v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2006-08-15 18:19:19    
ফু মি জাতির প্রাথমিক স্কুল

cri

    চীনে ফু মি জাতি এমন একটি সংখ্যালঘু জাতি , যে জাতির লোকসংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম । গোটা জাতির লোকসংখ্যা ৩০ হাজারেরও একটু কম । তারা প্রধানতঃ দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইয়ুননান প্রদেশের লান পিন জেলায় বাস করেন । অর্থনীতি অনুন্নত বলে দীর্ঘকাল থেকে ফু মি জাতির শিক্ষার ব্যবস্থা পিছিয়ে ছিল । চীনে বালক-বালিকাদের প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হওয়ার বয়স ছ'বছর । কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে বেশ কিছু বালাক-বালিকা প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হতে পারতো না । কেউ কেউ অর্থাভাবের কারণে লেখাপড়া থেকে বিরত ছিল । গত কয়েক বছরে চীন সরকারের ব্যাপক সমর্থনে ফু মি জাতির শিক্ষার ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে । যাদের বয়স প্রাথমিক স্কুলে পড়াশুনার জন্য উপযোগী , তারা সবাই স্কুলে ফিরে এসেছে ।

    কান চু হো নামে ফু মি জাতির একটি প্রাথমিক স্কুলের প্রিন্সিপাল স্যুন ইউ ওয়েন স্বচক্ষে এই পরিবর্তন দর্শন করেছেন । আজ এই অনুষ্ঠানে এই প্রাথমিক স্কুল আর তার প্রিন্সিপাল্ সম্বন্ধে আপনাদের কিছু বলছি আমি…

    কান চু হো প্রাথমিক স্কুলের প্রিন্সিপল স্যুন ইউ ওয়েন রোজ খুব সকালে উঠেন । তিনি ছাত্রছাত্রীদের নাস্তার বন্দোবস্ত করার জন্য বাবুর্চিকে সাহায্য করতে শুরু করেন । ছাত্রদের খাবার ঘরে পরিপাটিভাবে বেশ কিছু টেবিল রাখা হয় । এ প্রসঙ্গে স্যুন ইউ ওয়েন গৌরবের সঙ্গে বলেন যে ,

    এখানে ছাত্রছাত্রীদের খাওয়ার জন্য মোট ২৪টি টেবিল বন্দোবস্ত করা হয়েছে । এই সব টেবিল নতুন বানানো হয়েছে ।

    বর্তমানে কান চু হো প্রাথমিক স্কুলে মোট দেড় শো ছাত্রছাত্রী আছে । যাদের বাসা স্কুল থেকে দূরে , তারা স্কুলে থাকে । তাদের আরো সুষ্ঠুভাবে যত্ন নেয়া আর দেখাশুনা করার জন্য কিছু দিন আগে স্কুলে এই খাবার ঘর নির্মিত হয়েছে । এর আগে স্কুলে থাকে এমন ছাত্রছাত্রীদের খাওয়া দাওয়া নিজেদের বন্দোবস্ত করতে হতো । বহু ছেলেমেয়েকে ক্লাস শেষে তাড়াহুড়া করে রান্না করতে হতো ।

    রান্না- বান্না আর খাওয়া দাওয়া সমস্যা শুধু আগেকার কান চু হো প্রাথমিক স্কুলের সম্মুখীন বেশ কয়েকটি সমস্যার অন্যতম । চাং মিন লান পিন জেলা শহরের একজন শিক্ষিকা ছিলেন । তিনি কান চু হো প্রাথমিক স্কুলে চাকরি করেছেন এক বছরেরও বেশি সময় হল । আরো কয়েকজন শিক্ষকও তার সঙ্গে এই স্কুলে এসেছেন । কান চু হো প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষা মান উন্নত করার জন্য লান পিন জেলা সরকারের মাধ্যমে তাদের আমন্ত্রণ করা হয়েছে ।

    জেলা শহর থেকে আসা শিক্ষকরা এই স্কুলের ছেলেমেয়েদের পড়াচ্ছেন । এতে প্রিন্সিপাল ্ স্যুন খুব সন্তুষ্ট । কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে , স্কুলে শিক্ষকদের জন্য খাওয়া আর থাকার যে ব্যবস্থা করা হয় , তাতে তাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো হচ্ছে না । শিক্ষকদের থাকার জন্য কয়েকজনের মাত্র একটি ঘর বন্দোবস্ত করা হয় । শিক্ষিকা চাং মিন সংবাদদাতাকে বলেন যে ,

    আমাদের থাকার পরিবেশ জীর্ণশীর্ণ ছিল । যখন আমরা এখানে আসলাম , তখন প্রচুর ইঁদুর দেখা যেতো । রাতে ঘরে ইঁদুর যেখানে-সেখানে চলাফেরা করতো ।

