v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2007-10-16 15:36:49    
তিব্বতী জাতির জাঁকজমকপূর্ণ দই খাওয়া উত্সব

cri
    ১২ থেকে ১৮ আগস্ট চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী 'স্যু তুন চেই' অর্থাত্ দই খাওয়া উত্সব । যখন এই উত্সব পালিত হয় , তখন তিব্বতের রাজধানী লাসা শহর অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে উঠে । বৌদ্ধ মূর্তি প্রদর্শন , আতশবাজি পোড়ানো, তিব্বতী অপেরা দেখা এবং স্থানীয় জলখাবার আস্বাদন করার জন্য তিব্বতের বিভিন্ন অঞ্চলের জনসাধারণ লাসায় জড়ো হয় । আজ এই অনুষ্ঠানে তিব্বতের দই খাওয়ার উত্সব সম্পর্কে আপনাদের কিছু বলছি আমি…

    দই খাওয়ার উত্সব তিব্বতের একটি ঐতিহ্যবাহী উত্সব । তিব্বতী ভাষা অনুযায়ী , 'স্যু তুন' মানে দই খাওয়ার ভোজসভা । দই পান করার উত্সবের উদ্ভব হয় একাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে । দই খাওয়ার উত্সবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ মূর্তি প্রদর্শিত হয় । তার পর তিব্বতী অপেরা , সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান , তিব্বতী ষাঁড় ও ঘোড়দৌড়সহ নানা রকম বিচিত্রানুষ্ঠানও আয়োজন করা হয় । এই সব বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানের মধ্যে ড্রেপুং মন্দিরের বৌদ্ধ মূর্তি প্রদর্শনকে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান বলা যায় ।

    বৌদ্ধ মূর্তি প্রদর্শনকে রোদে বৌদ্ধ মূর্তি শুকানো বলেও বলা যায় । ড্রেপুং মন্দিরের পেছনের পাহাড়ের মাঝখানের দিকে যখন সূর্যোদয় হল , তখন এক শো সন্ন্যাসী প্রকান্ড ও রঙবেরঙের একটি রেশমী শাক্যমুনীর মূর্তি দেখায় । গোটা বৌদ্ধ মূর্তির আয়তন ছিল ৫ শো বর্গ মিটার । তা একটি সাধারণ বাস্কেটবল খেলার মাঠের চেয়েও বড় ।

    বৌদ্ধ মূর্তি দেখার সুবিধার লক্ষ্যে অনুষ্ঠান আয়োজনের আগের দিন রাতে ড্রেপুং মন্দিরের আশাপাশে বহু তিব্বতী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী তাবু স্থাপন করলো । যখন শাক্যমুনীর একটি প্রকান্ড মূর্তি পাহাড়ের মধ্যে ধীরে ধীরে উঠছিলো , তখন সবাই বৌদ্ধ মূর্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলো এবং উপাসনা করতে শুরু করলো । দর্শকরা ক্যামেরা ও ভিডিও-ক্যামেরা দিয়ে এই সব বৈচিত্র্যময় ও মনোরম দৃশ্যের জন্য ছবি তুললেন । এতে সবাই খুব মুগ্ধ হলেন ।

    দর্শকরা বলেন , বৌদ্ধ মূর্তি প্রদর্শন অনুষ্ঠান যেমন মনোরম তেমনি উত্সাহব্যঞ্জক । অনেকে আরেকটু হলে কেঁদে উঠতো ।

6

    ঐ দিন দই খাওয়া উত্সবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় এক লাখ আশি হাজার স্থানীয় অধিবাসী ও দেশী-বিদেশী পর্যটক বৌদ্ধ মূর্তি প্রদর্শন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন । বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যটকরা উজ্জ্বল সূর্যালোকে প্রদর্শিত প্রকান্ড বৌদ্ধ মূর্তি উপভোগ করেছেন । বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আরো বেশী পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য দই খাওয়া উত্সবের সাংগঠনিক কমিটি বহু প্রচার কাজ করেছে । সাংগঠনিক কমিটির কর্মকর্তা জাশিপিংছু বলেন ,

    গত বছর থেকে চীনের বিভিন্ন বড় ও মাঝারি শহরগুলোতে দই খাওয়া উত্সবের কথা ব্যাপকভাবে প্রচার করার জন্য একটি সরকারী ওয়েবসাইট গড়ে তোলা হয়েছে । এ বছর এই সরকারী ওয়েবসাইট ও দেশের দশ বারোটি অভ্যন্তরীণ ওয়েবসাইটের যৌথ উদ্যোগে দই খাওয়া উত্সব বিষয়ক বিষয়বস্তু এবং তিব্বতী অপেরাও সম্প্রচার করা হয়েছে । ফলে জনসাধারণ ও দেশী-বিদেশী পর্যটকরা খুব খুশি হয়েছেন । তিব্বতের দই পান করার উত্সব বিশ্বের একটি আকর্ষণীয় উত্সব হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

