v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2006-07-10 21:32:05    
লাপোলেং মন্দিরের পাশে একটি তিববতী হোটেল

cri
    উত্তর পশ্চিম চীনের কানসু প্রদেশের সিয়াহো জেলায় অবস্থিত লাপোলেং মন্দির তিববতী বৌদ্ধধর্মের একটি প্রসিদ্ধ মন্দির । সেখানকার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও তিববতী বৌদ্ধধর্মজনিত সাংস্কৃতিক পরিবেশের আকর্ষনে বহুসংখ্যক বিদেশী পর্যটক সেখানে ভ্রমন করতে যান। সেখানে পৌঁছে তাঁরা সাধারণত: চীনা প্রবাসী হোটেলে থাকেন ।কারণ , চীন ভ্রমন নামে বিদেশীদের সম্পাদিত একটি বইতে চীনা প্রবাসী হোটেলের উল্লেখ আছে ।

    এই হোটেলের মালিক নেপালী বংশোদ্ভুত একজন তিববতী,তাঁর নাম জিরেনলোসাং , বয়স চল্লিশের কাছাকাছি, গায়ের রং কালো , চোখ বড় , ভ্রু বেশ লম্বা , মুখ গোলাকার , চেহারা দেখে মনে হয় ,তিনি বুদ্ধের মত দয়ালু ।

    জিরেনলোসাংয়ের হোটেল সিয়াহো জেলার সর্বাধিক জনবহুল রাস্তার পাশে , লাপোলেং মন্দির থেকে মাত্র পাঁচ শো মিটার দূরে , বিদেশী পর্যটক , বিশেষ করে পিঠে ব্যাগ নিয়ে হেঁটে যাওয়া ভ্রমনকারীদের জন্য এটি একটি কাংক্ষিত হোটেল ।সাইনবোর্ডে ইংরাজী ও চীনা ভাষায় লেখা তার পরিচিতি পড়ে জানা যায় , হোটেলটির পরিসেবার মধ্যে রয়েছে সাইকেল ভাড়া করা , কাপড় ধোওয়া, ইন্টার নেটে ওয়েব সাইট পরিদর্শন , ভ্রমণ গাইড করা, আর পাশ্চাত্য খাবার সরবরাহ করা ইত্যাদি। হোটেলটির অধিকাংশ রুমই স্ট্যান্ডার্ড ডাবল রুম , তবে খরচ বাঁচাতে সিংগল রুমও নেয়া যায় ।

    সকালে এই হোটেলে প্রবেশ করে দেখা যায় , অনেক বিদেশী পর্যটক ডাইনিং হলে নাস্তা করছেন । জিজ্ঞেস করে জানা গেল ,তাঁরা বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন ।

    ডাইনিং হলে বিদেশী পর্যটকদের ভিড় দেখে বোঝা যায় , এই হোটেলের ব্যবসা ভালোই চলছে । কয়েকজন বিদেশী পর্যটকের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায় , যে বিদেশী পর্যটকদের কাছে এই হোটেল যে সমাদৃত হয়েছে তার কারণ এই যে , তার কর্মচারী ও বেলবয়রা সবাই হান ভাষা , ইংরাজী ভাষা ও তিববতী ভাষায় কথা বলতে পারেন ।বিদেশীদের সঙ্গে কথাবার্তায় কোনো জড়তা নেই ।

    হোটেলের মালিক জিরেনলোসাং সি আর আইয়ের সংবাদদাতাকে জানিয়েছেন , এই হোটেল খুলেছেন তাঁর বাবা কানজিয়া লোসাং । সিয়া হো জেলায় কানজিয়া লোসাংয়ের জন্ম । অতীতে তিনি চীনের ছেনতু ,লাসা ও ভারতের মধ্যে আসাযাওয়া করে কাপড়ের ব্যবসা করতেন । প্রয়োজনীয় মুলধন সঞ্চয়ের পর তিনি স্থির করলেন , দেশে ফিরে জন্মস্থানের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার চেষ্টা করবেন ।

