v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2007-05-16 19:06:15    
আমরা চীনা সংস্কৃতি পছন্দ করি

cri

    ১৯৮৪ সালে ওড়ার স্বপ্ন হৃদয়ে লালন করে গ্যাবোনের১৪ বছর বয়সী ছেলে বেন্জা চীনে এসেছেন । এখন পর্যন্ত তিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চীনের কুংফু শিখে এসেছেন । তিনি সংবাদদাতাকে বলেন , ৯ বছর বয়স থেকে তিনি চীনের বিশ্ব বিখ্যাত কুং ফু তারকা লি সিয়াও লুংয়ের অভিনয় ছবি দেখতে শুরু করেন । তখন তাঁর মনে হত চীন দেশে সবাই উড়তে পারে , তা খুবই চমত্কার । আফ্রিকায় চীনের চিকিত্সা দলের অনুবাদক ওয়াংয়ের সঙ্গে এ সময় তার বন্ধুত্ব হয় । ওয়াং তাঁকে চীনের বিখ্যাত গায়ক গায়িকার গান শোনান , এভাবে চীনের প্রতি তাঁর ভালোবাসা আরো বেড়েছে । তাই ১৪ বছর বয়সেই তিনি একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । তিনি মনে করেন চীনে যাওয়ার সময় হয়েছে । এক মিনিটও অপেক্ষা করা ঠিক হবে না ।

    তখন বেন্জার এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধীতা করেন তাঁর বাবা মা । অবশেষে তাঁরা বেন্জার দৃঢ়তা দেখে তাঁর সিদ্ধান্তকে মেনে নেন। তবে প্রথম চীনে এসে বেন্জার ওড়ার স্বপ্ন ভেঙে যায় । কারণ তিনি দেখেছেন আসলে উড়তে পারে এমন লোক বিশ্বে নেই । তখন সত্যিই একটু হত্যাশ হয়েছেন তিনি । তবে বেন্জা এ কারণে তার স্বপ্নকে ছেড়ে দেন নি । মধ্য চীনের হোনান প্রদেশের সাও লিন মন্দিরের কুং ফু বিশ্ব বিখ্যাত । তিনি হোনান প্রদেশে গিয়ে কুং ফু শিখতে শুরু করেছেন । বেন্জা বলেছেন , কুং ফু শেখা খুব কঠিন । ভোর ৬টায় উঠে কুং ফু চর্চা করতে হয় । মন্দিরের সন্ন্যাসীর মত সবজি ও কংগী খান । বেন্জা হেঁসে হেঁসে বলেন , আসলে তিনি এমন অভিজ্ঞতার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানান । কারণ কঠিন জীবনের মাধ্যমে নিজের সুপ্তশক্তি আবিস্কার করেছেন এবং আস্তে আস্তে কুং ফুয়ের মর্ম অনুভব করেছেন ।

    সাও লিন মন্দির থেকে ফিরে আসার পর বেন্জা পেইচিং ভাষা ইন্সটিটিউটে এক বছ চীনা ভাষা শিখেছেন । তারপর আবার পেইচিং ক্রিড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অব্যাহতভাবে কুং ফু শিখছেন । এখন বেন্জা কুং ফু মহলের মাস্টার হয়েছেন । বন্ধুরা ঠাট্টা করে তাঁকে "বিদেশি কুং ফু মাস্টার" বলে ডাকে । কুং ফু জনপ্রিয়করণের সুবিধা সম্পর্কে বেন্জা অনেক কিছুই বলতে চান । কুং ফুকে তিনি একজন চীনা মানুষের মতই ভালোবাসেন । তিনি বলেছেন , কুংফুয়ের মর্ম খুব গভীর । তা শুধু শরীর চর্চার জন্য নয় , তা মানুষের মনকেও আলোকিত করতে পারে । কুং ফু বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি বিনিময় ত্বরান্বিত করার একটি ভালো পদ্ধতি ।

    কুং ফু চীনের এক মূল্যবান সাংস্কৃতিক সম্পদ । আসলে চীনের প্রাচীনকালের বইগুলো থেকে চীনের সংস্কৃতি সম্পর্কেও ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায় । তাও খুব মূল্যবান । বেন্জার চেয়ে একটু আলাদা , দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা পিউ চেন ইয়া প্রাচীনকালের পুরোনো বই খুব পছন্দ করেন । পেইচিংয়ের ভান চিয়া ইউয়ান নামে এক বাজারে এমন বই পাওয়া যায় । তাই পিউ চেন ইয়া সবসময় এ বাজার এসে পুরোনো বই খুঁজেন । তিনি বলেছেন , এ বাজারে পুরোনো জিনিস কিনতে তিনি খুব পছন্দ করেন । বিক্রেতা পিউ চেন ইয়াকে এসব বইয়ের পিছনের গল্প বলায় তিনি আরো উপকৃত হন । পিউ চেন ইয়া বলেছেন , এসব গল্প খুব মজার । তা থেকে আমি চীনের সংস্কৃতি সম্পর্কে আরো বেশি জানতে পারবো ।

    পিউ চিন ইয়া চীনে কয়েক বছর ধরে লেখাপড়া করছেন । তাঁর এক দক্ষিণ কোরিয় বন্ধুর সঙ্গে পেইচিংয়ে বেড়ানোর সময় এ বাজারটি তিনি প্রথম দেখেছেন । এখন পিউ চেন ইয়া প্রত্যেক সপ্তাহে দু'এক বার এ বাজারে আসেন । অনেক বিক্রেতার সঙ্গেও বন্ধুত্ব হয়েছে ।

    পিউ চেন ইয়া বলেছেন , তাঁর বাসায় অনেক প্রাচীনকালের পুরোনো জিনিস আছে । এ সব তিনি এ বাজার থেকেই কিনেছেন । তিনিও মাঝে মাঝে প্রাচীনকালের ছবি অথবা শিল্পকর্ম কিনে উপহার হিসেবে বন্ধুদের দেন । তাঁর বন্ধুরাও এমন জিনিস খুব পছন্দ করেন ।