v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2007-02-24 19:05:15    
চীনের সঙ্কর ধানের জনক -ইউয়ান লুং পিং

cri
    ইউয়ান লুং পিংয়ের পক্ষে ২০০৬ সাল বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ একটি বর্ষ । তার পরিচালনায় চীনের উচ্চ ফলনশীল সঙ্কর ধানের চাষ সম্পর্কিত কর্মসূচী আরেকবার সফল হয়েছে । চীনে এই কর্মসূচী সার্বিকভাবে চালু হয়েছে । এই ধানের বীজ ব্যবহার করে প্রতি একর জমিতে ৪.৮ টন ধান উত্পাদন করা যায় । উচ্চ ফলনশীল ধানের ব্যাপক চাষ সম্পর্কিত কর্মসূচী চালু হওয়ার ফলে বিশ্বে বছরে আরো বেশি ৩ কোটি মানুষের খাওয়ার সমস্যা সমাধান করা যায় ।

    ইউয়ান লুং পিংয়ের উচ্চ ফলনশীল ধানকে জলপ্রপাত বলে অভিহিত করা হয় । নিজের ধান প্রসঙ্গে তিনি আবেগের সঙ্গে বলেছেন , সরকার তার ধান জনপ্রিয় করে তোলার উপর গুরুত্ব দিয়েছে । এতে তিনি খুব অনুপ্রাণিত হয়েছেন । ২০১০ সালের মধ্যে চীনে প্রতি একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল সঙ্কর ধানের উত্পাদন পরিমাণ ৫.৪ টনে দাঁড়াবে ।

    ১৯৯৭ সালে চীনে উচ্চ ফলনশীল সঙ্কর ধানের চাষ বিষয়ক কর্মসূচী চালু হয় । গত দশ বছর ধরে ইউয়ান লুং পিং ও তার সহকর্মীরা লক্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছেন । এই কর্মসূচী দুই পর্যায়ে বিভক্ত করা হয় । প্রথম পর্যায়ে প্রতি একর জমিতে ৪.৮ টন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে৫.৪ টন ধান উত্পন্ন করার কথা । ২০০৪ সালের শেষ নাগাদ এই দুই পর্যায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে । তা পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার এক বছর আগেই এই কর্মসূচী সম্পন্ন হয়েছে । ২০০৫ সালে মধ্য চীনের হুনান প্রদেশের হুই থুং জেলায় এই উচ্চ ফলনশীল সঙ্কর ধানের ব্যাপক চাষ শুরু হয়েছে এবং সাফল্য অর্জিত হয়েছে । ইউয়ান লুং পিং বলেছেন , চীনের উচ্চ ফলনশীর সঙ্কর ধানের চাষ জাপান ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণাগারের চেয়ে যথাক্রমে ১৬ ও ৭ বছর দেরীতে হয়েছে । কিন্তু বর্তমানে চীনের উচ্চ ফলনশীল সঙ্কর ধানের গবেষণা ও চাষ বিশ্বের প্রথম সারিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ।

    গত শতাব্দির ষাটের দশকে ইউয়ান লুং পিং তার সঙ্কর ধানের গবেষণা শুরু করেছেন । গত ৪০ বছর ধরে তিনি বরাবরই সঙ্কর ধানের গবেষণার দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষস্থান অধিকার করে আসছেন । এই গবেষণা কাজ চালানোর ফলে চীনে আরো বেশি ৬০ কোটি টন ধান উত্পাদন করা হয়েছে । এ পর্যন্ত চীনে সঙ্কর ধান চাষের জমি দেড় কোটি হেক্টরে দাঁড়িয়েছে । তা দেশের ধান চাষের মোট আয়তনের ৫১ শতাংশ ।

    চীনের উচ্চ ফলনশীল সঙ্কর ধানের চাষ বিষয়ক কর্মসূচী চালু হওয়ায় একটি বিশ্বব্যাপী কৃষি সংস্কার অভিযান সৃষ্টি হয়েছে । পৃথিবীতে সঙ্কর ধান চাষের কলাকৌশল যাতে জনপ্রিয় করা যায় , সেজন্য ইউয়ান লুং পিং ভারত , ভিয়েতনাম, মায়ানমার , ফিলিপাইন ও বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশ সফর করেছেন । বর্তমানে ভিয়েতনামে দেড় শো একর জমিতে সঙ্কর ধান চাষ করা হয় । এশিয়ায় থাইল্যান্ডের পর ভিয়েতনাম দ্বিতীয় বৃহত্ চাল রফতানিকারক দেশ। একজন মার্কিন কৃষি বিজ্ঞানী বলেছেন , ইউয়ান লুং পিংয়ের গবেষণা ও অনুশীলনের সাফল্যে বিশ্বের বহু লোক অনাহারের কবল থেকে রেহাই পেয়েছেন । তিনি বিশ্ববাসীদের অন্ন-বস্ত্র সমস্যা সমাধানে অবদান রেখেছেন ।

