v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2007-02-28 21:45:28    
মহাপ্রাচীরের সুরক্ষাকারী--ব্রিটিশ ভিলিয়াম

cri
    ১৯৮৭ সালে উইলিয়াম লিন্সে ব্রিটেন থেকে পেইচিংয়ে এসেছেন । যদিও তখন চীন ইতোমধ্যেই বিশ্বের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে এবং পেইচিংয়ে অনেক বিদেশের দূতাবাস আছে , তবে তখন চীনে বিদেশিরা খুব কম ছিল ।

    বিশ বছর আগে প্রথমবার চীনে আসা লিন্ডসের কাছে তা যেন গতকালের মত । যখন বিশ বছর বয়সী লিন্ডসে একজন পর্যটক নয় । তিনি ছোটবেলার স্বপ্ন পোষণ করে চীনে এসেছেন । তাঁর ভাই তাঁকে বলেন , লিন্ডসে, তুমি তরুণ , বিয়েও কর নি । চীনের মহাপ্রাচীর তুমি ঘুরে বেড়াবে , তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে । হ্যাঁ , কেন চীনে যাবো না ? আসলে ১৯৮৪ সালে লিন্ডসে চীনের নেতা তেং সিয়াও পিংয়ের নাম শুনলেন । তাই ভিলিয়াম কেমেরা , ম্যাপ এবং আগেই ব্রিটেনে থাকার সময় কিছুটা ভাষা শিখে এসেছেন । তিনি পদব্রজে চীনের মহাপ্রাচীর ভ্রমণ শুরু করেছেন ।

    লিন্ডসে কখনই ভাবেন নি যে এ ভ্রমণ তাঁকে চীনে থাকার সুযোগ করে দেবে । তিনি একজন চীনা মেয়কে বিয়ে করেছেন এবং তাঁদের দু'টি সুন্দর ছেলে আছে । ২০০১ সালে তিনি "মহাপ্রাচীর আন্তর্জাতিক বন্ধু সমিতি" প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এ সমিতির প্রধান নির্বাচন হয়েছেন । তিনি মহাপ্রাচীরের সুরক্ষাকে সারা জীবনের লক্ষ হিসেবে মনে করেন ।

    লিন্ডসে কলেজে পড়ার সময় প্রথমবার মহাপ্রাচীরের কথা জেনেছেন । আমি ম্যাপে চীনকে দেখেছি , মহাপ্রাচীর উত্তর চীনে উপস্থিত। মহাপ্রাচীর এত সুন্দর । আশা করি একদিন আমি সাইকেল চালিয়ে পুরো মহাপ্রাচীর ভ্রমণ করতে পারবো । লিন্ডসে তাঁর স্কুলের প্রধানকে নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন । তবে তখন তিনি এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেন নি ।

    ১৯৮৭ সালে লিন্ডসে প্রথমবার মহাপ্রাচীর ভ্রমণ করলেন । এর জন্য তিনি মহাপ্রাচীর ও চীনকে আরো ভালোবেসে ফেলেন। তবে তিনি মহাপ্রাচীরে দেখেছেন কেউ কেউ আবর্জনা ফেলে , কেউ কেউ মহাপ্রাচীরের পাথরে ছবি আঁকে । লিন্ডসে বলেন , মহাপ্রাচীর শুধু বিশ্বের সবচেয়ে চমত্কার নির্মাণ নয় , তা মানবজাতির জন্য খুব মূল্যবান সম্পদও বটে । আমাদের উচিত এ সম্পদ সুরক্ষা করা এবং নিজের নাম ও কথা মহাপ্রাচীরের ৫ শো বছরের ইতিহাসের পাথরে না লেখা । তিনি এক প্রবন্ধে লিখেছেন , একটি কাহিনী হিসেবে মহাপ্রাচীরকে সুরক্ষা করা যথেষ্ট নয় , মহাপ্রাচীরের কাছাকাছি পরিবেশও রক্ষা করতে হবে ।

    লিন্ডসে বলেন , এতগুলো বছরে আমার বৃহত্তম সাফল্য হল মহাপ্রাচীরকে সুরক্ষা না করলে তা পৃথিবী থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে এ পরিস্থিতি লোকদেরকে উপলব্ধি করাতে সক্ষম হয়েছি । সরকার এ সমস্যার ওপর এখন আরো বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে । সরকার আমাকে খুব সমর্থন করে , তা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ । ২০০১ সালে লিন্ডসে হংকংয়ে "মহাপ্রাচীর আন্তর্জাতিক বন্ধু সমিতি রেজিস্ট্রি করেছেন । এ সমিটির মাধ্যমে তিনি মহাপ্রাচীরের সম্পর্ক আরো বেশি ঘনিষ্ঠ হয়েছেন । ২০০৪ সাল থেকে সমিতি নিয়মিত অর্থ সাহায্য পায় এবং বিভিন্ন প্রকল্পও সুষ্ঠুভাবে চালু হয়েছে । তাঁরা প্রত্যেক বছর তিন বা চার বার মহাপ্রাচীরে অবর্জনা সংগ্রহণ করে , স্থানীয় কৃষকদের ভাড়া করে এক মহাপ্রাচীর পরিবেশ সুরক্ষা কেন্দ্র গঠন করেছেন ।

    এখন মহাপ্রাচীর রক্ষার পরিস্থিতি খুব সুষ্ঠু ও নিয়মতাত্রিক হয়েছে । প্রায় অর্ধেক মহাপ্রাচীর অদৃশ্য হয়ে গেছে । লিন্ডসে বলেন , চলতি বছর হল তাঁর পদব্রজে মহাপ্রাচীর ভ্রমণকরার ২০তম বার্ষিকী । তিনি মহাপ্রাচীর সুরক্ষার একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করতে চান , যাতে শিশু ও যুবকরা এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারে । লিন্ডসে বলেন , শিশু ও যুবকরা দেশ ও বিশ্বের ভবিষ্যত । আমি আশা করি আরো বেশি তরুণ তরুণী পরিবেশ রক্ষাকারী হবে । তাঁর এ কথা বলার মধ্য দিয়ে হয়তো আমরা একসঙ্গে চিন্তা করলে মহাপ্রাচীরকে আরো বেশি উপলব্ধি করতে পারবো । আসল কথা হল : আমদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে মহাপ্রাচীরকে দেখতে হবে । মহাপ্রাচীর শুধু প্রাচীকালের একটি নির্মাণ নয় , তা এক পুরাকির্তী । মহাপ্রাচীর শুধু একটি পর্যটন স্থানও নয় , ভবিষ্যতের জন্য আমাদের তা ভালোভাবে সুরক্ষা করতে হবে ।