v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2007-07-20 20:08:17    
ষষ্ঠ ছ'পক্ষীয় বৈঠকের নেতৃবৃন্দের অধিবেশনে চারটি বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে

cri

    কোরিয় উপদ্বীপের পরমাণু সমস্যা সংক্রান্ত ষষ্ঠ ছ'পক্ষীয় বৈঠকের নেতৃবৃন্দের অধিবেশন ২০ জুলাই পেইচিংয়ে শেষ হয়েছে । অধিবেশন শেষে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে , অধিবেশনে বিভিন্ন পক্ষ ছ'পক্ষীয় বৈঠকের পরবর্তী পর্যায়ের কাজকর্ম সম্পর্কে চারটি বিষয়ে মতৈক্য পৌছেছেএবং কর্মগ্রুপ প্রতিষ্ঠাসহ তিনটি পদক্ষেপ নিতে রাজি হয়েছে । চীনের আধুনিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গবেষণাগারের সহকারী প্রধান , চীনের নিরাপত্তা ও রণকৌশল গবেষণাগারের প্রধান ইয়াং মিং চিয়ে সি আর আইয়ের সংবাদদাতার সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন , বর্তমান বৈঠকের সুফল হল ছয়পক্ষ চারটি বিষয়ে একমত হয়েছে ।

    নেতৃবৃন্দের অধিবেশনের সমাপনী অনুষ্ঠানে চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী উ তা উয়ে বলেছেন , বিভিন্ন পক্ষ পারস্পরিক মর্যাদা প্রদর্শন , সমতা ও পরামর্শের পরিবেশে চারটি বিষয়ে একমত হয়েছে । তিনি বলেছেন , এই চারটি মতৈক্য হলো নিষ্ঠার সঙ্গে ১৯শে সেপ্টেম্বরের যৌথ বিবৃতি ও ১৩ ফেব্রুয়ারীর অভিন্ন দলিল কার্যকরী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে । উত্তর কোরিয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে নিষ্ঠার সঙ্গে তরার তাদের পরমাণু পরিকল্পনা দাখিল ও পরমাণু স্থাপনা অকার্যকর করার ব্যবস্থা নেবে । অর্থনৈতিক ও মানবিক সাহায্য হিসেবে উত্তর কোরিয়াকে ৯.৫লাখ টন ভারী তেল সরবরাহ করা হবে । বিভিন্ন পক্ষ ১৯ সেপ্টেম্বরের যৌথ বিবৃতি ও ১৩ই ফেব্রুয়ারীর অভিন্ন দলিলে লিপিবদ্ধ দায়িত্ব বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ।

    উ তা ওয়েন বলেছেন , সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে ষষ্ঠ ছ'পক্ষীয় বৈঠকের দ্বিতীয় পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে । এই সম্মেলনে কোরিয় উপদ্বীপের পরমাণু সমস্যা নিষ্পত্তির রোড ম্যাপ প্রণয়ন করা হবে । দ্বিতীয় পর্যায়ের সম্মেলনের পর পেইচিংয়ে ছটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে । পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে ১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তবিবৃতি ও ১৩ ফেব্রুয়ারীর অভিন্ন দলিল বাস্তবায়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং উত্তরপূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ও সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করা হবে ।

    চীনের আধুনিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একাডেমীর নিরাপত্তা ও কৌশল গবেষণাগারের পরিচালক ইয়াং মিং চিয়ে বলেছেন , এবারের বৈঠকের সাফল্য বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উপনীত কয়েকটি অভিন্ন উপলব্ধিতে প্রতিফলিত হয়েছে । তিনি বলেন ,

    এ বৈঠকের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে , সংশ্লিষ্ট পক্ষ ১৯ সেপ্টেম্বরের অভিন্ন বিবৃতি ও ১৩ ফেব্রুয়ারীর অভিন্ন দলিলপত্রের নীতি বাস্তবায়নের কথা ব্যক্ত করেছে । একদিকে উত্তর কোরীয় পক্ষ ঘোষণা করছে যে , সে তার যাবতীয় পারমাণবিক স্থাপনা অকেজো করে তোলার প্রতিশ্রুতি পালন করবে । অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পক্ষ ব্যক্ত করেছে যে , তারা উত্তর কোরিয়াকে ৯ লাখ ৫০ হাজার টন ভারী তেল এবং অন্য মানবিক সাহায্য দেবে । আমার মনে হয় , এটি হচ্ছে এবারের বৈঠকে অর্জিত সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় সাফল্য ।

    ইয়াং মিং চিয়ে বলেন , গত এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু সমস্যায় কয়েকবার প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে । এটি অনেক বাস্তব সমস্যার সংগে জড়িত । এ অবস্থার প্রেক্ষাপটে এবরের বৈঠকের ফলশ্রুতি সহজলভ নয় । তিনি বলেন ,

   কোরীয় দ্বীপের পরমাণু সমস্যায় কৌশলগত ও রাজনৈতিক স্তরে নয় , বরং বেশ কিছু বাস্তব সমস্যায় প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে । ফেব্রুয়ারী থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় মাসের মধ্যে বলতে গেলে বিভিন্ন পক্ষ প্রকৌশলগত স্তরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে । এতে প্রমাণিত হয়েছে যে , প্রথমত পরমাণু সমস্যা বিলম্ব করলে চলবে না । দ্বিতীয়ত এ সমস্যা বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থের সংগে জড়িত । তৃতীয়ত বিভিন্ন পক্ষকে কিছু না কিছু প্রচেষ্টা চালাতে হবে । এবরের বৈঠকে বিভিন্ন পক্ষের অভিন্ন উপলব্ধি কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে । আমার মনে হয় , এবরের বৈঠকে বিরাট সাফল পাওয়া গেছে ।

    ছয় জাতি বৈঠকের ভবিষ্যত উন্নয়ন সম্পর্কে ইয়াং মিং চিয়ে বলেন , কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু সমস্যা অত্যন্ত জটিল । এ সমস্যার পুরোপুরি সমাধান একটি দুরুহ প্রক্রিয়ার সাপেক্ষ । অথচ এ সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে বিভিন্ন পক্ষের অভিন্ন আশা আকাংক্ষা রয়েছে । তিনি বলেন ,

    কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু সমস্যা একটি জটিল সমস্যা । কেন না , এটি নিছক একটি পরমাণু সমস্যা নয় । প্রকৃতপক্ষে এটি যেমন মার্কিন-উত্তর কোরিয় সম্পর্কের সংগে , তেমনি কোরীয় উপদ্বীপের ঠান্ডা যুদ্ধোত্তর ব্যবস্থাপনা সমস্যার সংগেও জড়িত রয়েছে । আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে , এটি উত্তর-পূর্ব এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তা কাঠামোর সংগে জড়িত রয়েছে । ভবিষ্যতের দিকে তাকালে অনেক সমস্যায় আরো কিছু প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে । এমন কি কোনো কোনো দ্বিপকীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবারো উত্তেজনা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না । তবে সাধারণভাবে দেখতে গেলে বিভিন্ন পক্ষ এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে চাইছে না । তাই এ সমস্যার সমাধান হয়তো একটি মন্থর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হয় ।