v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2007-11-06 20:45:54    
অন্তঃর্মঙ্গোলিয়া তৃণভূমির পরিবেশকে উদ্ধার করুন

cri
    উত্তর চীনের অন্তর্মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ফুরেনবেল তৃণভূমির ভূমি উর্বর এবং এই অঞ্চল পানি ও ঘাসে সমৃদ্ধ । কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এ তৃণভূমির পরিবেশের নিরন্তর অবনতি হয়েছে । বর্তমানে ফুরেনবেল তৃণভূমি অঞ্চলের তৃণভূমিকে উদ্ধার করার জন্য সরকার ও জনগণ ধারাবাহিক ব্যবস্থা নিয়েছে । আজ এ অনুষ্ঠানে ফুরেনবেল তৃণভূমি সম্পর্কে আপনাদের কিছু বলছি আমি…

    নীল আকাশ , হ্রদের স্বচ্ছ পানি আর সবুজ তৃণভূমি । গায়ক-গায়িকাদের বেশ কিছু গানেই এ তৃণভূমির প্রশংসার কথা শোনা যায় । ফুরেনবেল অঞ্চলে বিশ্বের পশু পালনের বৃহত্তম তৃণভূমি রয়েছে । এ অঞ্চলে সাধারণ মানুষের জন্য দূষণমুক্ত খাবার তৈরী করা হয় । কিন্তু একটানা কয়েক বছরের খরা আবির্ভাব ও পশুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে ফুরেনবেল তৃণভূমির ঘাঁসের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে । ফলে গরু ও ছাগলের খাওয়ানোর চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না । ফুরেনবেল অঞ্চলের ফুরেন হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ব্যুরোর উপ-মহাপরিচালক লিউ সুং থাও বলেন ,

    ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তৃণভূমির পরিবেশের তেমন কোন ক্ষতি হয় নি । কিন্তু ২০০১ সালের পর ক্রমাগতভাবে খরা দেখা দেয় । প্রতি বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ শো মিলি মিটার । তখন থেকেই তৃণভূমি নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করে ।

    ফুরেনবেল শহরের হাইলাল অঞ্চলের কৃষি ও পশু পালন ব্যুরোর পরিচালক পাকেন বিশ বাইশ বছর ধরে কৃষি ও পশু পালন ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন । তিনি বলেন ,

    বর্তমানে ফুরেনবেল তৃণভূমির পরিবেশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ।

    তৃণভূমি বিলুপ্ত হওয়ার প্রবণতা ঠ্যাকানোর জন্য গত কয়েক বছরে ফুরেনবেল শহরের সরকার তৃণভূমি সংরক্ষণ এবং তৃণভূমির পরিবেশ পুনরুদ্ধারকে একটি প্রধান কাজ হিসেবে নানা রকম ব্যবস্থা নিয়েছে । এ সব ব্যবস্থা অনুযায়ী , পশু খামারের পরিবর্তে তৃণভূমি আবারও গড়ে তোলা হয়েছে এবং পশু'র সংখ্যা কমানোর মাধ্যমে তৃণভূমির পরিবেশ সুরক্ষা করা হয়েছে । পরিচালক পাকেন বলেন ,

    ফুরেনবেল তৃণভূমিতে পশু'র সংখ্যা ৭০ লাখেরও বেশি ছিল । বর্তমানে এ শহরের সরকার প্রতি বছর ১০ লাখ পশু কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে । এ বছরের শেষ নাগাদ পশু'র সংখ্যা ৫০ লাখে নেমে যাবে ।

    স্থানীয় পশু পালন বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলেন , এক হেক্টর উন্নত মানের তৃণভূমিতে শুধু একটি ছাগলের এক বছরের খাবার সরবরাহ করা যায় । ১০ লাখ পশু কমানোর ফলে ১০ লাখ হেক্টর তৃণভূমি সুরক্ষা করা সম্ভব হবে । কিন্তু এর পাশাপাশি তৃণভূমি তো পশু পালকদের জীবনযাপনের উত্স । পশু'র সংখ্যা কমানোর পর পশুপালকদের আয়ও স্বাভাবিকভাবে কমে যাবে । এ সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য ফুরেনবেল সরকার বিকল্প ব্যবস্থাও অন্বেষণ করেছে ।

