 চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ১ হাজার বৃটিশ সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ২ অক্টোবর ইরাক সফরকালে এ কথা ঘোষণা করেছেন।
বৃটিশ বাহিনী হচ্ছে বহু জাতিক বাহিনীর অন্যতম একটি অংশ এবং সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয়। ২০০৩ সালের মার্চ মাসে ব্রিটেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরাক যুদ্ধে প্রায় ৪৬ হাজার সৈন্য প্রেরন করে। ইরাক যুদ্ধের পরও প্রায় ১০ হাজার বৃটিশ সৈন্য ইরাকে মোতায়েন রয়েছে। ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাওয়া এবং ইরাকে বৃটিশ সৈন্যদের হতাহতের সংখ্যা বাড়ায় ইরাক থেকে বৃটেনের সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়টির গুরুত্ব ও চাপ বাড়তে থাকে। চাপের কারণে ব্রিটেন তার আংশিক সৈন্য প্রত্যাহার করেছে। ফলে ইরাকে মোতায়েন বৃটিশ বাহিনীর সংখ্যা এখন ৭ হাজার ১শ' থেকে ৫ হাজার ৫শ'তে নেমে এসেছে।

২০০৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে ৩০টিরও বেশী দেশ নিয়ে গঠিত বহু জাতিক বাহিনীর মধ্যে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫টি দেশ পর পর তাদের সেনা প্রত্যাহারের কাজ শেষ করেছে।
২০০৪ সালের মার্চ মাসে মাদ্রিদে সন্ত্রাসী হামলার পর, স্পেন তার ১ হাজার ৩শ'রও বেশী সৈন্যের সবটাই প্রত্যাহার করেছে। পরে হনডুরাস, নিকারাগুয়া, ডোমিনিকা প্রজাতন্ত্র, ফিলিপাইন, নরওয়ে, থাইল্যান্ড ও হাংগেরিও ২০০৪ সালের শেষ নাগাদ তাদের সেনা প্রত্যাহারের কাজ শেষ করেছে।

২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে, পর্তুগালের পুলিশ বাহিনী ইরাক থেকে তার বাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ইরাকে মোতায়েন পোল্যাণ্ডের সৈন্যের সংখ্যাও এখন খুব কম। একই বছরের এপ্রিল মাসে, নেদারল্যান্ডও তাদের সেনা বাহিনীকে ফিরিয়ে নেয়। ডিসেম্বর মাসে, ইউক্রেন ও বুলগেরিয়া তার বাহিনী প্রত্যাহারের কাজও শেষ করেছে।
২০০৬ সালের আগস্ট মাসের শেষ দিকে, দক্ষিণ কোরিয়া ইরাক থেকে প্রায় ৯শ' সৈন্য প্রত্যাহার করেছে। একই বছরের জুলাই মাসে, জাপান তার সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের কাজ শেষ করে এবং ডিসেম্বর মাসে ইতালির সব সৈন্যও দেশে ফিরে গেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারীতে স্লোভাকিয়া এবং আগস্টে ডেনমার্ক তাদের বাহিনীও প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তার বাহিনীর আশিংক সেনা ইরাক থেকে নিয়ে গেছে। চলমান চুক্তি অনুযায়ী, আগামী বছরের জুলাই মাস নাগাদ আরো প্রায় ৩০ হাজার সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে। প্রথম কিস্তির ২ হাজার ২শ' মার্কিন নৌবাহিনী গত মাসের ২৮ তারিখ ইরাক থেকে দেশে ফিরে গেছে।
|