১৯৮৯ সালে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী কার্যক্রমে অংশ নেয়ার পর চীনের সামরিক লোকজন ও পুলিশ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন । ১৩ আগষ্ট চীনের চতুর্থ শান্তিরক্ষী পুলিশ দল পেইচিং থেকে রওয়ানা হয়েছে । এই পুলিশ দল জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীবাহিনী হিসেবে হাইতিতে আট মাস অবস্থানকরবে ।
১৩ আগষ্ট সকাল সাতটায় চীনের চতুর্থ হাইতি শান্তিরক্ষী পুলিশ দলের সম্মানে রাজধানী পেইচিংয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে । এই দলে ৬জন নারী সদস্যসহ মোট১২৫জন সদস্য রয়েছে । তাদের গড়পড়তা বয়স ২৮ বছর ।
ক্যারিবীয় সাগরের দ্বীপ দেশ হাইতি পৃথিবীর অন্যতম গরীব দেশ । ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে হাইতিতে সামরিক অভ্যুথান ঘটে । সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত হন । তখন থেকেই হাইতির পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে । হাইতির পুলিশ সংস্থাগুলো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না । গুপ্তহত্যা , সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময় প্রায়ই ঘটছে । এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ হাইতিতে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে । জাতিসংঘের অনুরোধে চীন ২০০৫ সালে হাইতিতে একটি শান্তিরক্ষী সশস্ত্র পুলিশ দল পাঠিয়েছে ।
চীনের চতুর্থ শান্তিরক্ষী সশস্ত্র দলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছেন তিন উ সাংবাদিকদের বলেছেন , চীনের বর্তমান সশস্ত্র পুলিশ দলের প্রধান কর্তব্য হলো আকস্মিক ঘটনার মোকাবেলা করা , প্রধান প্রধান রাস্তায় টহল দেয়া আর স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় বেআইনী অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা । তা ছাড়া জাতিসংঘের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা , স্থানীয় সরকারের জন্য সশস্ত্র পুলিশ দলের প্রশিক্ষণ প্রদান আর মাল পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই দলের কর্তব্য ।
এই সব দায়িত্ব পালনের সময় তিন ধরনের বিপদ প্রত্যক্ষভাবে শান্তিরক্ষী দলের নিরাপত্তার জন্য হুমকী স্বরূপ । প্রথম, স্থানীয় বেআইনী সশস্ত্র দলের বেশির ভাগ সদস্য পেশাদার সৈনিক ছিল ,তাই তারা সাধারণ সশস্ত্র ব্যক্তির চেয়ে আরো বেশী বিপদজনক । দ্বিতীয়, হাইতির যানবাহন ব্যবস্থা পশ্চাদপদ , পথের দুই পাশে খাড়া পাহাড় । এটা শান্তিরক্ষী দলের কাজের জন্য সবচেয়ে বড় অসুবিধা । তৃতীয় , ম্যালেরিয়া , কলেরা , কালাজ্বর ও এইডস রোগ শান্তিরক্ষী দলের পক্ষে চ্যালেঞ্জ স্বরূপ । এ সম্বন্ধে ছেন তিন উ বলেছেন , এখানে আসার আগে আমরা সশস্ত্র পুলিশ ইন্সটিটিউটের শান্তিরক্ষী কেন্দ্রে চার মাস আর ফুচিয়েন প্রদেশে দু' মাস প্রশিক্ষণ পেয়েছি । নানা ধরনের কষ্ট ও বিপদের মোকাবেলার জন্য আমরা যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছি । আমরা আগের তিনটি পুলিশ দলের অভিজ্ঞতা শিখবো। এই দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে আমরা সংকল্পবদ্ধ ।
গত শতাব্দীর আশির দশক থেকে আজ পর্যন্ত চীন জাতি সংঘে দশ-বারোটি শান্তিরক্ষী দল পাঠিয়েছে । চীনের গণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের উপপ্রধান কো পাও সান বলেছেন , চীনের গণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে । এখন পর্যন্ত গণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের শান্তিরক্ষী দল হাইতি ছাড়া পূর্বতিমুর , কসোভো , আফগানিস্তান , বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা , সুদান ও লাইবেরিয়ায় শান্তিরক্ষী দল পাঠিয়েছে । এখনও ১৯৭জন সদস্য বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীর কাজ করছেন ।
কো পাও শান আরো বলেছেন , সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী কার্যক্রমে ক্রমেই আরো গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে । বিদেশের সশস্ত্র সংঘর্ষে প্রায়ই চীনের শান্তিরক্ষী পুলিশ দেখা যায় । শান্তিরক্ষীর দায়িত্ব পালনের সময় চীনা পুলিশের শৃঙ্খলা ও কর্মদক্ষতা স্থানীয় সরকার ও অধিবাসীসহ অন্যান্য দেশের শান্তিরক্ষী পুলিশের প্রশংসা পেয়েছে ।
|