v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2007-05-29 20:06:43    
উচুমুছিং তৃণভূমিতে মঙ্গোলিয়  পশুপালকদের  জীবনধারা

cri
    উত্তর চীনের অন্তঃর্মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তার বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক তৃণভূমির জন্য প্রসিদ্ধ। তৃণভূমিতে পশুপালকরা তাবুতে থাকতেন , ভেড়াসহ গবাদি পশু চরাতেন এবং তারা যাযাবরের মত জীবনযাপন করতেন । অন্তঃর্মঙ্গোলিয়ার তৃণভূমিতে পশুপালকদের জীবনধারার কী কী পরিবর্তন হয়েছে ? আজ এই অনুষ্ঠানে অন্তঃমঙ্গোলিয়ার সবচেয়ে উত্তরাংশের উচুমুছিং তৃণভূমিতে বসবাসকারী পশুপালকদের এখনকার জীবনধারা সম্পর্কে আপনাদের কিছু বলছি আমি…

    উচুমুছিং তৃণভূমি অন্তঃর্মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের এমন একটি অঞ্চল , যেখানে মঙ্গোলিয় জাতির সংস্কৃতি ও আচার ব্যবহার সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে । এই অঞ্চলের পরিবেশ মনোরম , তৃণভূমি বিস্তীর্ণ এবং এই অঞ্চল এখন চীনের পশু পালন শিল্পের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে । এই অঞ্চলের ভেড়া বড় , মাংস নরম এবং খেতে খুব সুস্বাদু । মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো তা খুব পছন্দ করে । প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক গরু , ভেড়া ও মাংসজাত দ্রব্য দেশ-বিদেশে বিক্রি ও রফতানি হয় ।

    আগে তৃণভূমিতে পশুপালকরা আলাদা আলাদাভাবে পশুপালন করতেন । এখন তারা ঐতিহ্যবাহী পশু চরানোর পদ্ধতির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন । তৃণভূমিতে পুহোবায়ার নামে একজন দক্ষ পশুপালক আছেন । তিনি বলেন , বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশু চরানোর ফলে তার পরিবারের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে । অবসর সময় ঐতিহ্যবাহী মঙ্গোলিয় কুস্তি প্রতিযোগিতাসহ তারা স্বাচ্ছন্দ্যে আমোদ প্রমোদ করে থাকেন । গত বছর পশুপালন শিল্প পরিদর্শন করার জন্য তিনি নিজের খরচে তৃণভূমির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কানাডায় গিয়েছিলেন ।

    তারা কানাডায় ১০টি পশু চরানো খামার ঘুরে ঘুরে দেখেছেন । কানাডায় পশু পালন শিল্প অত্যন্ত উন্নত । এটা তাদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে । কানাডায় তারা বিরাটাকারের আধুনিক পশু চরানো খামার পরিদর্শন করেছেন । সেখানকার পরিবেশ সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষিত । পশুর বংশ বিস্তার , সার সংগ্রহ , বিক্রি ও প্রক্রিয়াকরণ সহ পশু পালন শিল্পের একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে । তাদের এবারের পরিদর্শনের উদ্দেশ্য পশু পালন শিল্প ব্যবস্থাপনার উন্নত মানের পদ্ধতি আমদানি করা এবং ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির সংস্কার ঘটানো ।

    উচুমুছিং তৃণভূমিতে পশুপালকদের বিদেশ ভ্রমণ বা পরিদর্শনে যাওয়ার বিষয়টি এখন খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে । ৯ বছর আগে পুহোবায়ার জেলা পশুপালক দলের সঙ্গে পরিদর্শন করার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন । ওখানে পশু পালনের জন্য যে আধুনিক ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে , তা তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছে । দেশে ফিরে আসার পর তিনি নিজের পরিবারের ৬ শো হেক্টর তৃণভূমিকে ৮টি ভাগে বিভক্ত করেন । প্রত্যেকটি ভাগে পালাক্রমিক পর্যায়ে পশু পালন শুরু হয় । এর পাশাপাশি ভেড়ার সংখ্যাও কিছুটা কমেছে । তবে উন্নত মানের গরু আমদানি করা হয়েছে । পশুর সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে শ্রম শক্তি ও পশুর খাবার ক্ষেত্রে খরচ হ্রাস পেয়েছে , কিন্তু আয় বেড়ে গেছে । এখন পুহোবায়ারের বার্ষিক আয় দশ বারো লাখ ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে । পশু পালনের এ নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় যেমন তৃণভূমি ব্যবহারের হার বেড়েছে , তেমনি তৃণভূমিও সুরক্ষা পেয়েছে । ২০০৬ সালে তিনি কানাডার খামারও পরিদর্শন করেছেন । দেশে ফিরে আসার পর তিনি পশু পালন খামারের ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছেন । তিনি কানাডার পশু পালনের উন্নত মানের প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার পদ্ধতিও শিখে এসেছেন ।

