v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2006-09-20 16:07:00    
তাইওয়ানের ছাত্রদের চোখে চীনের মূল ভূখন্ড

cri
    ছাত্রদের আনন্দদায়ক গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষ হয়েছে । অতীতে চীনের তাওয়ানের ছাত্ররা গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ইউরোপে ও আমেরিকায় গ্রীষ্মকালীন শিবিরে অংশ নিতে উত্সাহী ছিল । তবে আজ তারা চীনের মূল ভূখন্ডে এসে ছুটি বিনোদন করতে পছন্দ করে । কিছু দিন আগে নিখিল চীন তাইওয়ানবাসী মৈত্রী সমিতির উদ্যোগে তাইওয়ানের তরুণদের একটি গ্রীষ্মকালীন শিবিরের আয়োজন করা হয় । তাইওয়ানের ১ হাজার ৩ শ'রও বেশি ছাত্রছাত্রী এই শিবিরে যোগ দিয়েছে । তাদের অধিকাংশই প্রথমবারের মত মূল ভূখন্ডে এসেছে । এবারের ভ্রমণ তাদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে । আজকের অনুষ্ঠানে এই সম্পর্কে কিছু বলছি আমি শি চিং উ ।

    গ্রীষ্মকালীন শিবির চলার সময় তাইওয়ান থেকে আসা এসব তরুণ-তরুণী দশ বারোটি শাখায় বিভক্ত ছিল । কেউ কেউ চীনের প্রাচীন শহর সি আনে গিয়ে প্রথমবারের মত উত্তর-পশ্চিম চীনের স্থুল লোক কবিতা শুনেছে । কেউ কেউ সি ছুয়ান প্রদেশে গিয়ে চিউ চাই কৌর কতিত্বময় নিসর্গ উপভোগ করেছে । তাদের ভ্রমণের শেষ ধাপ হচ্ছে চীনের রাজধানী পেইচিং । এখানে তারা মহাপ্রাচীরে আরোহন করেছে এবং পুরনো রাজপ্রাসাদ পরিদর্শন করেছে ।

    তাইওয়ান প্রণালীর দু তীরের মধ্যে মাত্র ৫০ মাইলের ব্যবধান রয়েছে । অথচ নানা কারণে তাইওয়ানের যুবক-যুবতীরা চীনের মূল ভূখন্ড সম্পর্কে খুব কম জানে । তাইওয়ানের একজন ছাত্র বলেছে , এখানে আসার আগে সে কল্পনাও করতে পারতো না যে, সি ছুয়ান প্রদেশের রাজধানী ছেং তুর সমৃদ্ধির মাত্রা তাইপেইয়ের চেয়ে একটুও কম নয় । পেইচিংয়ের পুরনো প্রাসাদ এত মহামাময় ও নিখোঁত। মূল ভূখন্ডের ছাত্ররা তাদের মত প্রাণবন্ত ,কথাবার্তায় পটু এবং অতিথিপরায়ণ ।

    তাইওয়ান শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ওয়াং চেং বলেছে , ছোটবেলায় সে চীনের প্রাচীন ইতিহাস পড়তে পছন্দ করতো । এবার মূল ভূখন্ডে এসে সে চীনের সংস্কৃতি সম্পর্কে আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করেছে । সে বলেছে ,

    যখন আমরা চীনের প্রথম সম্রাট হোয়াংতির সমাধি এবং সি আনের মাটি থেকে উদ্ধারকৃত সৈনিক ও ঘোড়ার মুর্তিগুলোর সামনে দাড়ালাম , তখন স্বাভাবিকভাবে আমাদের মনে চীনের সুপ্রাচীন ইতিহাস মুর্ত হয়ে ওঠে । অতীতে তাইওয়ানে আমরা কেবল পাঠ্যবই থেকে চীনের ইতিহাস পড়তাম । আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নেই । আমরা সত্যিকার ইতিহিস সম্পর্কে কিছু জানতাম না । তবে আজ আমরা চীন ভ্রমণের মাধ্যমে চীনের ৫ হাজার বছরের ইতিহাস , তার বহুমুখী সংস্কৃতি ও তার প্রশস্ততাসম্পর্কে হৃদয়ংগম করেছি ।

    তাইওয়ানের ছাত্রদের জন্যে প্রথমবারের মত চীনের মূল ভূখন্ডে এসে শুধু ভ্রমণ ও পরিদর্শন যথেষ্ট নয় , তারা আরো জানতে চায় যে, মূল ভূখন্ডের সমসয়সী ছাত্ররা কি নিজেদের মত প্রচলিত তথ্যের ওপর নজর দেয় এবং নিজেদের জীবনের পরিকল্পনা নিয়ে তারা কি কি চিন্তাভাবনা করছে । তাই মূল ভূখন্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গিয়ে ছাত্রদের সংগে মত বিনিময় করা এবারের গ্রীষ্মকালীন শিবিরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

