v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2007-02-20 17:52:03    
বিশ্বজুড়ে বসন্ত উত্সব(৩)

cri
    ম্যাডাম ওয়াং চিং চিং যে উত্তর অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেছেন , তা হলো কিওটো শহরের উত্তর অঞ্চলের জাপান-চীন মৈত্রী সমিতি। ১৯৯০ সাল থেকে কিওটো উত্তর অঞ্চলের জাপান - চীন মৈত্রী সমিতি প্রতি বছর বসন্ত উত্সবের সময় চীনের ঐতিহ্যিক খাবার চাও চি তৈরী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে । এ আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সমিতির প্রধান মাতসুমোতো কাকাশি বলেছেন , আমি জানি , চীনাদের চান্দ্র বর্ষের শেষ রাতে চিয়াও চি খাওয়ার অভ্যাস সেই প্রাচীনের । তাদের এ অভ্যাসের অর্থ হলো নতুন বছরে সুখশান্তি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করা । জাপানের কিওটো শহরের উত্তর অঞ্চলে থাকা প্রবাসী চীনা ও বিদেশী চীনারা যাতে দেশের কথা মনে পড়ে দুঃখবোধ না করেন এবং সানন্দে চীনের ঐতিহ্যিক বসন্ত উত্সব কাটাতে পারেন , সেই জন্য আমরা প্রতি বছরই চীনা চাও চি তৈরীর অনুষ্ঠানের আয়োজন করি ।

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের এমপায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের আলোক-সজ্জা , লন্ডনের ট্রাফাগাস চত্বরে দশ হাজার লোকের মহাসম্মীলন , চীনের বসন্ত উত্সব উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের অভিনন্দন বাণী ও গণ মাধ্যমগুলোর ব্যাপক প্রচার থেকে প্রমানিত হয়েছে যে , চীনের ঐতিহ্যিক বসন্ত উত্সব ক্রমেই বিশ্বমুখী হচ্ছে । চীনের বিখ্যাত শিক্ষাবিদ , পেইচিং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর চান ই উ বসন্ত উত্সবের বিশ্বমুখী হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করে বলেছেন , এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে চীনের অথর্নীতির দ্রুত উন্নয়ন ও চীনের সামাজিক ক্ষেত্রের দ্রুত আধুনিকায়ন । বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা চীনের অগ্রগতি ও সংস্কৃতি জানার ব্যাপারে এখন দারুন আগ্রহী । তাই চীনের বসন্ত উত্সব চীনের উন্নয়ন ও সংস্কৃতিকে জানার একটি খোলা জানালা হয়ে দাঁড়িয়েছে । বিশ্বের অনেক দেশেই প্রবাসী-চীনা ও বিদেশী-চীনারা থাকেন । তারা বসন্ত উত্সবসহ চীনের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রচারে বিরাট ভূমিকা নিয়েছেন । প্রতি বছর তারা চীনের ঐতিহ্যিক উত্সব মহাসমারোহে উদযাপন করেন ।

    লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আফ্রোএশীয় ইন্সটিটিউটের প্রফেসর গ্রেগ থমাস প্রফেসর চান ই উর অভিমতকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন , সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অথর্নীতির দ্রুত প্রসার হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে চীনের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে । বতর্মানে বৃটেনের অনেক নাগরিক চীনের ইতিহাস ও সংস্কৃতি জানতে আগ্রহী এবং অনেকেই চীনের চান্দ্র বর্ষের নববর্ষ উত্সবকে গ্রহণ করেছেন যেন নিজের মত করেই । তাই চীনের বসন্ত উত্সব ইতোমধ্যে লন্ডনবাসীদের কাছেও একটি আনন্দময় উত্সবে পরিণত হয়েছে ।

    প্রফেসর চান ই উ মনে করেন , চীনের বসন্ত উত্সব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো চীনের বসন্ত উত্সবে মানুষে-মানুষে ভালোবাসা ও সুখশান্তিতে বসবাসের আকাঙ্খার কথা প্রতিফলিত হয়েছে অবলীলায়। গোটা পৃথিবীর নাগরিক কমিউনিটি চীনের ঐতিহ্যিক সংস্কৃতি গ্রহণ করতে পারে । বসন্ত উত্সব পারিবারিক মিলনের প্রতীক । পরিবারের সদস্যরা এই উত্সবে পরিবারের পরস্পরের উষ্ণতা মেশানো ভালোবাসায় শিক্ত হন । তাই পরিবার পরিজনের সঙ্গে বসন্ত উত্সবের ছুটি কাটানো চীনাদের কাছে এক স্বপ্নময় প্রত্যাশা । সমাজই পরিবার নিয়ে গঠিত । পরিবারে সুখশান্তি থাকলে সমাজ হয়ে ওঠে সামঞ্জস্যপূর্ণ । তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সমাজের কাছে চীনের এ রীতি সহজেই আত্মস্থ হয়ে উঠছে ।

    আজ ২০ ফেব্রুয়ারী , চীনের নতুন চান্দ্র বর্ষের তৃতীয় দিন । চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ উত্সব উদযাপন উপলক্ষে নানা ধরনের কমর্সূচী নিয়েছে । এ সব উদযাপনী অনুষ্ঠান হলো চীনের বসন্ত উত্সবের রীতিনীতি প্রদশর্নের একটি সম্মীলন এবং বিশ্বের প্রবাসী চীনা , বিদেশী চীনা ও বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের দুঃখ আর বেদনা ভুলে নিজেকে উজার করে দেয়ার এক মহাসম্মীলন ।

    এমনি দিনে আমরা দেশবিদেশের চীনা ও বিদেশী বন্ধুদের অকুন্ঠচিত্তে বলতে চাই , শুভ হোক বসন্ত উত্সব । শুভ হোক সবার । আসুন , আমরা এক সঙ্গে বসন্তকালের আগমনকে স্বাগত জানাই কুশেল শুভেচ্ছায়।