    বৌদ্ধ মূর্তি প্রদর্শন অনুষ্ঠান শেষে দই খাওয়া উত্সবের কেন্দ্রস্থল হিসেবে লাসার নরবুলিংকা অঞ্চলে অন্য ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয় । এই অঞ্চল ছিল পুরানো তিব্বতের প্রাক্তন শাসনকর্তাদের গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ । উত্সবকালে এই অঞ্চল এবং আশেপাশের বনে একটির পর একটি রঙবেরঙের তাবু দেখা যাচ্ছিল । লাসার প্রায় সকল অধিবাসী নিবিড় গাছপালায় ভরপুর এই বনে এলেন । বৃদ্ধবৃদ্ধারা গদির ওপরে বসলেন , তিব্বতী অপেরা শুনলেন , এবং আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার পরিজনের সঙ্গে দই ও যব মদ খাচ্ছিলেন । বহু দেশী-বিদেশী পর্যটকরাও তিব্বতীদের প্রীতি-সম্মিলনীতে অংশ নিয়েছেন এবং উপকন্ঠের এই অনন্য পরিবেশও উপভোগ করেছেন ।

    দই খাওয়া উত্সব চলাকালে নরবুলিংকা অঞ্চলে রোজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় । এই সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ঘোড়দৌড় ও তিব্বতী ষাঁড় দৌড় প্রতিযোগিতা অসংখ্য দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে । এই দুটো প্রতিযোগিতাকে তিব্বতী জাতির বৃহত্ ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান বলে মনে করা হয়। এই সব ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান আজও চলছে । প্রাচীনকালের রাজকীয় পোষাক পরা ঘোড় দৌড়বিদরা দৌড়ানো ঘোড়ার পিঠে বসে শুটিং , তীরছোড়া ও মাটি থেকে জিনিসপত্র কুড়িয়ে নেয়াসহ নানা রকম চিত্তাকর্ষক অনুষ্ঠান পরিবেশন করছিল। এতে পেইচিংয়ের পর্যটক মাদাম ইউয়ান হুই অত্যন্ত প্রফুল্ল হয়ে উঠলেন ।

    পর্যটকরা ঘোড় দৌড়বিদদের শ্রেষ্ঠ নৈপুণ্য অনুভব করেছেন । রকমারি খেলার জন্য তারা খুব মুগ্ধ হয়েছেন ।

    ঘোড় দৌড়ের চেয়ে তিব্বতী ষাঁড় দৌড়ানো অনুষ্ঠান আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে । ষাঁড়রা সামনে প্রাণপন ও দ্রুতবেগে দৌড়ানোর পাশাপাশি তাদের গা থেকে জোরালো নূপুরনিক্কণ বেজে যাচ্ছিল ।

    সন্ধ্যায় পোতালা ভবনের মহাচত্বরে প্রাণঢালা আতশবাজি পোড়ানো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । আতশবাজি জ্বলানোর পাশাপাশি পোতালা ভবনের অন্ধকার আরো লাবণ্যময় ও উদ্দীপ্ত হয়ে উঠলো ।

    বর্তমানে দই খাওয়া উত্সবের অনুষ্ঠানসূচীতে ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ মূর্তি প্রদর্শন , সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান , ক্রীড়া প্রতিযোগিতা , পুঁজি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থ সংগ্রহ এবং পর্যটনসহ নানা বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে । তিব্বতী জনতা আনন্দের সঙ্গে এই উত্সব কাটায় । তাতে বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যটকরা তিব্বতের অনন্য সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্যও অনুভব করেছেন । এ বছরের দই খাওয়া উত্সব প্রসঙ্গে লাসা শহরের ডেপুটি মেয়র স্যু ছেন ছাং বলেন ,

    চীনের দই খাওয়া উত্সব লাসার অর্থনেতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং পুঁজি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থ সংগ্রহের ব্যাপারে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে । এটা লাসার বিষয়ে প্রচার করা , পর্যটন শিল্প ত্বরান্বিত করা ও শহরের ব্যবস্থাপনা জোরদার করার জন্য অনুকূল হয়েছে । দই খাওয়া উত্সব চলাকালে প্রতিদিন লাসা ভ্রমণে আসা পর্যটকের সংখ্যা ৪০ হাজারে দাঁড়িয়েছে ।