    এখন সরকারের অর্থ বরাদ্দ বাড়বার সঙ্গে সঙ্গে প্রিন্সিপাল স্যুনের দুঃখ ও চিন্তাও দূর হয়ে গেছে । কান চু হো প্রাথমিক স্কুলের নিকটে দু'তলা বিশিষ্ট শিক্ষকদের একটি আবাসিক ভবন নির্মিত হচ্ছে । এবছরের সেপ্টেম্বর মাসে এই আবাস নির্মাণ সম্পন্ন হবার কথা । নির্মাণস্থলে প্রিন্সিপাল সংবাদদাতাকে তার কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করলেন ,

    এই আবাসে দু'তলায় সব মিলিয়ে ১২টি ঘর আছে । শিক্ষক-শিক্ষিকাদের থাকার জন্য কোনো চিন্তা নেই । প্রত্যেক শিক্ষককে একটি করে ঘর ব্যবস্থা করা যায় ।

    ৫৭ বছর বয়স্ক প্রিন্সিপাল কান চু হো তার স্কুলকে খুব পছন্দ করেন । কয়েক দশক আগে তিনিও এই স্কুলে পড়েছিলেন । তখন এই স্কুলে মাত্র কয়েকটি কাঠের ঘর ছিল । বর্ষাকালে ঘর বৃষ্টিতে ভিজে যেতো আর শীতকালে ভিতরেও কনকনে হাওয়া । তখন অপ্রাপ্তবয়স্ক স্যুন ইউ ওয়েন অঙ্গীকার করেন যে , ভবিষ্যতে তিনি অবশ্যই এই স্কুলকে ভালভাবে সংস্কার করবেন । অধ্যবসায়ের সঙ্গে লেখাপড়া করার মাধ্যমে তিনি বিভাগের শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং শৈশবের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্য তিনি একাগ্রচিত্তে লেখাপড়া করেন ।

    আমাদের এই অঞ্চল অত্যন্ত পশ্চাত্পদ ছিল । এর মূলে রয়েছে শিক্ষিত মানুষের অভাব । কৃষকরা বংশপরম্পরায় শুধু ভেড়া চারণ করেন আর ফসল চাষ করেন । নিছক কৃষি কাজ করলে আমাদের এই অঞ্চল অধিক থেকে অধিকতর দরিদ্র হয়ে উঠবে , বিকাশের কোনো সম্ভাবনা থাকবে না ।

    ১৯৯৫ সালে স্যুন ইউ ওয়েন বাইরে বহু বছরে চাকরি করার পর জন্মস্থলে ফিরে এসেছেন এবং কান চু হো প্রাথমিক স্কুলের একজন শিক্ষক হন । তিনি স্কুলের পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ হন এবং শিক্ষা ব্রত আরো বিকশিত করার অঙ্গীকার করেন ।

    দেশে ফিরে আসার পর আমি লক্ষ্য করেছি , আমাদের প্রাথমিক স্কুল অনেক উন্নত হয়েছে । এই স্কুলের কয়েকজন ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় আর আরো কয়েকজন ছাত্র উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি হয়েছে । এতে আমি আনন্দিত হয়েছি । আশা করি , আগামী প্রজন্মের আরো বেশি লোক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে । বেশ কিছু মেধাবী ছাত্রের উদ্ভব হলে তা এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ভূমিকা রাখবে ।

    এই ক্ষেত্রে চীন সরকার যে নিয়মবিধি প্রণয়ন করেছে , তার ওপর প্রিন্সিপাল স্যুন আশাবাদী । এই নিয়মবিধি অনুযায়ী , দরিদ্র ছাত্রদের পাঠ্যপুস্তক ও লেখাপড়া সম্পর্কিত অন্যান্য খরচ মওকুফ করা হবে এবং তাদের জন্য কিছুটা ভর্তুকী দেয়া হবে । চীনে বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা অনুযায়ী , ছাত্রদের শিক্ষার ফি মৌকুফ করা হয় , কিন্তু তাদের পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষা সম্পর্কিত অন্যান্য ফি জমা দেয়া দরকার ।

    ১৩ বছর বয়স্ক ইন চাও ছুয়ান যখন প্রাথমিক স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীতে পড়তো, তখন পরিবারের অর্থ অভাবের দরুণ বাধ্য হয়ে স্কুল থেকে চলে গেল । সে স্কুল প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রইল । তার বাসনা তাড়াতাড়ি মেটানো হয়েছে । দেশের নীতি অনুযায়ী , তার পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষা সম্পর্কিত অন্যান্য খরচ মওকুফ করা হয়েছে । তা ছাড়া মাসে তাকে ৪০ ইউয়ানের ভাতা দেয়া হয় । লান পিন জেলায় তার মতো ১৮ হাজার জন ছাত্রকে এই অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে ।