v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2006-12-27 15:27:43    
বিদেশির চোখের সি চিয়া চুয়াং শহর

cri
    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের রেলপথের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে চীনের হোপেই প্রদেশের রাজধানী সি চিয়া চুয়াং শহরও দ্রুত উন্নত হয়েছে । এর পাশাপাশি এ শহরের উন্নয়ন আরো বেশি বিদেশি বন্ধুদের আকর্ষণ করেছে । তারা এ শহরে গিয়ে লেখাপড়া বা চাকরি করছেন । সি চিয়া চুয়াং শহরে এ সব বিদেশির জীবন কেমন ? এ শহরকে তাদের কেমন লাগে ? সম্প্রতি আমাদের সংবাদদাতা সি চিয়া চুয়াংয়ে কয়েকজন বিদেশি শিক্ষকের সাক্ষত্কার নিয়েছেন ।

    ২৮ বয়সী মাইক লিভিংস্টন দু'বছর আগে কানাডা থেকে সি চিয়া চুয়াংয়ে এসেছেন । তিনি এখন হোপেই প্রদেশের তথ্য প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক । মাত্র দু'বছর সময়ে তিনি এ শহরের বিরাট পরিবর্তন অনুভব করেছেন । তিনি বলেছেন :

    আমি ২০০৪ সালে সি চিয়া চুয়াংয়ে এসেছি । সি চিয়া চুয়াং শহর দিন দিন সবুজ হচ্ছে , রাস্তা প্রশস্ত হচ্ছে । অনেক বড় বড় শপিং কেন্দ্রও নির্মিত হয়েছে । সি চিয়া চুয়াং শহরে আমার প্রথম আকর্ষণ হল এ শহরের উন্নয়ন অতি দ্রুত । এ শহর ক্রমেই বড় শহরে পরিণত হচ্ছে ।

    সি চিয়া চুয়াং শহর হোপেই প্রদেশের মধ্য-দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত । এটি হল চীনের রেলপথ ও প্রধান প্রধান সড়কের সংযোগস্থল। তার গুরুত্বপূর্ণ ভূ-অবস্থা আছে । যদিও মাইক চীনের বিভিন্ন বড় বড় শহরে গিয়েছেন । তবে অবশেষে তিনি সি চিয়া চুয়াং শহরকে বাছাই করেছেন । এ শহরের কি এক বিশেষ আকর্ষণ আছে ?মাইক বলেছেন :

    আমি চীনের অনেক শহরে গিয়েছি । যেমন পেইচিং , সি আন , সাংহাই , কুয়াং চৌ আর সেনচেন । প্রত্যেক শহরের বৈশিষ্ট্য আলাদা । সি চিয়াং চুয়াংয়ের পেইচিং আর সিআনের মত সুদীর্ঘ ইতিহাস নেই । সি চিয়াং চুয়াং এক নতুন উন্নত শহর । আগে এ শহর এক ছোট গ্রাম ছিল । এখানে আমি চীনের উন্নয়নের ইতিহাস অনুভব করতে পারি ।

    চাদের ওসো অর্থনীতি বিষয়ক একজন মাস্টার । তিনি সি চিয়া চুয়াংয়ের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর শিক্ষাদান করেছেন । তার পরিবারও সি চিয়া চুয়াংয়ে থাকেন । এ শহরের আরামদায়ক জীবন ও বন্ধুত্বপূর্ণ লোকজনের কারণে তিনি এ শহরকে ভালোবাসেন । তিনি বলেছেন :

    কেন আমি সি চিয়া চুয়াংকে বাছাই করি ? কারণ এখানকার আবহাওয়া ভালো । লোকজনও খুব বন্ধুত্বপূর্ণ এবং উষ্ণহৃদয় । এখানে থেকে পেইচিংয়ে যেতেও খুব সুবিধাজনক । তবে পেইচিং এক বড় শহর । সি চিয়া চুয়াং একটু ছোট । শহর ছোট হলে সুবিধা হবে । অনেক সমস্যা এখানে আরো সহজেই সমাধান করা যায় । তাই আমি ঠিক করেছি , এখানে থাকবো ।

    সি চিয়া চুয়াংয়ে আসার প্রথম দিন ওসোর মনে গভীর ছাপ ফেলেছে । তখন তিনি এ শহর সম্পর্কে কিছুই জানতেন না । স্থানীয় লোকজন তাকে অনেক সাহায্য করেছে। তিনি বলেছেন :

    সি চিয়া চুয়াংয়ে আসার প্রথম দিন আমি রেল স্টেশনে টেক্সি করতে পারি নি । এক জন উষ্ণহৃদয় পুলিশ এসে আমার জন্য এক টেক্সি ভাড়া করে দেন । তখন আমি তাকে সাহায্য করার অনুরোধ করিনি । তবে তিনি আমার সমস্যা দেখে আমাকে সাহায্য করেছেন । এখানকার মানুষ খুব বন্ধুত্বভাবপন্ন ।

    মাইক ও ওসো ছাড়া আরো অনেক বিদেশি বন্ধু এখানে অনেক বছর ধরে থাকেন । তাদের জন্য সি চিয়া চুয়াং যেন তাদের দ্বিতীয় মাতৃভূমি । বৃটিশ শিক্ষক ভিলমা সুলিভান সি চিয়া চুয়াংয় ১১ বছর ধরে আছেন । তিনি বলেছেন :

    যখন সি চিয়া চুয়াংয়ে এসেছি তখন এ শহর এত উন্নত ছিল না । পার্ক , গল্ফ ক্লাব ছিল না , কাছাকাছি সব কৃষি জমি । ১১ বছরে আমি সি চিয়া চুয়াংয়ের উন্নয়ন সব দেখেছি ।

    চলতি বছরে ভিলমা ২০০৬ সালের চীনের বিদেশি বিশেষজ্ঞের জন্য প্রদত্ত "মৈত্রী" পুরস্কার পেয়েছেন । প্রত্যেক বছরে চীনের বিদেশি বিশেষজ্ঞ ব্যুরো ৩ লাখ বিদেশি বিশেষজ্ঞের মধ্যে এ পুরস্কার প্রদান করে । এ পুরস্কার পেয়ে ভিলমা খুব খুশি । তিনি বলেছেন , চীন আমাকে সবচেয়ে বড় পুরস্কার দিয়েছে । আমি এর জন্য ধন্যবাদ জানাই । সঙ্গে সঙ্গে আমার সব বন্ধুদেরকেও ধন্যবাদ জানাই ।