v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2007-05-11 13:42:33    
গ্রামীন চিকিত্সক মা ইয়ু ফোং

cri
    চীন হচ্ছে একটি বিরাট জনসংখ্যাবিশিষ্ট দেশ । এর মধ্যে ৬০ শতাংশ লোক গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন । নানা কারণে চীনের বেশ কিছু গ্রামাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিকাশের মান পিছিয়ে পড়েছে এবং সেখানকার চিকিত্সা ও স্বাস্থ্য রক্ষার অবস্থাও সন্তোসজনক নয় । এসব অঞ্চলের কৃষকদের স্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব মোটের উপর স্থানীয় গ্রামীন চিকিত্সকদের উপর ন্যাস্ত রয়েছে । তারা বিভিন্ন স্থানের খারাপ প্রাকৃতিক অবস্থা ও পশ্চাত্পদ চিকিত্সা সরঞ্জামের মত অসুবিধা কাটিয়ে মনেপ্রাণে কৃষকদের সেবা করে আসছেন এবং দরিদ্র এলাকাগুলোর কৃষকদের স্বাস্থ্য রক্ষার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ।

    মা ইয়ু ফোং উত্তর-পশ্চিম চীনের নিং সিয়া হুই জাতির স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের কু ইউয়ান শহরের ইয়ান ছি জেলার তুং থাং গ্রামে বাস করেন । সেখানকার আবহাওয়া খুব শুষ্ক এবং সবসময় প্রবল বাতাস থাকে । জমির মরুকরণও খুবই গুরুতর । স্থানীয় কৃষকরা বলেছেন , এখানে সারা বছর বসন্ত থেকে শীতকাল পর্যন্ত বাতাস থাকে । বাতাস বইলে সর্বত্রই বালি ছড়িয়ে পড়ে ।

    গ্রামীন চিকিত্সক মা ইয়ু ফোংয়ের বয়স ৩৫ বছর । তিনি কালো আর চিকন । তবে তিনি সহজ সরল লোক । তিনি চশমা পড়েন । তার চেহারায় বুদ্ধিজীবীর ছাপ রয়েছে । চিকিত্সকের পেশা বাছাইয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন ,

    যখন আমার বয়স ১১ বছর ছিল , তখন আমার গ্রামের চিকিত্সা অবস্থা খুবই খারাপ ছিল । ভালো ওষুধও ছিল না । আমার একজন আত্মীয় ছিলেন । তার ৭ বছরের ছেলে নিউমোনিয়ায় ভুগছিল । নিজের বাড়িতে তিনদিন শুয়ে থাকার পর তিনি তার ছেলেকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসলেন । আমার বাবাও একজন চিকিত্সক ছিলেন । তার চিকিত্সা করার উপায় আমার বাবারও ছিল না বলে তিনি তাকে ইয়ান ছি জেলা হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দিলেন । অথচ হাসপাতালে পাঠানোর পথে ছেলেটি মারা গেল । তখন আমি মনে মনে ভেবেছিলাম ,আমাদের গ্রামে একজন ভালো চিকিত্সক থাকলে ছেলেটি বেঁচে থাকতো । কেন না , নিমোনিয়া নিরাময় করাও তত জটিল ছিল না । তখন আমি শপথ নিয়েছিলাম যে , পরে চিকিত্সা বিদ্যা শিখে আমি গ্রামীন চিকিত্সক হয়ে যাবো।

    মা ইয়ু ফোংয়ের বাবা মা চি তে একজন প্রবীণ গ্রামীন চিকিত্সক । তিনি আজীবন তুং থাং গ্রামে বসবাস করে আসছেন । ছোট বেলা থেকে মা ইয়ু ফোং বাবার কাছ থেকে চিকিত্সা বিদ্যা শিখেছে । সময় হলে তিনি চিকিত্সা সম্পর্কে বইপুস্তক পড়েন । তবে গোড়ার দিকে তিনি বাবার পেশা গ্রহণ করেন নি। উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি দেশের বাড়িতে ফিরে চাষবাস শুরু করেন । ১৯৯৮ সালে একটি সুযোগে তার ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে । তিনি বলেছেন ,

