এক শতাব্দী ধরে চীনের চিনান বিশ্ববিদ্যালয় দুই লাখ ছাত্রছাত্রী প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের মধ্যে হংকং ,ম্যাকাও এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ছাত্রদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বতর্মানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরা বেশীর ভাগই বিশ্বের ৬৫টি দেশ ও অঞ্চল থেকে এসেছেন। চিনান বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের ৭০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংস্কৃতিক সংস্থার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করে বিদ্যাগত বিনিময় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। স্নাতক ডিগ্রী লাভকারী ছাত্রছাত্রীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
প্রবাসী চীনাদের পড়াশুনার সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চিনান বিশ্ববিদ্যালয় বহু বছর ধরেই ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির নীতি ও ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাদানের ব্যাপারে মূলভূভাগের ছাত্র ও প্রবাসী ছাত্রদের ভিন্ন অবস্থা অনুসারে পৃথক উপায় গ্রহণ করে থাকে।
১৯০৬ সালে চিনান বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময়ে প্রবাসী চীনাদের শিক্ষা দেয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঠিক করা হয়। ১৯৮৯ সালে চিনান বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের পাঁচটি মহাদেশে ভর্তির কেন্দ্র গড়ে তুলেছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত বিষয় সম্পর্কে পরামর্শের সুবিধা দেয়া যায়। ১৯৯৩ সালে চিনান বিশ্ববিদ্যালয় চীনা পর্যটন সংস্থা ও হংকংয়ের চীনা পর্যটন সংস্থার সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থার স্বীকৃত চীনের প্রথম পর্যটন ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছে। ১৯৭৮ সালে বহুমুখী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চিনান বিশ্ববিদ্যালয় সর্বপ্রথমে চিকিত্সা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলে। ১৯৯৬ সাল থেকে চিনান বিশ্ববিদ্যালয় বিনাপয়সায় সাতটি প্রদেশ ও নগরের আওতাধীন হাস্পাতালকে নিজের অধীনে অন্তর্ভূক্ত করেছে। ফলে চিকিত্সা বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের অনুশীলনের হাস্পাতাল ও অর্থের অভাবের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। গত দু'বছরে চিনান বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশী বা হংকং,ম্যা কাও ও তাইওয়ানের ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির সংখ্যা চীনের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ভর্তির মোট সংখ্যার চেয়ে বেশি।
শিক্ষা পদ্ধতির আন্তর্জাতিকীকরণের চাহিদা মেটানোর জন্য চিনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য, হিসাব রক্ষণ , প্রশাসনিক পরিচালনা, আর্থিক বিদ্যা,খাদ্যবস্তুর গুণগতমান ও নিরাপত্তা,চিকিত্সাবিদ্যা এ সাতটি বিভাগে ইংরেজী দিয়ে পড়ানো হয়, যাতে আন্তর্জাতিক সুযোগ্য ব্যক্তিদের গড়ে তোলা হয়।
আজকের অনুষ্ঠানে আমি চিনান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে এমন একজন বিদেশীর গল্প আপনাদের কাছে বলবো।
২০০২ সালে চীনস্থ মঙ্গোলিয়া দূতাবাসের সুপারিশে বায়েলেম চিনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ নীতি বিভাগে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি চিনান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পরিচালনা বিভাগের একজন স্নাতকোত্তর ছাত্র। তিনি বলেছেন, একজন বিদেশী ছাত্র হিসেবে পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি নিজের চোখে চিনান বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন দেখেছেন।
পাঁচ বছরের আগে তার বয়স শুধু বিশ বছর ছিল। তখন তিনি একা চীনের কুয়াংচৌ শহরে গিয়ে অনেক অসুবিধা অনুভব করেছেন। তবে চিনান বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অনেক বিদেশী বন্ধুকে পেয়েছেন। তাই তিনি খুবই খুশি।
পাঁচ বছর ধরে চীনে পড়াশুনার প্রক্রিয়ায় মায়েলেম চিনান বিশ্ববিদ্যালয়কে পছন্দ করেছেন, শুধু তাই নয়, তিনি কুয়াংচৌ শহরকেও আরো বেশি করে পছন্দ করেছেন। যদিও তাঁর পরিবারের অবস্থা খুবই ভালো, তবুও তিনি স্নাতক হবার পর কুয়াংচৌতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি চীন ও মঙ্গোলিয়ার বাণিজ্যিক উন্নয়নের জন্য নিজের অবদান রাখতে ইচ্ছুক। আমি কুয়াংচৌতে কাজ করার মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার কিছু অভিজ্ঞতা শিখতে পারবো।
চিনান বিশ্ববিদ্যালয় প্রবাসী চীনাদের পড়াশুনার জন্য অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে অনেক ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। যে কোন দেশের ভালো ছাত্রছাত্রীরা এখানে বৃত্তি পেতে পারেন।
|