v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2006-08-02 16:26:44    
প্রতিবেশী উত্সব প্রতিবেশীদের সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ করে তুলেছে

cri
    চীনারা সবসময় প্রতিবেশীদের সংগে তাদের সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দেন । প্রাচীনকাল থেকে একটি প্রবাদ প্রচলিত হয়ে আসছে । তা হচ্ছে : দূর আপনজনের চেয়ে নিকট প্রতিবেশী আরো প্রয়োজনীয় । অথচ আধুনিক শহুরে জীবনের ব্যস্ততম ছন্দ আস্তে আস্তে প্রতিবেশীদের অচেনা করে তুলেছে । ৭ বছর আগে উত্তর চীনের উপকূলীয় থিয়ান চিন শহরের একটি পাড়া সর্বপ্রথমে সুপ্রতিবেশীসূলভ সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে প্রতিবেশী উত্সব পালন করতে শুরু করে । এখন চীনের ডজন খানেক শহরে প্রতিবেশী উত্সব পালন করা হচ্ছে । ফলে প্রতিবেশীদের সম্পর্ক আগের চেয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে । আজকের অনুষ্ঠানে এই সম্বন্ধে কিছু বলছি আমি শি চিং উ ।

    প্রতিবেশী শব্দটি উল্লেখ করলে বহু চীনার মনে স্নেহ মমতা জেগে ওঠে । কেন না, চীনের রেওয়াজ অনুসারে প্রতিবেশীদের সম্পর্ক সর্বদাই একটি অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক । এমন কি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই সম্পর্ককে নিজেদের আপনজনের সম্পর্কের সাথে তুলনা করা যায় ।

    অতীতে চীনের শহরবাসীদের অধিকাংশই একতলার বাড়িতে থাকতেন । সাধারণত কয়েকটি অথবা ডজন খানের পরিবার একটি আংগিণায় থাকতো । যারা আবাসিক দালানে থাকতেন ,তাদের অনেক পরিবার একই রান্নাঘর ও বাথরুম ব্যবহার করতো । প্রতিবেশীরা খুবই কাছাকাছি থাকতেন বলে তারা প্রায় অন্যদের বাড়িতে বেড়াতে যেতেন এবং গল্প করতেন । তাদের সম্পর্ক ঠিক এক পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কের মত ছিল ।

    সামাজিক বিকাশের সংগে সংগে চীনের শহরবাসীদের থাকার অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে । তারা পর পর আবাসিক দালানে ওঠেছেন । তাদের জীবনযাত্রার ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে । খুব কম শহরবাসী এখন একই রান্নাঘর ও বাথরুম ব্যবহার করছেন । আবার জীবনের ব্যস্ততা এবং আধুনিককালের লোকদের নিজেদের গোপনীয়তা বজায় রাখার ধারণা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবেশীদের মধ্যে আদান-প্রদান ক্রমশ কমে আসছে । পেইচিংয়ের একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চুং ছিয়াং চেং আমাদের সংবাদদাতাকে বলেছেন ,

    রোজ ছুটির পর সাধারণত আমি শরীর চর্চা করতে যাই । তারপর আমি আমার স্ত্রীর সংগে গল্প-গুজব করি অথবা টেলিভিশন দেখি । আশেপাশের প্রতিবেশীদের সংগে মেলামেশার সুযোগ খুবই কম । এমন কি বলা যায় তাদের সংগে আমার কোনো যোগাযোগ নেই ।

    চীনের বৃহত্তম শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর - শাংহাইয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চালানো একটি জরীপে জানা গেছে , কেবল ২৪ শতাংশ পরিবার প্রতিবেশীদের সংগে প্রায়সই আসা যাওয়া করে । ৫০ শতাংশ লোক তাদের প্রতিবেশীদের নাম ও চাকরী জানেন না । দক্ষিণ চীনের শেন চেন শহরে অনুরূপ জরীপ চালানো হয়েছে । ফলাফলে দেখা গেছে , ৯০ শতাংশ শহরবাসী প্রতিবেশীদের সংগে পরিচিত হতে ও আদান-প্রদান করতে এবং পারস্পরিক সাহায্য করার সম্পর্ক স্থাপন করতে ইচ্ছুক ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যে সম্প্রীতিময় ও মধুর সম্পর্ক থাকার গুরুত্বপূর্ণ তাত্পর্য রয়েছে । এই প্রসংগে থিয়ান চিন সমাজ বিজ্ঞান একাডেমীর অধ্যাপক হাও মাই সৌ বলেছেন ,

