প্রিয় শ্রোতা বন্ধুরা, আজকের অনুষ্ঠানে আমি আপনাদের একজন বৃদ্ধার কথা বলবো। তাঁর নাম চাং ওয়ান ওয়েন, তাঁর বয়স ৬৭। তিনি দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা দিচ্ছেন। কিন্তু কোন টাকা নেন না।
শিক্ষক চাং ষাটের দশকে চীনের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়---ফুতান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে ন। স্নাতক হবার পর তিনি কান সু প্রদেশের কান নান তিব্বত জাতি স্বায়ত্তশাসিত বিভাগে এবং লান চৌ শহরে গণিতবিদ্যা শিক্ষাদানের কাজ করতেন।অবসর নেবার পর তিনি ছাত্রছাত্রীকে নিজের জ্ঞান দিতে ইচ্ছুক। বিশেষ করে, দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা দিতে ইচ্ছুক।
আমাদের সংবাদদাতা শিক্ষক চাংকে যখন দেখেন তখন তিনি কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে পাঠ দিচ্ছিলেন। তার বয়স বেশি হলেও তি নি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে থাকার সময় ক্লান্তি বোধ করেন না, বরং যৌবনের প্রাণশক্তিতে তরপুর রয়েছেন।
শিক্ষক চাং প্রতি সপ্তাহে চারটি সন্ধ্যায় ছাত্রছাত্রীদের পাঠ দেন। ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার সুবিধার জন্য তিনি বিশেষভাবে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছেন। এই কক্ষ এখন দশজনেরও বেশি ছাত্রছাত্রীর অস্থায়ী স্কুলে পরিণত হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বেশির ভাগই দারিদ্র্য পরিবার থেকে এসেছে। শিক্ষক চাং বিনা বেতনে গৃহশিক্ষকের কাজ করছেন।
চার বছর আগে শিক্ষক চাং-এর বাড়িতে শিক্ষণার্থী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে একটি ছেলের নাম ছিল ওয়াং চে। তার বাবা মারা গেছেন। তার মা ক্লীনারের কাজ করছেন। প্রতি মাসে তিনি শুধু কয়েক শো ইউয়ান বেতন পান। তাদের জীবনযাত্রার মান ভালো নয়। এ কথা জেনে শিক্ষক চাং বিনা বেতনে তার গৃহশিক্ষকের কাজ করতে চান।
আমি দরিদ্র্য পরিবারের শিশুদের প্রতি সহানুভূতিশীল। কারণ আমার ছোট বেলায় আমার পরিবারও খুব কঠিন অবস্থার মধ্যে ছিল। অন্য কারণ হচ্ছে ,আমার শিক্ষা দেয়া ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা বেশি নয়। দু'একজন বেশি থাকলেও অন্য ছাত্রছাত্রীর লেখাপড়ার ওপর কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
ওয়াং চে বিনা বেতনে গৃহশিক্ষকের কাজ করা ছাড়াও সব সময় ছাত্রছাত্রীদের জন্য খাবার জিনিস এবং লেখাপড়ার বই, কলম ও রবারসহ বিভিন্ন পণ্য কিনে দেন। তাঁর ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে খুব পছন্দ করে। তারা শিক্ষক চাংকে ---চাং দাদা বলে ডাকে।
1 2
|