v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2006-10-18 16:20:39    
ইরাকের প্রতি বুশ সরকারের নীতি পরিবর্তনের সম্মুখী

cri
 

    জেমস বেকারের নেতৃত্বে ' ইরাক বিষয়ক তদন্ত গ্রুপ' বতর্মানে ইরাকে মার্কিন সরকারের নীতির মূল্যায়ন করছে। তদন্ত চলাকালে এই গ্রুপ নীতি পুর্নরুদ্ধারের প্রস্তাব উত্থাপন করবে। সিনিয়র বুশের শাসনকালে জেমস বেকার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন বলে বুশ পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। তা ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষেত্রেতাঁর নেতৃত্বাধীন তদন্ত গ্রুপের প্রভাব খুব বেশী। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরাকের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সম্ভাবত ব্যাপাকভাবে পরিবর্তনেরসম্মুখীন হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যমাধ্যমগুলোতে বলা হয়েছে, গত মার্চ মাসে মার্কিন কংগ্রেসের উদ্যোগে এই উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত গ্রুপ প্রতিষ্ঠিত হয় । প্রেসিডেন্ট জজ ডাবলিও বুশ এই তদন্ত গ্রুপকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তদন্ত গ্রুপে দশজন সদস্যের মধ্যে জেমস বেকার ছাড়া আরও আছে প্রাক্তন সাংসদ লী হামিলটন, সবোর্চ্চ আদালতের প্রাক্তন বিপারপতি সানদ্রা দাই ও কোনোর এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের কার্যালয়ের পরিচালক পানেট্টা।

    আগামী কয়েক মাসের মধ্যে যে কোন সময় এই তদন্ত গ্রুপ ইরাকের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সম্পর্কে তাদের প্রস্তাব উত্থাপন করবে। জানা গেছে, তাদের প্রস্তাব প্রধানত দু' ধরনের হবে। এক) পালাক্রমে মার্কিন সৈন্যদের ইরাকের বাইরের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সরে নেয়া এবং সন্ত্রাসীসংস্থার উপর আঘাত হানার প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।দুই) বাগদাদ অঞ্চলের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জোরদার করা । ইরাকে সংঘটিত সহিংস সংঘর্ষ দূর করার প্রক্রিয়ায় ইরাকের প্রতিবেশী দেশ---ইরান ও সিরিয়াকে ভূমিকা পালন করার অনুরোধ জানানো হবে।

    অবশ্যই যদি তদন্ত গ্রুপ সত্যিই এ ধরনের প্রস্তাব উত্থাপন করে তাহলে এই প্রস্তাব ইরাকের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত নীতির সঙ্গে বিরাট পার্থক্য এনে দেবে । বতর্মানে ইরাকের প্রতি বুশ প্রশাসনের নীতি অনুযায়ী প্রধানত বাগদাদের নিরাপত্তা পরিবেশের উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে । তা ছাড়া, বুশ বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হওয়ার আগে মার্কিন সেনাবাহিনী ইরাক থেকে প্রত্যাহার করা হবে না। তবে কিছুটা লক্ষণীয় যে, বুশ প্রশাসন ইরাকের প্রতি তার সরকারের নীতি কিছুটা পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়েছে। বুশ সরকার জোর দিয়ে বলেছে, ইরাকের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত নীতি দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত গ্রুপের মতামতও নিষ্ঠার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। গত সপ্তাহে একটি সংবাদ সম্মেলনে বুশ ঘোষণা করেছেন, তিনি ইরাক বিষয়ে ভিন্ন মতামত শুনতে প্রস্তুত।

    বাস্তবে ইরাক সসম্যায় বুশ সরকার বিরাট চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। প্রথমত: নিরাপরাধ ইরাকী নাগরিকদের হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বে-সরকারী একটি তদন্ত রির্পোটে বলা হয়েছে, ইরাক যুদ্ধের পর থেকে নিরাপরাধ ইরাকী নাগরিকদের হতাহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশী। দ্বিতীয়ত: মার্কিন সৈন্যদের হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে। তৃতীয়ত: ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বিরাট পরিমাণের । এক কথায় ইরাকের প্রতি বুশ সরকারের নীতি পরিবর্তনের দাবি বেড়েছে। তা ছাড়া, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন চলবে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিক পাটির চাইতে ডেমক্রিটিক পাটি অধিক সমর্থন পেয়েছে। এ থেকে বুঝা যায় যে, ইরাকের প্রতি বুশ প্রশাসনের নীতি কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। এ ধরনের পটভূমিতে বুশ ' ইরাক বিষয়ক তদন্ত গ্রুপের ' গঠনকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তা ছাড়া, বুশ বুঝতে পেরেছেন, বুশ পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে বলে জেমস বেক নি:সন্দেহে তাঁর পক্ষে অগ্রহনীয় প্রস্তাব উত্থাপন করবেন না। মার্কিন বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি জেমস বেকের তদন্ত গ্রুপ একটি নিরপেক্ষ কর্মসূচী দাখিল করতে পারে তাহলে বুশ সরকার সম্ভাবত তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করবে। এতক্ষণ আজকের প্রতিবেদন শুনলেন। আমাদের সঙ্গে থেকে অনুষ্ঠানটি শোনার জন্যে অশেষ ধন্যবাদ। আগামী সপ্তাহে আবার কথা হবে।