v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2007-01-30 19:52:04    
সংখ্যালঘু জাতির বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে কাজাখ জাতি স্বচ্ছল হয়েছে

cri

    ঘোড়ার সঙ্গে কাজাখ জাতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে । একটি পশু পালক জাতি হিসেবে কাজাখ জাতি ঘোড়দৌড়ে পারদর্শী । তারা ঘোড়ার মাংস ও দুধ খেতে এবং ঘোড়ার চামড়া দিয়ে তৈরী নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্য ব্যবহার করতে পছন্দ করেন । বর্তমানে উত্তর পশ্চিম সিনচিয়াংয়ের ই লি কাজাখ স্বায়ত্তশাসিত বিভাগের কুং লিউ জেলায় বসবাসকারী কাজাখ জাতির পশুপালকরা ঘোড়ার সঙ্গে জড়িত সংখ্যালঘু জাতির বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পর্যটন কার্যকম উন্নয়ন করে স্বচ্ছল হয়েছেন । কিছু দিন আগে সংবাদদাতা কুং লিউ জেলার কুর্দেনিন পার্বত্য এলাকায় পশু পালকদের সাক্ষাত্কার নিয়েছেন । তিনি দেখলেন পশুর চামড়া দিয়ে তৈরী একটির পর একটি তাবু পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত হয় । বহু তেজিয়ান ঘোড়া তাবুর সামনে দাঁড়িয়ে আছে । জাতীয় পোষাক পরা মেয়েরা তাবুতে গার্হস্থ্য কাজে ব্যস্ত আছেন ।

    যখন সংবাদদাতা কাজাখ জাতির পশু পালক সাহাতের তাবুতে প্রবেশ করলেন , তখন স্বাগতিকের একজন বন্ধু , কাজাখ জাতির বৃদ্ধ উয়ালবাই কাজাখ জাতির লোক সংগীত পরিবেশন করছিলেন । তিনি আকেন্ নামে কাজাখ জাতির এক প্রকার ঐতিহ্যিক বাদ্যযন্ত্র দিয়ে সংবাদদাতাকে শুভেচ্ছা জানানোর একটি গান গাইছেন ।

    তাবুর দেয়াল ও মাটি রঙবেরঙের পশমী কম্বলে সাজানো হয়েছে । দেখতে সুন্দর ও আরামদায়ক । তাবুর গৃহকর্তা সাহাত্ বলেছেন , পর্যটকদের থাকার জন্য এই তাবু গড়ে তোলা হয়েছে । পর্যটক না থাকলে তা পরিবার পরিজনের থাকার জন্য ব্যবহার করা হয় । তাবুর গৃহসজ্জা ও সাজানোর কাজে এই পরিবারের স্বচ্ছল জীবন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । তিনি সংবাদদাতাকে বলেছেন , পর্যটকদের থাকার জন্য তার ঘরোয়া হোটেল ৫ বছর আগে চালু হয়েছে ।

   ২০০১ সালে তার ঘরোয়া হোটেল স্থাপনের কর্মসূচী শুরু হয় । ১৯৪৯ সালে নয়া চীন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে পশু পালকরা তাবুতে থাকতো । মুক্তির পর তাদের পুনর্বাসন ব্যবস্থা করার জন্য পাহাড়ের পাদদেশে বাড়িঘর নির্মাণ করা হয় । আবাসিক এলাকায় তারা চাষাবাদ করেন । গ্রীষ্মকালে তাদের মধ্যে কেউ কেউ পাহাড়ে পশু পালন করেন বা পর্যটনের কাজ করেন ।

    কুংলিউ জেলার পূর্বাংশে অবস্থিত কুর্দেনিন পাবর্ত্য এলাকা গ্রীষ্মকালে পশু পালনের জন্য একটি বিশাল তৃণভূমি । এই এলাকার দৃশ্য মনোরম এবং পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য উপযোগী । নতুন শতাব্দির শুরুতে স্থানীয় সরকার পশু পালন শিল্প ও পর্যটন শিল্পকে স্থানীয় অর্থনীতি বিকাশ বিষয়ক কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে । থানার পার্টি-কমিটির সম্পাদক নাসিহাত সংবাদদাতাকে বলেছেন ,

    পশু পালন শিল্প ও পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভর করে থানার অর্থনীতি বিকাশ লাভ করার ফলে বিভিন্ন জাতির আয় বেশ বেড়েছে ।

    সাহাত্ এমন একজন পশু পালক , যিনি সবচাইতে আগেই পর্যটন শিল্প বিকাশের কর্মসূচীতে যোগ দেন । তাদের সফলতা পর্যটন ব্যবসা বিকাশ বিষয়ক কর্মসূচীতে যোগদানের জন্য আরো বেশি কৃষক ও পশু পালকদের উদ্বুদ্ধ করে । তার প্রভাবে সাহাতের কয়েকজন আত্মীয় স্বজনও পর্যটন ব্যবসা চালু করেছেন । সম্পাদক নাসিহাত্ বলেছেন , দশ বারো বছর আগের তুলনায় থানার জনগণের আয় কয়েক গুণ বেড়েছে ।

