v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2007-05-16 19:22:16    
পিং পিংয়ের বাড়ি কেনার কাহিনী

cri
    জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সংগে সংগে চীনাদের বাসস্থানের অবস্থাও দিন দিন উন্নত হচ্ছে । যেসব তরুণ-তরুণীরা অতীতে বাবামার সংগে বসবাস করতেন , এখন নিজেদের একটি করে স্বাধীন বাড়ি থাকাই তাদের প্রত্যাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

    তরুণ পিংপিংয়ের বয়স ২৫ বছর । তিনি সবেমাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়েছেন । এখন তিনি চীনের রাজধানী পেইচিংয়ের একটি বিজ্ঞাপন ডিজাইন কোম্পানিতে কাজ করেন । বর্তমানে তিনি বাবামার সংগে পেইচিংয়ের পশ্চিম দিকে অবস্থিত ইয়ুং লে আবাসিক এলাকায় বাস করছেন । সেখানে প্রায় ৩০ হাজার অধিবাসী থাকেন । এ এলাকায় যেমন রয়েছে বেশ কিছু নতুন নির্মিত উঁচু উঁচু আবাসিক দালান , তেমনি রয়েছে কিছু পুরনো একতলা বাড়ি । আরো কয়েকটি আবাসিক দালান নির্মিত হচ্ছে ।

    পিংপিং ও তার বাবামা ৬০ বর্গমিটারের একটি ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকেন । এ বাড়িতে রয়েছে দুটো শোয়ার ঘর ও একটি বৈঠকঘর । ৯ বছর আগে তার মা ও বাবা ৩০ হাজার ইউয়ান দিয়ে এ বাড়ি কিনেছেন । এ বছর পিংপিং তার প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চান । কেন না , তিনি তার প্রেমিকার সংগে কয়েক বছর ধরে প্রেম করছেন । বিয়ের পরও তারা বাবামার সংগে একত্রে থাকলে অনেক অসুবিধা থাকবে । সুতরাং বিবাহোত্তর বাসস্থানের সমস্যা পিংপিংয়ের কাছে একটি বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে । তিনি বলেছেন ,

    আমার এখনকার বাড়ি খুবই ছোট । বেশ অসুবিধা হয় । যদি বাড়ি ভাড়া করি , তাহলে তার খরচও কম হবে না । তাছাড়া ভাড়া বাড়ি মোটের উপর নিজের বাড়ি নয় । অনেক ভেবেচিন্তে আমি ঠিক করেছি , বাড়ি কেনাই ভালো উপায় ।

    পিংপিংয়ের মা এখন অবসর নিয়েছেন । তার ছেলের নতুন বাড়ি কেনার ধারণা তাকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে । গত শতাব্দির সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময় তিনি সবেমাত্র চাকরীতে যোগ দেন । তখন তিনি কারখানার একটি সমষ্টিগত বাড়িতে থাকতেন । সেসময় ৫,৬জন করে একটি কামরায় থাকতেন । আশির দশকের গোড়ার দিকে তিনি বিয়ে করার পর স্বামী স্ত্রী মিলে একটি কাঁচা আবাসিক দালানে থাকতেন । বহু বছর পর তারা কারখানা থেকে এক কামরার একটি ফ্ল্যাট বাড়ি পান ।

    পিংপিংয়ের বাড়ি কিনার ধারণা জেনে তার মা মাডাম উ অত্যন্ত অভিভূত হয়ে উঠেন । তিনি বলেন ,

    যখন আমরা তরুণ ছিলাম , তখন বাড়ি পাওয়া কত কঠিন ছিল । তখন আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থাও তেমন সন্তোষজনক ছিল না । সেসময় স্বপ্নেও বাড়ি কেনার কথা আমরা ভাবি নি । থাকার একটি জায়গা থাকলেই আমরা সন্তুষ্ট হতাম । আজ যুগের অনেক পরিবর্তন হয়েছে । তরুণ-তরুণীরা ভালো ভালো বাড়িতে বসবাস করতে চান ।

    মাদাম উর পরিবারের বাসস্থানের পরিবর্তনে পেইচিংয়ের সাধারণ নাগরিকদের বাসস্থানের পরিবর্তন প্রতিফলিত হয়েছে । দশ বারো বছর আগে পেইচিংয়ের শহরবাসীদের গড় বাড়িঘরের আয়তন প্রায় ১০ বর্গমিটার ছিল । কিন্তু এখন গড় বাড়িঘরের আয়তন ২০ বর্গমিটার ছাড়িয়ে গেছে ।