    জিরেনলোসাং বলেছেন:আমার বাবা সিয়া হো জেলায় ফিরে আসা প্রথম তিববতী । জেলা সরকার নানা বিষয়ে তাকে সাহায্য করেছে এবং জেলা শহরের সবচেয়ে কমনীয় এক খন্ড জমি তাকে ব্যবহার করতে দিয়েছে। বাবা ভেবেচিন্তে একটি হোটেল খোলার সিদ্ধান্ত নেন , তার মতে , আধুনিক হোটেল খোলা হলে বিদেশী পর্যটকরা ভ্রমণ করতে আসবেন।

    ১৯৮১ সালে কানজিয়ালোসাং লাপোলেং মন্দিরের পাশে এই হোটেল খুলেন । তখন চীনের পর্যটন শিল্প অনুন্নত ছিল বলে এই হোটেলের মুনাফা আশানুরুপ ছিল না । কিন্তু কানজিয়া লোসাং হাল ছাড়েন না । তিনি নেপাল থেকে জন্মস্থানে ফিরে আসেন এবং চীনা নাগরিকত্ব পেয়ে যান ।১৯৯৩ সালে দেশপ্রেমিক কানজিয়া লোসাং মৃত্যু বরণ করেন । জিরেনলোসাং উত্তরাধিকারসূত্রে হোটেলটি পান । তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় তাঁর হোটেল বিদেশী পর্যটকদের মধ্যে সুনাম অর্জন করেছে। লাপোলেং মন্দির ভ্রমনকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হোটেলের ব্যবসাও উত্তরোত্তর প্রসারিত হয়েছে ।

    ঐতিহ্যিক সোনালী পোষাক পরিহিত জিরেনলোসাংয়ের স্ত্রী জিজিয়ালোসাং একজন নেপালী ,তিনি ইংরাজী ভাষায় সাবলীলভাবে বিদেশী পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন । তিনি চীনের পর্যটন শিল্পে আত্মনিয়োগ করতে স্বামীকে সমর্থন করেন ।তাঁর বর্তমান জীবন নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট । তিনি বলেছেন : আমি মনে করি , আমার স্বামী সঠিক পথ বেছে নিয়েছে । আমরা কষ্ট করে যে হোটেল চালাচ্ছি তার প্রতিদান নিশ্চয় মিলবে । যখনই আমাদের অসুবিধা দেখা দেয় তখনই স্থানীয় সরকার আমাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়ায় ।এজন্য আমারা কৃতজ্ঞ ।

    জিরেনলোসাংয়ের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে ছেনতুর আন্তর্জাতিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে । মি: জিরেনলোসাংয়ের বাসনা: তারা চীনে শিক্ষা গ্রহণ করে চীনকে ভালোবাসবে ।

    জিরেনলোসাং তিববতী বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাসী । তিনি রোজ ভোর ছ'টা বিছানা থেকে ওঠে লাপোলেং মন্দিরে গিয়ে বৌদ্ধশাস্ত্র পাঠ করেন ।কখনো কখনো তাঁর পরিবারের সবাই বৌদ্ধশাস্ত্র পাঠ করতে যান । জিরেনলোসাং মনে করেন ,ধর্মবিশ্বাসের ব্যাপারে তিববতীদের পূর্ণ স্বাধীনতা আছে ।

    সিয়াহো জেলা সরকার বিদেশ থেকে ফেরত চীনাদের জন্য বিশেষ নীতি কার্যকরী করে ।

    সিয়া হো জেলার যুক্তফ্রন্ট বিভাগের পরিচালক মি: সাংজিকা বলেছেন, চীনা প্রবাসীরা দেশে ফিরে আসার পর তাঁদের পুনর্বাসন আর ছেলেমেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে তাঁদের বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেয়া হয় । ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই তাঁদের ছেলেমেয়ে বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে ।

    স্থানীয় সরকারের সহায়তায় জিরেনলোসাং তাঁর ব্যবসা প্রসারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন । তিনি একটি পর্যটন সংস্থা ও ইংরাজী শিক্ষাদানের একটি স্কুল খোলার কথাও বিবেচনা করছেন ।সমাজের জন্য প্রতিদান হিসেবে তিনি প্রতিবছর জীবনসঙ্গীহীন বৃদ্ধবৃদ্ধদের একটি কল্যাণ কেন্দ্র ও