    পেইচিংয়ের পশ্চিম দিকে অবস্থিত কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু জাতির বিশ্ববিদ্যালয়ে তাইওয়ানের ছাত্ররা বিশেষ সম্বর্ধণা লাভ করেছে ।

    আমি পাকিইজাটি । আমি হাসিটির । আমরা সিনচিয়াং ওইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের কাজাখ জাতির লোক । কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু জাতি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার জন্যে তোমাদের স্বাগত জানাচ্ছি । কাজাখ জাতির একটি রেওয়াজ আছে , তোমরা এই মিষ্টি কেড়ে নিতে পারলে তোমাদের সুখ ও স্বাচ্ছন্দ হবে । আমরা আশা করি , তোমরা এই মিষ্টি ছিনিয়ে নেবে ।

    চীনের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু জাতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানত সংখ্যালঘু জাতির ছাত্রদের ভর্তি করে । এবারের গ্রীষ্মকালীন শিবিরে অংশ নেয়া ছাত্রদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল তাইওয়ানের সংখ্যালঘু জাতির ছাত্র । সংখ্যালঘু জাতির লোকেরা নাচ গান করতে পছন্দ করেন । তাদের দেখা সাক্ষাত হলে আদান-প্রদানের সবচেয়ে ভালো উপায় ছিল সংগীত ও নাচ ।

    তাইওয়ান থেকে আসা সংখ্যালঘু জাতির হু চেং কুই ছিল সবচেয়ে প্রাণচঞ্চল ছাত্র ।তিনি বলেছেন , তার দেশের বাড়িতে নালুওয়ান নামে একটি গান যুগ যুগ ধরে প্রচলিত হয়ে আসছে । এই গান আনন্দদায়ক ও প্রাণবন্ত । সচরাচর বহু লোক একটি চক্র করে গান করার সংগে সংগে নাচ করে । তার পরিচালনায় সকলে হাতে হাত মিলিয়ে নালুওয়ান নামের গান শুরু করে ।

    কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু জাতি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাইওয়ানের ছাত্ররা সংখ্যালঘু জাতি সংক্রান্ত যাদুঘর পরিদর্শন করে । প্রথমবারের মত মূল ভূখন্ডের সংখ্যালঘু জাতির পণ্যদ্রব্য দেখে তাইওয়ানের ছাত্ররা অবাক হলো । তারা হাতের ক্যামেরা দিয়ে ফোটো তুলতে থাকে । সেখানে তারা বিস্ময়ের সংগে তাইওয়ানের সংখ্যালঘু জাতির পুরাকীর্তি দেখানোর বিশেষ প্রদর্শনী কক্ষ দেখতে পেয়েছে । এসব পুরাকীর্তি মূল ভূখন্ডে ভালোভাবে সংরক্ষিত ও প্রদর্শিত হচ্ছে দেখে তারা সত্যিই খুবই আনন্দিত ।

    তাইওয়ানের ছাত্রছাত্রীরা এবার মূল ভূখন্ডে শুধু চোখ দিয়ে নানা জিনিস দেখেছে , তাই নয় , তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনাও করে । যেমন ধরুন , তাদের মধ্যে অনেকে হচ্ছে গণ প্রশাসন বিভাগের ছাত্র । তাই বিমান থেকে নামার পর পরই তারা পেইচিংয়ের পৌর পরিকল্পনার পর্যালোচনা করতে শুরু করে । মূল ভূখন্ডের অর্থনীতি কেন অল্প দিনের মধ্যে দ্রুত উন্নতি লাভ করেছে । ছাত্ররা প্রায়শই তা নিয়ে আলোচনা করে । মূল ভূখন্ডের উন্নয়নে তাইওয়ানের এসব তরুণ-তরুণী কেবল পথিক হতে চায় না । তাইওয়ান শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ওয়াং চেং বলেছেন , তার অনেক বন্ধু আশা করছে যে, তারা মূল ভূখন্ডে লেখাপড়া ও কাজ করার সুযোগ মিলবে । সে নিজে আসন্ন পেইচিং ওলিম্পিকের ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে । সে বলেছে ,

    ২০০৮ সালের ওলিম্পিক গেমসের সমাগম হবে । আমার মনে হয় , পেইচিংয়ের দুটো ক্ষেত্রে কাজ জোরদার করা উচিত । একটি হচ্ছে পেইচিংয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা । অন্যটি হচ্ছে বিদেশী ভাষার প্রশিক্ষণ । আমার ধারণা, ওলিম্পিক গেমসের প্রস্তুতি নেয়ার সময় এই দুটো বিষয়ের ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে ।

    গ্রীষ্মকালীন শিবিরের দিনগুলো আনন্দদায়ক ও সংক্ষিপ্ত ছিল । কয়েক দিনের মধ্যে মূল ভূখন্ডের ছাত্রদের সংগে তাইওয়ানের বহু ছাত্রের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠেছে ।