 ২৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেত্রী বেনজির ভুট্টো রাজধানী ইসলামাবাদের কাছাকাছি রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়া শেষ করে গাড়িতে ওঠার পর পরই গুলি ও আত্মঘাতি বোমা হামলায় মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। শুরু থেকেই বেনজির ভুট্টোর রাজনৈতিক জীবন এগিয়েছে নানা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে। লন্ডন থেকে দু'মাস আগে দেশে ফেরার পর পরই তার ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা হয়েছিল। সে যাত্রা তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন।
বেনজির ভুট্টোর সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক জীবন হচ্ছেঃ

১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল, তত্কালীন সেনা শাসক জেনারেল জিয়াউল হকের আমলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রাণনাশ করার অভিযোগ তুলে বেনজির ভুট্টোর বাবা, পিপলস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার আলি ভুট্টোকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। এর ঠিক আগে বেনজির ভূট্টোকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। ৫ বছর কারাভোগের পর তিনি মুক্তি পান। এর পর তিনি লন্ডনে চলে যান।
১৯৮৬ সালের ১০ এপ্রিল, বেনজির ভুট্টো লন্ডন থেকে স্বদেশে ফিরে আসেন এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির হাল ধরেন। তার নেতৃত্বে পিপিপি পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেয়।
১৯৮৮ সালের নভেম্বরে, পিপিপি নির্বাচনে বিজয়ী হয়। একই বছরের ১ ডিসেম্বর, বেনজির ভুট্টো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তিনি পাকিস্তানের ইতিহাসে এমন কি মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন।

১৯৯০ সালের ৬ আগস্ট, দুর্নীতি এবং সংঘাত নিরসনে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে পাকিস্তানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ইসহাক খান বেজির ভুট্টো সরকারকে বরখাস্ত করেন।
১৯৯৩ সালের ১৯ অক্টোবর, পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বেনজির ভুট্টো দ্বিতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
১৯৯৬ সালের ৫ নভেম্বর, বেনজির ভূট্টো আবার বরখাস্ত হন। এবার পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেন পাকিস্তানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ফারুক লেঘারি।
১৯৯৭ সালের ১০ মার্চ, বেনজির ভুট্টো পিপলস পার্টির আজীবন নেতা নির্বাচিত হন।

১৯৯৯ সালের ১৫ এপ্রিল পাকিস্তানের লাহোর হাই কোর্টের অধীন রাওয়ালপিন্ডি দুর্নীতি দমন আদালত বেনজির ভুট্টোকে ৫ বছরের কারাদন্ডের রায় দেয় এবং কোনো ধরনের সরকারি পদ গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপরে বেনজির ভুট্টো আবার স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান।
এ বছরের ৫ অক্টোবর, পাকিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফের সঙ্গে তার সমঝোতা হয়। সমঝোতার পর পারভেজ মুশাররফ একটি অধ্যাদেশ জারি করেন। যাতে বেনজির ভুট্টোকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রেহাই দেওয়া হয়।
১৮ অক্টোবর বেনজির ভুট্টো আট বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষ করে পাকিস্তানের করাচিতে ফিরে আসেন। সে দিনই রাতে করাচিতে তাঁর ওপর দু'দফা বোমা হামলা হয়। বহু হতাহত হলেও বেনজির ভুট্টো প্রাণে বেঁচে যান।

২৬ নভেম্বর বেনজির ভুট্টো পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন পত্র জমা দেন।
৩ ডিসেম্বর বেনজির ভুট্টো ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও 'সর্বদলীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন'-এর নেতা নেওয়াজ শরিফের সঙ্গে সমঝোতার জন্য বৈঠক করেন। তবে দু'পক্ষের মধ্যে পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়া কিংবা এ ব্যাপারে অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ নিয়ে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি।
|