঁজে পেয়েছেন , তেমনি এ রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ৫ ধরনের পদার্থ অন্বেষণ করেছেন । ১৯৯৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত এ সব ধরনের পদার্থ ৬ লাখ হেক্টর জমিতে কাজে লাগানো হয়েছে । ফলে চীনের গমের প্রধান উত্পাদন এলাকাগুলোতে এ রোগের বিস্তৃতি রোধ করা হয়েছে ।

    ২০০২ সালে ছেন চিয়ান পিং চেচিয়াং প্রাদেশিক কৃষি একাডেমীর প্রধান নিযুক্ত হন । তার পরিচালনায় বেশ কিছু কৃতি গবেষক সৃষ্টি হয়েছে । চেচিয়াং প্রাদেশিক কৃষি একাডেমীর বীজ লালন পালন কেন্দ্রের প্রধান থাও ইয়্যু চি অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি করতেন । তিনি ছেন চিয়ান পিংয়ের উত্সাহে একাডেমীর কাজে যোগ দিয়েছেন । তিনি বলেন ,

    ছেন চিয়ান পিংয়ের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছায় তিনি খুব মুগ্ধ হয়েছেন । মাতৃভূমির গঠন কাজ ও সেবার জন্য তিনি দেশে ফিরে এসেছেন । বর্তমানে ছেন চিয়ান পিং তার গবেষণাগারের জন্য কাজের নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন ।

    গবেষণাগার কারিগরি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আরো বেশি সাফল্য অর্জন করবে বলে তিনি আশা করেন । গবেষণাগারের কারিগরি উদ্ভাবন ও সেবার শক্তি বেড়ে যাওয়ায় ছেন চিয়ান পিং খুব খুশি হয়েছেন ।

    ছেন চিয়ান পিংয়ের মতোই বিজ্ঞানী ছেন পাও শানও উদ্ভিদের ম্যাজেইক ভাইরাস গবেষণার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন । তিনি কুয়াংশি চুয়ান জাতি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল থেকে এসেছেন । ১৯৮২ সালে তিনি কুয়াংশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ইনস্টিটিউট থেকে পাস করেন । পরে ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়ার জন্য তিনি অস্ট্রেলিয়ায় যান । ১৯৯১ সালে লেখাপড়া ও চাকরির জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান । যুক্তরাষ্ট্র লেখাপড়া ও চাকরি করার সময় তিনি উদ্ভিদের ভাইরাস নিবারণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি সাফল্য অর্জন করেছেন । তিনি বলেন ,

    সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ এবং জন্মভূমির পরিবেশ ছাড়া তার এত সাফল্য অর্জন করা অসম্ভব । তিনি তার সকল জ্ঞান ও প্রতিভা নিয়ে জন্মভূমির গঠনকাজে আত্মনিয়োগ করবেন ।

    ছেন পাও শান কুয়াংশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে এসেছেন । মিঃ বো স্যু লিয়াং ছেন পাও শানের শিক্ষক ছিলেন । একন দু'জনেই একই গবেষণাগারে কাজ করছেন । তখনকার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বো স্যু লিয়াং বলেন ,

    যখন ছেন পাও শান ফিরে এলেন , তখন গবেষণা কাজের জন্য একটি ল্যাবরেটরী স্থাপন করা খুব প্রয়োজন ছিল । সুতরাং গবেষণাগারের উদ্যোগে একটি সভা কক্ষের পরিবর্তে একটি ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা হয়েছে ।

    হাইটেক গবেষণার কাজ চালানোর পাশাপাশি ছেন পাও শান হাইটেক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে উত্পাদন বাড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন । তিনি বলেন , বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত গবেষণার লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের উপকার করা ।

    ছেন পাও শান ও ছেন চিয়ান পিং কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন । তারা দু'জনেই গবেষণার সাফল্যকে কৃষি উত্পাদনে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন । চীনের আবাদী জমির আয়তন শুধু বিশ্বের ৭ শতাংশ । কিন্তু চীন বিশ্বের ২২ শতাংশ জনসংখ্যাকে পালন পালন করতে সক্ষম । এর মূলে রয়েছে চীনের কৃষি বিজ্ঞানীদের পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টা । (থান ইয়াও খাং)