৮ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ ঘোষণা করেছেন যে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ড পদ ত্যাগ করেছেন। তিনি রবার্ট গেটসকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে নিযুক্ত করেছেন। গেটস ছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা তথ্য ব্যুরোর মহাপরিচালক। কিন্তু রামসফেল্ড নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষিক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তারদায়িত্ব পালন করতে রাজী হয়েছেন।
১৯৩২ সালের ৯ জুলাই রামসফেল্ড শিকাগোর একটি রিয়াল ইস্টেট ব্যবসায়ীর বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৫৪ সালে তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি পেয়েছেন। তার পর তিনি মার্কিন নৌবাহিনীতে যোগদান করেন।
১৯৬৩ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত, তিনি কংগ্রেসের লোকসভার সদস্য ছিলেন। ১৯৬৯ সালে প্রেসিডেন্ট নিক্সন তাকে প্রেসিডেন্টের সহকারী ও 'অর্থনীতি সুযোগ অফিস'-এর পরিচালক পদে নিযুক্ত করেছেন। ১৯৭০ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা, ন্যাটোয় মার্কিন প্রতিনিধি ও হোয়াইট হাউসের কার্যালয়ের পরিচালকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৭৫ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৭৭ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত, তিনি জেরাল আর ফোর্ড সরকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। তখন তিনি মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে তরুণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। তারপর, তিনি জি. ডি শার্লে চিকিত্সা ও জেনারল ইনস্ট্রুমেন্ট এই দুটো কোম্পানির প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
২০০১ সালের জানুয়ারী মাসে বুশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর, রামসফেল্ড বুশ মন্ত্রীসভায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিযুক্ত হন। দু'বার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার ফলে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি। ২০০৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব পালন করতে থাকেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হবার পর, তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং আফগানিস্তান ও ইরাকে দু'টো যুদ্ধের পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেছেন। সাধারণ মনে করে তিনি বুশ সরকারের শক্তিশালী ব্যক্তিতে পরিণত হন।
গত দু বছর ধরে, ইরাক যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ বুশ সরকারের ইরাক নীতির প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করছে। সুতরাং রামসফেল্ড পদ ত্যাগের চাপের সম্মুখীন হন। তাছাড়া, বিভিন্ন মহল তার কার্যমেয়াদে সংঘটিত কারা বন্দীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ব্যাপারে তার তীব্র সমালোচনা করেছে।
|