    পর্যটন কাজ চালু করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে সাহাত্ বলেছেন , প্রথমে তিনি পর্যটন ব্যবসা সম্পর্কে একদম জানতেন না । অন্যান্য অঞ্চলের লোকেরা পর্যটন ব্যবসা চালু করে যে আয় করেছেন , তাতে তিনি খুব অনুপ্রাণিত হয়েছেন । তাদের সাফল্যের উত্সাহে সরকারের সমর্থন ও সাহায্যে তিনি ঘরোয়া হোটেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন । কয়েক মাস পর তারা লক্ষ্য করেন যে , পশু পালনের চেয়ে পর্যটন ব্যবসায় বেশি আয় হচ্ছে । সাহাত্ বলেছেন ,

    আগে তারা দু' এক শো ভেড়া পালন করতেন । তখন বার্ষিক আয় ১০ হাজার ইউয়ানেরও কম ছিল । কিন্তু পর্যটন ব্যবসা চালু করার পরবর্তী শুধু চার পাঁচ মাসের মধ্যে তারা ২০ হাজার ইউয়ানেরও বেশি আয় করেছেন । পর্যটন ব্যবসা চালু করার মাধ্যমে বাইরের সঙ্গে তাদের বিনিময় ও অভিজ্ঞতা বেড়েছে এবং ধারণাও ধীরে ধীরে উদার হয়েছে ।

    পর্যটন ব্যবসা থেকে বেশি লাভ পাওয়ার পর তিনি এই ব্যবসা চালু করার কর্মসূচীতে আরো তত্পর হয়েছেন । পর্যটন ব্যবসা আরো ভালভাবে চালু করার জন্য তিনি তাবুতে আরো বেশি কাজাখ জাতির বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন । যাতে পর্যটকরা কাজাখ জাতির বেশী রেওয়াজ উপভোগ করতে পারেন । তাবুর গৃহসজ্জা কাজাখ জাতির অনন্য সূচীকর্মে পরিপূর্ণ ।

    তাবুর দেয়াল ও মেঝে কাজাখ জাতির বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কম্বল টাঙ্গানো হয়েছে । মেঝের কার্পেটে কয়েকটি সূচীকর্মে রেশমী চর্দি রয়েছে । পরিষ্কার লেপ পরিপাটিভাবে তাবুর ভেতরে স্তূপীকৃত রয়েছে । কাজাখ জাতির কয়েকটি জাতীয় পোষাক দরজার ডানে ঝুলানো আছে । অতিথিদের ছবি তোলার জন্য বন্দোবস্ত রয়েছে । সাহাত্ সংবাদদাতাকে বলেছেন , এই তাবু নির্মাণ ও সাজানোর জন্য প্রায় ১০ হাজার ইউয়ান খরচ করা হয়েছে । তিনি বলেছেন , এই ধরনের তাবু তার বাসায় আরো দুটো আছে । পর্যটন ব্যবসার মাধ্যমে এই দুটো তাবু কেনা হয়েছে ।

    পর্যটন ব্যবসা সম্প্রসারিত করার জন্য সাহাত্ বেশি বিবেচনা করেছেন । অতিথিদের আতিথেয়তার ক্ষেত্রে কাজাখ জাতির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পাওয়ার পাশাপাশি তিনি তাদের খাওয়া ও থাকার পরিসেবা আরো উন্নত করার চেষ্টা করেছেন । তিন বছর রান্না- বান্না শেখার জন্য তিনি নাতীকে ই লি শহরে পাঠিয়েছেন । তিনি বলেছেন , পর্যটন ব্যবসা চালু করা এবং অতিথিদের সন্তুষ্ট করে তোলার জন্য বাবুর্চীর উত্কৃষ্ট রান্না বান্নার কলাকৌশল প্রয়োজন । কারণ অতিথিরা কাজাখ জাতির বৈচিত্র্যময় খাবার আস্বাদন করার সঙ্গে সঙ্গে নিজ নিজ জন্মস্থানের রেওয়াজ বিশিষ্ট খাবারও খেতে পছন্দ করেন । সুতরাং তাদের চাহিদা মেটানো না হলে পর্যটন ব্যবসার ক্ষতিও কিছুটা হতে পারে ।

    সাহাত্ ও তার পরিবার পরিজন স্বচ্ছল হয়ে উঠেছেন । ব্যবসার আরো সম্প্রসারণের জন্য তারা দুটো মোটর সাইকেল কিনেছেন এবং বাসার প্রত্যেক জন সদস্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন ।