v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2006-09-08 15:12:39    
মালভূমিতে তরমুজ চাষের সফলতা

cri
    গ্রীষ্মকালে খাঁখাঁ করছে । কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের কুই চৌ প্রদেশের লিউ ফেং সুই শহরের দক্ষিণ উপকন্ঠে অবস্থিত শাওং লুং গ্রামে তত গরম লাগছে না , আরামদায়ক মনে হচ্ছে । কেন না এই গ্রাম সমুদ্র সমতলের তুলনায় অনেক উঁচু , সারা বছর গরম লাগে না , তাই তাকে চীনের ' ঠান্ডা রাজধানী' বলা হয় । গ্রামের মধ্য দিয়ে স্বচ্ছ শাওং লুং নদী দূর প্রান্তে চলে গেছে । নদী থেকে বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে জলসেচ করা হয় । গ্রামে প্রতি বাড়িতে বাড়িতে প্রাঙ্গণ পরিপাটি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন । কিন্তু দু'বছর আগেই গ্রামের পরিবেশ অন্য রকম ছিল । গ্রামবাসীদের জীবনযাপন খুব দরিদ্র ছিল । কিছুটা ভুট্টা চাষ করার উপর নির্ভর করে পেট ভরা হতো । গ্রামের পরিবর্তন ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে থানার পার্টি-কমিটির সম্পাদক সংবাদদাতাকে বলেছেন ,

    ২০০০ সালে শাওং লুং গ্রামে মাথাপিছু গড় আয় ছিল ছ' শো ইউয়ান ছিল । গ্রামের সত্যই বিকাশ শুরু হয়েছে ২০০৪ সাল থেকে । ২০০৫ সালে গ্রামের মাথাপিছু গড়পড়তা আয় ২৪৬০ ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে । শাওং লুং গ্রাম যে দ্রুত সমৃদ্ধ হয়েছে , তার মূলে রয়েছে কৃষি শিল্পায়ন বাস্তবায়ন আর চীনের উন্নত অঞ্চলগুলো থেকে পুঁজিবিনিয়োগ আকর্ষণ করা ।

    পূর্ব চীনের চে চিয়াং প্রদেশের ব্যবসায়ী লু ছাং মিং -এর পুঁজিবিনিয়োগে শাওং লুং গ্রামের কৃষি শিল্পায়নের বিকাশের জন্য নতুন সুযোগ বয়ে এনেছে । ফলে গ্রামবাসীদের দারিদ্র্য দূর হয়েছে এবং কৃষকের জন্য বেশ কিছু আয়ের ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে ।

    স্বচ্ছ প্লাস্টিক আবৃত কৃষি জমিতে লু ছাং মিংয়ের সঙ্গে সংবাদদাতার দেখা হয় । তার পুঁজিবিনিয়োগে গড়ে তোলা তরমুজ খামার হচ্ছে কুই চৌ প্রদেশে তরমুজ বপনকারী প্রথম পরিক্ষা- নিরীক্ষা খামার । তরমুজ খরা অঞ্চলে চাষ করা উপযোগী । কিন্তু কুই চৌ প্রদেশ সমুদ্র সমতলের তুলনায় অনেক উঁচু । তাই এই অঞ্চলে তরমুজ রোপণ করার উপযুক্ত নয় । তিনি কুই চৌ প্রদেশে দশ বারো বছর ধরে পুঁজিবিনিয়োগ করে থাকেন । এই অঞ্চলের বাজার সম্পর্কে তিনি বেশি জানেন । এই অঞ্চলে তরমুজ উত্পন্ন করা হতো না , বাজারের যাবতীয় তরমুজ অন্যান্য অঞ্চল থেকে আমদানি করা হতো । তাহলে স্থানীয় তরমুজ চাষ করার চেষ্টা কি করা যাবে না ? ফলে তিনি এই অঞ্চলে তরমুজ চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন । শুরুতে তিনি অভাবনীয় চাপ ও বাধা-বিঘ্নের সম্মুখীন হন ।

    তিনি এখানে এক বছর গবেষণা চালান । এখানকার জমি তরমুজ চাষ করার উপযোগী কি না , তা পরীক্ষা করার জন্য ভূমির নমুনা নিয়ে যান । এবং গত ৫ বছরে এই অঞ্চলের আবহাওয়া সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করেন । উপদেশ ও মতামত শুনার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কাছেও ফোন করেন । তবু এই ক্ষেত্রে কুই চৌ প্রদেশের ১ হাজারেরও বেশি বিশেষজ্ঞ আপত্তি প্রকাশ করেন । সবাই তাকে তরমুজ বেশি চাষ না করার উপদেশ দেন । যখন বীজ থেকে ফুল ফুটে , তখন সবাই তরমুজ ফলবে না মনে করেন । কিন্তু তিনি নিজের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনায় অটল থাকেন ।