    এখন উচুমুছিং তৃণভূমিতে পুহোবায়ারের মতো বেশ কিছু পশুপালক নতুন ধরনের পশু পালন ও ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি চর্চা করছেন । তৃণভূমির একটি গ্রামের প্রধান তাওকেতাওফু বলেন ,

    তাদের গ্রামে প্রতি বছর ৪০ হাজারেরও বেশি পশু বিক্রি হয় । আগে এ সব পশু বিক্রি করার জন্য ব্যবসায়ীদের পেছনে ঘুরতে হতো । এর ফলে পশুপালকদের আয় কমে যেতো । গত বছর সরাসরি পশু বিক্রির জন্য জেলার মাংসজাত দ্রব্য তৈরী কোম্পানির সঙ্গে তাদের গ্রামের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় । গ্রামে পশু জবাই করার পর প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণও শুরু হয়েছে । এতে প্রতিটি কৃষক পরিবারের আয় কয়েক শো ইউয়ান বৃদ্ধি পেয়েছে ।

    উচুমুছিং তৃণভূমিতে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ , বিপুল পরিমাণে উত্পাদন এবং উত্পাদনের ক্ষেত্রে বেশি যন্ত্র ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হচ্ছে ।

    শীতকালে উচুমুচিং তৃণভূমিতে প্রবল ঝড় হয় এবং তুষার পড়ে । তখন খুব শীত থাকে । পশু পালকরা পশু রক্ষার কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো । এখন শীতকালে পশু পালকদের বাড়িতে স্বস্তি ও সুষম অবস্থান বিরাজ করছে । আগের মত পশুর ক্ষয়ক্ষতির চিন্তা আর নেই । মানতুফুপাওলিকে তৃণভূমির একটি জনবহুল গ্রাম । এক শোরও বেশি মঙ্গোলিয় পশু পালক পরিবার এই গ্রামে বাসবাস করে । গ্রামের প্রধান বলেছেন ,

    তৃণভূমির বিভিন্ন অঞ্চলে পালাক্রমিক পর্যায়ে পশু পালনের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে । তৃণভূমির পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে । পশুর খাওয়ার জন্য ঘাস অনেক বেশী পাওয়া যাচ্ছে । তাই পশুপালকদের আয়ও বেড়ে গেছে । গ্রামে ৮০ শতাংশেরও বেশি পশুপালকের বাসায় স্থায়ীভাবে ভেড়া ও গরুর জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়েছে । তাদের গবাদি পশু এখন প্রবল ঝড় ও তুষারে ভয় পাচ্ছে না । পশুপালকদের বাড়িতে বায়ু চালিত বিদ্যুত্ যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে । বাড়িতে ব্যবহার্য টেলিফোনও জনপ্রিয় করে তোলা হয়েছে । গ্রামের প্রধান হিসেবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশু পালনের জন্য পশুপালকদের উত্সাহ দিতে হবে , উত্পাদন বাড়ানোর পদ্ধতির উন্নয়ন সাধন করতে হবে এবং আয় বাড়াতে হবে । জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য পশুপালকরা আরো বেশি আয় করার কথা বিবেচনা করছেন ।

    চীনের অন্তঃমঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ উচুমুছিং তৃণভূমিতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মঙ্গোলিয় পশুপালকদের লালন পালন করা হয়েছে । আজ এই তৃণভূমিতে ঘাস আরো সবুজ হয়েছে , ভেড়া ও গরুর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পশু পালকরা আরো স্বচ্ছল হয়ে উঠেছেন । একটির পর একটি সুন্দর সংগীতে পশুপালকদের সুখী জীবনযাপন চিহ্নিত হয়েছে ।