    গত ৩০ বছর মাদাম উর বাসস্থানের অবস্থা ক্রমেই উন্নত হচ্ছে । এতে তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট । তার ধারণায় ৬০ বর্গমিটারের দুই কামরাবিশিষ্ট একটি ফ্ল্যাট বাড়ি তাদের জন্যে এখন যথেষ্ট । অথচ তার ছেলে পিংপিংয়ের ধারণা অন্য রকম । তিনি বাবামার মত কোনোক্রমেই দিন কাটাতে চান না । তাই তিনি এখন বাড়ি কেনার জন্যে খুবই ব্যস্ত । পেইচিংয়ের কোথায় নতুন আবাসিক দালান নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে এবং কোথায় নতুন আবাসিক দালান নির্মিত হচ্ছে । সবই তার জানা । এখন তার জন্যে সমস্যা হচ্ছে , কত আয়তনের বাড়ি কেনা হবে এবং কেমন করে কেনা যাবে । তিনি বলেছেন ,

    আমি একটি বড় বাড়ি কিনতে চাই । কিন্তু বড় বাড়ি কিনতে হলে বেশি ঋণ নিতে হবে । তখন তার উপর অনেক চাপ পড়বে । অথচ তার অনুকুল দিক হচ্ছে , তার কোম্পানি বাড়ি কিনার জন্যে মাসে মাসে তাকে কিছু ভাতা দিয়ে থাকে ।

    পিংপিংয়ের মা তাকে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন যে , প্রথমে একটি ছোট বাড়ি কিনবেন । পরে সামর্থ্য বেড়ে গেলে বড় বাড়ি কিনবেন। তার মায়ের চিন্তা অমূলক নয় । জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্যে বাড়ি কিনার কথা উঠেছে । বড় বাড়ি কিনলে ঋণ শোধের চাপ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে । তখন তাদের জীবনযাত্রার মানও নেমে যাবে । তা সত্ত্বেও পিংপিং একটি বড় বাড়ি কিনতে চান ।

    পেইচিং সমাজ বিজ্ঞান একাডেমীর অধ্যাপক তাই চিয়ান চুং মনে করেন যে , বাসস্থানের উন্নতির ক্ষেত্রে মাদাম উর দৃষ্টান্ত চীনের একটি যুগের পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে । তিনি বলেছেন ,

    পরিকল্পনা অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনীতিতে রূপান্তরের সংগে সংগে চীনের জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে । তার মধ্যে বাসস্থানের উন্নতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক । বর্তমানে পেইচিংবাসীদের বাসস্থানের অবস্থা মোটামুটিই স্বচ্ছল মানে উন্নীত হয়েছে ।

    অথচ পেইচিংয়ের সাধারণ লোকদের জন্যে নতুন বাড়ি কিনা এখনো একটি বিরাট অর্থনৈতিক চাপ । কেন না , বাড়িঘরের উচ্চ মূল্য জনসাধারণের ক্রয় ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে । পেইচিংয়ের বাড়িঘরের দাম সারা চীনে সবচেয়ে বেশি । পিংপিংয়ের ইয়ুং লে আবাসিক এলাকায় তিন বছর আগের আবাসিক বাড়ির দাম ছিল প্রতি বর্গমিটার ৪ হাজার ইউয়ান । এখন এ দাম দ্বিগুণ প্রায় হয়ে গেছে ।

    গৃহায়ন বাজারের এ তপ্তঅবস্থা চীনের জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে ব্যহত করছে এবং জনসাধারণের জীবনের উপর প্রতিকূল প্রভাব ফেলছে । চীন সরকার এর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে । সম্প্রতি সমাপ্ত চীনের জাতীয় গণ কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন চিয়া পাও সরকারের কাজকর্ম সম্পর্কিত প্রতিবেদনে বলেছেন , চীনের গৃহায়নের বিকাশকে ব্যাপক জনসাধারণের কথা ভেবে এগিয়ে নিতে হবে । বিশেষ করে যাদের আয় খুব স্বল্প , তাদের বাসস্থানের সমস্যা সমাধান করতে হবে এবং বাড়িঘরের দাম একটি যুক্তিযুক্ত মানে বজায় রাখতে হবে ।

    চীনের বাড়িঘরের দাম বৃদ্ধি রোধের জন্যে গত বছর চীন সরকার গৃহায়ন বাজার নিয়ন্ত্রণের অনেক ব্যবস্থা নিয়েছে । পেইচিয়ের পার্টি সম্পাদক লিউ ছি কিছু দিন আগে বলেছেন , আরো বেশি সংখ্যক সাধারণ নাগরিকদের চাহিদা মেটানোর জন্যে আগামী তিন বছর ২ কোটি বর্গমিটার কম দামের বাড়ি নির্মাণ করা হবে ।