    লু ছাং মিং পরিশ্রমী ও কর্মঠ । আগে তিনি যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক্স দ্রব্যের ব্যবসা করতেন । তিনি অধ্যবসায়ের সঙ্গে লেখাপড়া করার মাধ্যমে তরমুজ চাষের প্রযুক্তি আয়ত্বকরেন । কুই চৌ প্রদেশ সমুদ্র সমতলের তুলনায় দু'হাজার মিটারেরও বেশি উঁচু । এই অঞ্চলে তরমুজ চাষের জন্য তিনি বেশ কিছু নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করেন । প্লাস্টিক আবৃত কৃষি জমিতে তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্য গরম করার ব্যবস্থা নেন । এতে তরমুজ ফলার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা মেটানো হয় । এর পাশাপাশি মৌলিক সার ছাড়া তরমুজের জন্য পুষ্টিকর পদার্থও যোগানো হয় । তিনি বলেছেন ,

    মানুষের দিনে তিন বেলার খাওয়া দাওয়া দরকার । তিনি আবিষ্কার করেন যে , ডিনার আর পরের দিনের নাস্তার মধ্যে দশ দারো ঘন্টার ব্যবধান । সুতরাং এই দুই বেলার খাওয়ার মধ্যে তিনি তরমুজকে কিছুটা অতিরিক্ত খাবার যোগান । তরমুজের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি মেটানো হয়েছে । বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে , এই ধরনের ব্যবস্থার বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে ।

    প্রযুক্তি গবেষণা করা আর বাজার উন্নয়ন করার সঙ্গে সঙ্গে লু ছাং মিং গ্রামবাসীদেরও সাহায্য করেন । তরমুজ খামার সম্প্রসারিত করার জন্য তিনি স্থানীয় কৃষকদের জমি ভাড়া করেন । প্রতি বছর তাদেরকে উপযোগী ভাড়া দেয়া হয় । এর পাশাপাশি তরমুজ খামারে চাকরি করার জন্য তিনি স্থানীয় কৃষকদেরও উত্সাহ দেন । কৃষকরা যথাযোগ্য উপার্জন করা ছাড়া চাকরি করার মাধ্যমে তরমুজ চাষের প্রযুক্তিও শিখেছেন । লু ছাং মিংয়ের তরমুজ চাষ ও বিক্রির ব্যবসা ভাল চলছে , এতে গ্রামবাসীরাও লাভ পেয়েছেন । সংবাদদাতা দেখলেন , খামারে কৃষক চাং চিয়া চুং তরমুজের জন্য সার দিচ্ছেন । তিনি সংবাদদাতাকে বলেছেন ,

    তরমুজ খামারে চাকরি করার জন্য তিনি মাসে ৮০০ ইউয়ান উপার্জন করেন । তা ছাড়া খামারে তার জমি ভাড়া দেয়ার জন্যও তিনি মাসে ৫ শো থেকে ৬ শো ইউয়ান আয় করেন । আগে পেট ভরার জন্য তিনি ও পরিবারের লোক শুধু ভুট্টা চাষ করতেন । এখন তরমুজ চাষ করে বহু আয় করেন । সুতরাং কৃষকরা এই কাজ খুব সমর্থন করেন ।

    এখন শাওং লুং গ্রামবাসীরা তরমুজ চাষের মাধ্যমে বিপুল অর্থ পেয়েছেন । গ্রামের প্রধান সংবাদদাতাকে বলেছেন ,

    তরমুজ খামার সম্প্রসারিত করায় গ্রামবাসীরা তরমুজ চাষের প্রযুক্তি শিখেছেন । এখন বেশ কয়েকজন কৃষক নিজেদের কৃষি ক্ষেতেও তরমুজ চাষ শুরু করেছেন । এতে কৃষকদের বাজার অর্থনীতি বিষয়ক ধারণাও উন্নত হয়েছে ।

    লু ছাং মিং কুই চৌ প্রদেশে ব্যবসা করেছেন দশ বারো বছর পূর্ণ হয়েছে । তিনি তরমুজ চাষের মাধ্যমে যেমন বিপুল লাভ পেয়েছেন , তেমনি গ্রামের জন্য একটি স্বচ্ছলতার পথও বয়ে এনেছেন । এবছরের প্রথম কোয়ার্টারে খামারে প্রচুর তরমুজ পাওয়া গেছে । ব্যবসায়ীরা তত্ক্ষনাত্ এই সব তরমুজ কেনার অর্ডার দিয়েছেন । অনুমান করা হচ্ছে , তৃতীয় কোয়ার্টারে খামারে আরো বেশি উপার্জন হবে । ভবিষ্যতের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে লু ছাং মিং বলেছেন , আগামী বছর খামারে ২৫ একর কৃষি জমিতে তরমুজ চাষ করা হবে এবং কুয়াং তুং ও কুয়াং শি প্রদেশ আর শাংহাইয়ের বাজারে সরবরাহ করার জন্য শাক-সব্জি ও পুষ্প চাষ করার পরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়েছে ।