    ২০০১ সাল থেকে ফুরেনবেল সরকার তৃণভূমির বাইরে ৩৫টি উন্নত মানের দুধেল গাই খামার গড়ে তুলেছে । এ সব দুধেল গাই খামার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব-বন্টন ব্যবস্থাও চালু হয়েছ । পশুপালকরা দুধেল গাই খামারের কৃষি জমিকে কাজে লাগিয়ে ভুট্টা বপন করছে । ভুট্টা বেশ কিছু দিন সংরক্ষণ করা যায় এবং তাকে পশু'র খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায় । সুতরাং শীতকালে উত্কৃষ্ট খাবার হিসেবে দুধেল গাইদের পর্যাপ্ত ভুট্টা সরবরাহ করা যায় । ফলে পশু খামারে পশুদের সুস্বাস্থ্য যেমনি নিশ্চিত হয়েছে , তেমনি তাতে তৃণভূমির পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না ।

    ৫৩ বছর বয়স্ক পশু পালক উ ছাং সেন বলেন ,

    এখানে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে একটি পশু পালকের পরিবারের বার্ষিক আয় ছিল মাত্র বিশ থেকে তিরিশ হাজার ইউয়ানের মত । এখন মাসিক আয়ই ১২ হাজার ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে ।

    আরেকজন পশু পালক পাইয়াতু বলেন , আগের নিয়ম ও ঐতিহ্য অনুসারে ছাগল পালনের জন্য তিন থেকে চার বছর সময় লাগতো । এখন এ সময় অনেক কমে গেছে । তৃণভূমির পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে শীতকালের আগে ছাগল ছানা বিক্রি করার জন্য স্থানীয় সরকার পশু পালকদের উত্সাহ দিচ্ছে । কারণ ছাগল ছানার মাংস যেমন কচি , তেমনি সুস্বাদু । এমন ধরনের ছাগলের মাংস বিক্রি করলে বেশি দাম পাওয়া যায় এবং এতে খাবার হিসেবে আরো বেশি ঘাঁস সাশ্রয় করা যায় । সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফুরেনবেল তৃণভূমিতে মরুকরণের আয়তন বছরে ১০ থেকে ২০ শতাংশ করে বাড়ছে । মরুকরণ রোধ এবং তৃণভূমি সংরক্ষণের ব্যাপারে সরকার বিবিধ ব্যবস্থা নেয়ার পর তৃণভূমিতে মরুকরণের প্রবণতা রোধ করা হয়েছে এবং তৃণভূমির যে সব অংশ মরুকরণ হয়েছে , এর মধ্যে বেশ কিছু অংশের সংস্কারও করা হচ্ছে । ফুরেনবেল শহরের হাইলাল অঞ্চলের কৃষি ও পশু পালন ব্যুরোর প্রধান পাকেন বলেন ,

    তৃণভূমির পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফসলের চাষ রোপণ এবং পশু পালন করা প্রয়োজন । আগে তৃণভূমিতে অবাধে পশু পালন করা হতো । আসলে এই ধরনের ধারণা খুব মারাত্মক ভুল । তৃণভূমির পরিবেশ ভাল অবস্থায় সংরক্ষণ করা হলে যেমনি পর্যটন শিল্পের বিকাশ , তেমনি সম্পদ হিসেবে তৃণভূমির ভূমিকা পালনের জন্য অনুকূল হবে ।

    এ ছাড়াও ফুরেনবেল সরকার আরো বলেছে , কৃষি ও পশু পালন অঞ্চলের নগরায়ন বাস্তবায়িত করা , পশু পালকদের পশু পালন অঞ্চল থেকে বাইরে সুশৃঙ্খলভাবে সরিয়ে নেয়া তৃণভূমিকে উদ্ধার করার একমাত্র পথ । খবরে প্রকাশ , ২০০৭ সালে ফুরেনবেল শহরের হাইলাল অঞ্চলে নতুন গ্রামাঞ্চল গড়ে তোলা সংক্রান্ত ৬০টিরও বেশি প্রকল্প চালু করা হবে । এ ক্ষেত্রে ৭ কোটি ইউয়ানেরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হবে ।

(থান ইয়াও খাং)