    গ্রামীন চিকিত্সকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্যে ১৯৯৮ সালে অ্যামিটি তহবিল সংস্থা পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করে । তখন আমাদের গ্রাম থেকে ৪জন লোক পরীক্ষা দিই । অথচ শুধু আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই । তারপর আমি আনুষ্ঠানিকভাবে কু ইউয়ান শহরের স্বাস্থ্য রক্ষা স্কুলে ভর্তি হলাম । স্কুলে ভালো নম্বর পাওয়ায় আমি বাড়তি এক বছর লেখাপড়া করেছি । সে সময় আমাদের গ্রামের চিকিত্সা কেন্দ্রের অবস্থা নাজুক ছিল । গ্রামীন চিকিত্সক হিসেবে আমি চিকিত্সা কেন্দ্রে থাকতাম। ২০০৪ সালে অ্যামিটি তহবিল সংস্থা সাহায্য বাবদ আমাদের কেন্দ্রকে ৫ হাজার ইউয়ান দেয় । এ টাকার পাশাপাশি আমি নিজেও ৬ হাজার ইউয়ান দান করি । এসব টাকা দিয়ে আমাদের আনুষ্ঠানিক চিকিত্সা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয় ।

    অ্যামিটি তহবিল সংস্থা একটি সেসরকারী সংস্থা । চীনের চিকিত্সা ও স্বাস্থ্য রক্ষা এবং শিক্ষা ও কল্যাণ উন্নয়নের লক্ষ্যে চীনের খৃষ্টানরা প্রতিষ্ঠা করেন । সমাজের বিভিন্ন মহলের ব্যক্তিরা এ সংস্থায় অংশ নিয়েছেন ।

    একজন গ্রামীন চিকিত্সক হিসেবে মা ইয়ু ফোং তুং থাং গ্রাম ও আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের ৩ হাজারেরও বেশি কৃষকের রোগ নিরাময় ও স্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন । যেহেতু গ্রামবাসীরা বিক্ষিপ্তভাবে বসবাস করেন এবং কোনো কোনো কৃষক ১৫ কিলোমিটার দূরে থাকেন , সেহেতু বুড়ো লোক , নারী ও শিশুদের সুবিধার্থে মা ইয়ু ফোং নিজের খরচে একটি মোটর-সাইকেল কিনেন । তিনি বলেছেন ,

    বৃষ্টি বা তুষার পড়লে রাস্তা খুব পিচ্ছিল হয় । বাইরে যাওয়ার সময় মাঝেমধ্যে হোঁচট খাই । আমার প্রথম মোটর-সাইকেলটি ছিল সেকেন্ড হ্যান্ড । ৪ থেকে ৫ বছর ব্যবহারের পর সেটি নষ্ট হয়ে যায় । পরে আমি একটি নতুন মোটর-সাইকেল কিনেছি । ৪ থাকে ৫ বছর ব্যবহারের পর সেটি আবার নষ্ট হয়ে গেছে । গত বছর আমি আরেকটি নতুন মোটর-সাইকেল কিনেছি ।

    তুং থাং গ্রাম ও আশেপাশের গ্রামগুলোর মধ্যে যে সংযোগকারী রাস্তা রয়েছে , সেগুলো সবই মাটি ও বালির রাস্তা । গত ৫ বছর মা ইয়ু ফোং এমন রাস্তায় তার মোটর-সাইকেল চালিয়ে ঘুরে ঘুরে গ্রামবাসীদের নানা রোগের নিরাময় করেছেন এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাঠিয়েছেন । গ্রীষ্মকাল হোক আর শীতকাল হোক , তিনি বিশ্রামের সময়ও পান না ।

    তুং থাং গ্রামের চিকিত্সক হিসেবে মা ইয়ু ফোং মাসে মাত্র ৩০০ ইউয়ান বেতন পান । এ বেতন দিয়ে তার পরিবার চলে না । সুতরাং গ্রামবাসীদের চিকিত্সা করার পাশাপাশি নিজের জমিতে কিছু চাষাবাদও করেন । গোড়ার দিকে তার স্ত্রী হোয়াং রুন সিউয়ের কাজে সন্তুষ্ট ছিলেন না । তিনি বলেছেন , শহরে কাজ করলে এখনকার চেয়ে অনেক ভালো । পরে তিনি ও তার বাবা আমাকে অনেক বুঝিয়ে বলেছেন । তাতে আমি আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়েছি ।

    তুং থাং গ্রামের কৃষক চাং সিউ চি দীর্ঘদিনের উত্কাশের প্রদাহে ভূগছিলেন । মা ইয়ু ফোংয়ের কথা উঠলে তিনি তার প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা ও আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন ,

    আমার এ অসুখ যে কোনো সময় হতে পারে । ফোন করলে বা চিঠি দিলে তিনি সংগে সংগে আমার কাছে আসেন । তার কোনো অহংকার নেই । এক বছর তিনি আমার কাছে তিন থেকে চারবার আসেন । অনেক সময় রাতের বেলায়ও তিনি আসেন । জেলা হাসপাতালে গেলে শুধু আসাযাওয়ার বাস ভাড়া দাঁড়াবে দশ বারো ইউয়ান । তিনি সত্যিই আমার সুচিকিত্সা দিয়েছেন ।