v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2007-04-12 21:28:17    
হোনান প্রদেশের রূপকথা(ছবি)

cri

 মধ্য চীনের হোনান প্রদেশ হচ্ছে চীনের প্রাচীন সভ্যতার উত্স স্থলের অন্যতম। সুদীর্ঘ ইতিহাসে হোনান প্রদেশে বিপুল পরিমাণ ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক পুরাকীর্তি রয়েছে। এর পাশাপাশি আরো রয়েছে সমৃদ্ধ পর্যটন সম্পদ।

 পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনের বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে হোনানে আবিষ্কৃত পুরার্কীর্তির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চীনা জাতির সংস্কৃতি তথা প্রাচ্যের সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের ইতিহাসে হোনানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বহু ঐতিহাসিক গ্রন্থ থেকে জানা গেছে, কমপক্ষে আট হাজার বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা এখানে মানবজাতির সভ্যতা সৃষ্টি করেন। খ্রীষ্টপূর্ব২১ শতাব্দীতে চীনের প্রথম রাজবংশ --- সিয়াং রাজবংশ এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পর খ্রিস্টাব্দ ১৩ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত চিন রাজবংশ পর্যন্ত মোট ৩৫০০ বছরে পর পর মোট বিশটিরও বেশি রাজবংশের দু'শরও বেশি সম্রাট এখানে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। এর ফলে হোনান প্রদেশে অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থান ও দৃশ্যবলী সংরক্ষিত রয়েছে।

 ১৯৮৩ সাল থেকে হোনান প্রদেশের লোইয়াং শহরে ফিয়োনী মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ মেলা ১৭ বার আয়োজিত হয়েছে। এ মেলার সুনাম ইতোমধ্যেই দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

শাওলিন মন্দির

 চাংচৌ শহরের উপকণ্ঠে শাওলিন নামে একটি মন্দির আছে। এ মন্দিরে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক শাওলিন উসু উত্সব অনুষ্ঠিত হয়। চীনের উসু অনুরাগীরাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকেই এখানে আসেন । তাঁরা উসুর মাধ্যমে বন্ধুত্ব তৈরি করেন এবং চীনের সংস্কৃতি অনুভব করেন। শাওলিন মন্দির হোনান প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্মুক্ত জানালায় পরিণত হয়েছে। উসু হলো শরীরের স্বাস্থ্য রক্ষা ও নিজের নিরাপত্তা রক্ষা করার এক ধরণের চর্চা। তাকে কুংফুও বলা হয়।

 তা ছাড়াও আরো রয়েছে, সিনইয়াং শহরের চা উত্সব, সানমেনসিয়াং এর আন্তর্জাতিক হোয়াংহো নদীর পর্যটন উত্সব , সিনচাং শহরের ইয়া সম্রাট ও হুয়াং সম্রাট আমলের সংস্কৃতি উত্সবসহ নানা ধরনের বিশেষ কর্মসূচী যা সহজেই দেশি-বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করে থাকে।

 হোনান প্রদেশের প্রাকৃতিক দৃশ্যও কম সুন্দর নয়। এর তিনটি বিশেষ দিক রয়েছে । যেমন, প্রথমতঃ এখানে রয়েছে বহু রহস্যময় পাহাড়। দ্বিতীয়তঃ স্বচ্ছ জলের বহমান সুন্দর নদনদী। তৃতীয়তঃ রঙিন ফুলের মেলা। এ দৃশ্য যেমনি মোহনীয় তেমনি তার মনকাড়া সৌরভ। অজান্তেই মনের ভেতর ভালোলাগার কথা জানিয়ে দিয়ে যায়।

 পরিদর্শনের পর আপনারা অবশ্যই হোনান প্রদেশের স্থানীয় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ খাবার খেতে ভুলবেন না। সেখানে অনেক বড় বড় নাম করা রেস্তোরা আছে। যেমন হোনান রেস্তারাঁ, ইউসুনলো রেস্তারাঁ, চাংচৌ ডাক রেস্তোরাঁসহ ছোট বড় অনেক সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রেস্তোরাঁ।

 সেখানে অন্য একটি সুস্বাদু ও সস্তা খাবার আছে। তা হচ্ছে নুডুলস । আমি আমার সহকর্মী সুয়েন ফেই ফেই এর কাছ থেকে বহুবার শুনেছি হোনান প্রদেশের নুডুলস রান্নার পদ্ধতি কিছুটা ভিন্নতর। খুব সুস্বাদু। নুডুলসের মধ্যে খাসির মাংস ও পিয়াজসহ নানা সাকশব্জি থাকে। বড় একটি বাটিতে গরম সুপসহ নুডুলস খাবারের টেবিলে পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গে তার সুগন্ধ লোকজনের খিদে যেন আরও বেশী বাড়িয়ে দেয়।