    প্রতিবেশীদের সম্পর্কের তিক্ততা তথ্য ও ভাবের বিনিময় ব্যহত করে , এমন কি লোকদের জন্যে নিসংগতা ও নিরাপত্তাহীনতা এনে দেয় । তাছাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে মেলামেশা ও যোগাযোগের অভাবের দরুণ তারা মাঝে মধ্যে ছোটখাটো ব্যাপার নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ঝগড়া বিবাদ করে থাকেন ।

    ৭ বছর আগে থিয়ান চিন শহরের হোসি এলাকার থিয়ান থা পাড়ার কয়েকজন উত্সাহী ব্যক্তি ঐতিহ্যবাহী ও সম্প্রীতিময় সুপ্রতিবেশীসূলভ সম্পর্ক আবার গড়ে তোলার জন্যে প্রতিবেশী উত্সব পালন করতে শুরু করেন । পাড়া কার্যালয়ের উপপরিচালক চিয়াও ইয়াং আমাদের সংবাদদাতাকে বলেছেন ,

    আমরা অনুভব করছি যে , প্রতিবেশীদের সম্পর্ক ভালো কিনা , তা সরাসরি আমাদের পাড়ার লোকদের উত্কর্ষ ও পাড়ার সভ্যতা উন্নয়নের ওপর প্রভাব বিস্তার করে । আমাদের কাজকর্মের মধ্যে সুপ্রবেশীসূলভ সম্পর্ক গড়ে তোলার কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । তাই ১৯৯৯ সালে সংহতি ও পারস্পরিক সাহায্য করা এবং সম্মিলিতভাবে সভ্যতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিবেশী উত্সব পালন করতে শুরু করেছি ।

    প্রতি বছরের শরত্কালে প্রতিবেশী উত্সব এক সপ্তাহ ধরে পালিত হয় । এই সময়ের মধ্যে পাড়ার উদ্যোগে বর্ণাঢ়্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । যেমন দাবা খেলা , নাচ গানের প্রতিযোগিতা এবং যাদের অর্থনৈতিক অসুবিধা আছে , তাদের সাহায্য করা ইত্যাদি । প্রতি বছর ভালো প্রতিবেশীদের নির্বাচন করা হয় । জানা গেছে , থিয়ান থা পাড়ার লোকসংখ্যা ৬০ হাজারেরও বেশি । প্রতিবেশী উত্সব শুরু হওয়ার পর ৭ বছরের মধ্যে ৭ শ'রও বেশি পরিবার ভালো প্রতিবেশী নির্বাচিত হয়েছেন ।

    প্রতিবেশী উত্সব প্রতিবেশীদের দূরত্ব কমিয়ে এনেছে । প্রতিবেশীদের সম্পর্ক আগের চেয়ে আরো নিবিড় হয়ে ওঠেছে । ৭৮ বছর বয়সী মা শি মিন থিয়ান থা পাড়ার একজন পুরনো অধিবাসী । অবসর নেয়ার পর তিনি প্রায় প্রতিদিনই প্রতিবেশীদের জন্যে নানা কল্যাণমূলক কাজ করে থাকেন । তাঁর বাড়িতে কোনো অসুবাধা হলে প্রতিবেশীরাও তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন । ২০০৪ সালে তার স্বামী হঠাত অসুস্থ্য হয়ে পড়লেন । তখন প্রতিবেশীরা তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসলেন । এটা তার মনে গভীর ছাপ ফেলেছে । তিনি বলেছেন ,

    তখন আমার স্বামী হঠাত অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন । সে সময়ে আমার ছেলেমেয়েরা কেউ কাছে নেই । কি করা যায়? প্রতিবেশীরা সবাই বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছেন । তাদের সাহায্যে আমার স্বামীকে হোয়ান হু হাসপাতালে পাঠানো হলো । হাসপাতালে তারা নিজেদের টাকা দিয়ে ওষুধ ও চিকিত্সার ফি দিয়ে দিলেন । প্রতিবেশী না থাকলে তিনি বেঁচে থাকতেন না । সেই দিনের দৃশ্য আমার মনে পড়লেই আমার উষ্ণ লাগে ।

    থিয়ান চিনের হোসি এলাকার থিয়ান থা পাড়ার সৃষ্ট প্রতিবেশী উত্সব এখন যেমন থিয়ান চিনের অন্য পাড়াগুলোতে জনপ্রিয় করে তোলা হয়েছে , তেমনি চীনের অন্যান্য শহরেও তা জনপ্রিয় করে তোলা হয়েছে ।