    কৃষি ক্ষেত্রে বিশাল অবদানের জন্য ইউয়ান লুং পিং নোবেল পুরস্কার ছাড়া প্রায় যাবতীয় আন্তর্জাতিক পুরস্কার জয় করেছেন । ধানের আরো বেশি উত্পাদনের জন্য ইউয়ান লুং পিং নতুন একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন । এই পরিকল্পনা অনুযায়ী , ভবিষ্যতে তার উন্নত মানের বীজ কাজে লাগিয়ে ধানের গাছ আরো উঁচু হবে এবং চাল চীনা বাদামের চেয়ে আরো বড় হবে ।

    তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্য তিনি এখনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় তত্পর আছেন । যখন সংবাদদাতা তার সাক্ষাত্কার নিতে চেয়েছেন , তখন তিনি উত্তর-পূর্ব চীনে চীনের উচ্চ ফলনশীল সঙ্কর ধানের চাষ বিষয়ক কর্মসূচী প্রবর্তনের দশম বার্ষিকী উপলক্ষে এক সেমিনারে অংশ নিচ্ছিলেন । ইউয়ান লুং পিংয়ের একজন সহকারী সংবাদদাতাকে বলেছেন , তার এই বিশাল কর্মসূচী সম্পন্ন করার জন্য ইউয়ান লুং পিংয়ের একাগ্রচিত্তে গবেষণা ও অনুশীলনের কাজে নিয়োজিত থাকা উচিত । সুতরাং এই সম্পর্কিত কর্মসূচীর বাইরের কার্যক্রম যত কম তত ভাল ।

    প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের উচ্চ ফলনশীল সঙ্কর ধানের চাষ বিষয়ক কর্মসূচী প্রথানুগ উপায়ে সম্পন্ন করা হয়েছে । কিন্তু তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চালানোর জন্য আণবিক প্রযুক্তি কাজে লাগানো হবে ।

    ইউয়ান লুং পিং সংবাদদাতাকে বলেছেন , বর্তমানে উচ্চ ফলনশীল সঙ্কর ধানের গবেষণা কাজ প্রথানুগ উপায়ে বীজ লালন পালন আর আধুনিক উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রযুক্তি সংযোগের পর্যায়ে পদার্পণ করেছে । তিনি এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে , জীবন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন ।

    এখন চীনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষকদের শাক-সবজির চাষ সম্পর্কে আপনাদের কিছু বলছি ।

    চীনের ঐতিহ্যিক বসন্ত উত্সব ঘনিয়ে আসছে । এই উপলক্ষে পূর্ব চীনের শাংতুং প্রদেশের স্যুকুয়াং শহরের কৃষকরা অন্যান্য অঞ্চলের লোকদের মতো কেনা-কাটায় ব্যস্ত আছেন । এর পাশাপাশি তারা কৃষি বিশেষজ্ঞদের নববর্ষ উপহার- বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃষি উত্পাদন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক অভিজ্ঞতা গ্রহণের অপেক্ষায়ও রয়েছেন ।

    সম্প্রতি থুংশি গ্রামে শীতকালে স্বচ্ছ প্ল্যাস্টিকে আবৃত জমিতে শাক সবজির রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু হয়েছে । শহরের শাক সবজি বিভাগের উর্ধ্বতন কৃষি প্রকৌশলী লিউ থিয়ান ইং কৃষকদের শীতকালে স্বচ্ছ প্ল্যাস্টিকে আবৃত জমিতে শাক সবজির রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা রকম কলাকৌশল শিখিয়েছেন । প্রশিক্ষণ কোর্সে কৃষকরা প্ল্যাস্টিকে আবৃত জমিতে শাক সবজি রক্ষণাবেক্ষনের বিবিধ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন । কৃষি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরিসেবা দল হচ্ছে শুধু এই শহরের কৃষকদের সেবার জন্য গঠিত ৫টি দলের অন্যতম । তা ছাড়া স্থানীয় সরকারী প্রতিষ্ঠান আর কৃষি বিশেষজ্ঞদের উদ্যোগে কৃষকদের কাছে কৃষক , গ্রামাঞ্চল ও কৃষি বিষয়ক নীতি আর আইনবিধি নিয়ে প্রচার করা হয় এবং নাচ গান ও স্থানীয় অপেরাও পরিবেশন করা হয় ।

    কৃষকদের পরিসেবা বিষয়ক কর্মসূচী চালু হওয়ার পর কৃষি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরিসেবা দল কৃষকদের জন্য মোট ৭ শোরও বেশি শিক্ষা কার্যক্রম আয়োজন করেছে এবং ৬০ হাজারেরও বেশি কৃষকের জন্য স্বচ্ছ প্ল্যাস্টিকে আবৃত জমিতে শাক-সবজি চাষের সমস্যা নিরসন করেছে ।