v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2006-10-20 15:44:24    
তাজিকিস্তান প্রজাতন্ত্র

cri

     তাজিকিস্তান প্রজাতন্ত্র মধ্য-এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। তা দক্ষিণে আফগানিস্তানের সঙ্গেঁ সংলগ্ন, পশ্চিমে উজবেকিস্তানের সঙ্গে সংলগ্ন, উত্তরে কিরগিজস্তানের সঙ্গে সংলগ্ন, পূর্বে চীনের সিনচিয়াংয়ের সঙ্গে সংলগ্ন। তাজিকিস্তানে বহু পাহাড় আছে। পাহাড়ী এলাকার আয়তন রাষ্ট্রীয় আয়তনের ৯৩ শতাংশ। তাই তাজিকিস্তানের আরেকটি নাম "পাহাড়ী দেশ"।

    তাজিকিস্তানের আয়তন ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০ শ বর্গকিলোমিটার। লোকসংখ্যা হচ্ছে ৬৬.৪ লাখ। তাজিকিস্তানের প্রধান জাতির মধ্যে রয়েছে, তাজিক জাতি, উজবেক জাতি ও রাশিয়ান জাতি। তাজিকিস্তানের জাতীয় ভাষা হচ্ছে তাজিক। রুশ ভাষা হচ্ছে প্রচলিত ভাষা। তাজিকিস্তানের নাগরিকদের মধ্যে অধিকাংশই ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। তারা অধিকাংশই সুন্নি সম্প্রদায়ের। দেশটির রাজধানী দুশানবে।

    খ্রীষ্ট্রীয় ১৩ শতাব্দীতে মঙ্গোলিয়ার তাতাররা তাজিকিস্তানের জনগণকে শাসন করেন। ১৮৬৮ সালে তাজিকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের একটি অংশ রাশিয়ার অঙ্গীভূত হয়। ১৯১৮ সালে তাজিকিস্তান সোভিয়েট প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করে। ১৯২৪ সালের ১৪ অক্টোবর তাজিক সোভিয়েট সমাজতান্ত্রিক স্বায়ত্বশাসিত প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তা উজবেক সোভিয়েট সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের একটি অংশ। ১৯২৯ সালের ১৬ অক্টোবর তাজিক সোভিয়েট সমাজতান্ত্রিক নাম পরিবর্তন করে। ১৯৯১ সালের আগষ্ট মাসের শেষ দিকে তাজিকিস্তান প্রজাতন্ত্র নাম করণ করা হয়। একই বছরের ৯ সেপ্টেবর দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। ডিসেম্বরে দেশটি কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে যোগ দেয়।

    তাজিকিস্তানের অর্থনীতির ভিত্তি কিছুটা দুর্বল। সাম্পতিক বছরগুলোতে তাজিকিস্তানের সরকার স্বদেশের অর্থনীতির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্যে ধারাবাহিক নীতি ও ব্যবস্থা অবলম্বন করেছে এবং শুল্কের সংস্কার বিষয়ক আইন ও অবাধ অর্থনৈতিক বিশেষ অঞ্চল বিষয়ক আইন প্রণয়ন করেছে। যাতে অর্থনীতির উন্নয়নে সুযোগ সৃষ্টি করা যায়।

    তাজিকিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ খুব বৈচিত্র্যময়। জলসেচ সম্পদের মজুদের পরিমাণ বিশ্বের অষ্টম স্থানে রয়েছে। মধ্য-এশিয়া অঞ্চলের বৃহত্তম জলিবদ্যুত্ কেন্দ্র সেখানে অবস্থিত। তাজিকিস্তানের খনি সম্পদও খুব বৈচিত্র্যময়। দেশটি হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম রুপা খনির অধিকারী। তা ছাড়াও, তাজিকিস্তানে স্বর্ণ, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসসহ বিভিন্ন খনি রয়েছে।

    তাজিকিস্তানের শিল্পের মধ্যে রয়েছে, ধাতুঢালাই, গাড়ি নির্মাণ, ধাতুর প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্যদ্রব্য শিল্প প্রভৃতি। ফসলের মধ্যে প্রধানত রয়েছে, ভূট্টা, আলু, তুলা ও সবজি প্রভৃতি।

    চীন ও তাজিকিস্তানের মধ্যে ১৯৯২ সালের ৪ জানুয়ারী কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সম্পর্ক স্থাপনের পর, দু'দেশের সুপ্রতিবেশী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থিতিশীলভাবে উন্নতী হচ্ছে। উচ্চপর্যায়ের সফরবিনিময় খুব ঘন ঘন হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দু'দেশের বাণিজ্য সম্পর্কেরও উন্নয়ন হচ্ছে। ২০০৫ সালে দু'দেশের বাণিজ্য মূল্য ১৫.৮ কোটি মার্কিন ডলার ছিল। অনুরূপ সময়ের তুলনায় তা ১২৯.১ শতাংশ।