v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2006-04-07 10:17:46    
চীনের জাতীয় গণ-কংগ্রেসের অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী মুসলমান প্রতিনিধিরা

cri

    এবছরের মার্চ মাসের প্রথমার্ধে পেইচিংয়ে চীনের জাতীয় গণ-কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির বার্ষিক অধিবেশন চলছিল । এই অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী প্রায় ৩ হাজার প্রতিনিধির মধ্যে বেশ কিছু মুসলমান প্রতিনিধিও ছিলেন । তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল , জাতি আর পেশা থেকে এসেছেন । কিন্তু তাদের একটি মিল হলঃ গণ-নির্বাচিত গণ-কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে তারা জনগণের আশা-আকাংক্ষার প্রতিনিধিত্ব করেন । তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জনগণের কন্ঠস্বর পৌঁছে দেয়া । মুসলমান প্রতিনিধিরা কেমন করে তাদের ভূমিকা পালন করেন , আজ এই অনুষ্ঠানে সে সম্বন্ধে আপনাদের কিছু বলছি আমি…

    উত্তর-পশ্চিম চীনের সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের তাতার জাতির প্রতিনিধি আবদুল্লা আব্বাস সিনচিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণাগারের একজন অধ্যাপক । শিক্ষা মহল থেকে আগত একজন প্রতিনিধি হিসেবে তিনি শিক্ষার উপর সবচাইতে গুরুত্ব দেন । তিনি বলেছেন , তিনি বাধ্যতামূলক শিক্ষা আর উচ্চ শিক্ষা জোরদার সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করেছেন । এর মধ্যে একটি হলঃ সিনচিয়াংয়ের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডক্টরেট কোর্সের সংখ্যা বাড়ানো সংক্রান্ত প্রস্তাব । কারণ আগে সিনচিয়াংয়ে ডক্টরেট কোর্স খুব কম ছিল । পূর্ব চীনের উপকূলীয় অঞ্চলের তুলনায় সিনচিয়াংয়ের এই কাজ পিছিয়ে আছে । সুতরাং আরো বেশি ডক্টরেট কোর্স চালু করার জন্য তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বিভাগের কাছে সহায়তা চেয়েছেন , যাতে দেশের জন্য আরো বেশি উচ্চ পর্যায়ের কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া যায় ।

    শিক্ষা বিভাগ তার এই প্রস্তাবের ওপর খুব মনোযোগ দিয়েছে । ২০০৫ সালের শেষ নাগাদ সিনচিয়াংয়ের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট পঞ্চাশাধিক ডক্টরেট কোর্স চালু হয়েছে । শুধু সিনচিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ডক্টরেট কোর্সের সংখ্যা ১২ হয়েছে । এবছর প্রফেসার আব্দুল্লা পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কিত একটি বিল নিয়ে এসেছেন । তিনি বলেছেন ,

    সিনচিয়াং বিশেষ করে সিনচিয়াংয়ের দক্ষিণাংশে মরুকরণ পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠেছে । তারিমো উপত্যকার আশেপাশে যে কিছু প্রাকৃতিক বনাঞ্চল আছে , এই সব গাছপালা আর উদ্ভিদ মরুকরণের বিস্তৃতি রোধ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে । জ্বালানী হিসেবে কয়লা আর কাঠ ব্যবহার করার সুযোগ না থাকলে কৃষকরা মরুকরণ নিবারণে প্রয়োজনীয় এই সব গাছ ও উদ্ভিদ ব্যবহার করতে বাধ্য হয় । ফলে এখানকার পরিবেশ নষ্ট হবে এবং মরুকরণ আরো তীব্র হয়ে উঠবে । সুতরাং সিনচিয়াংয়ের অফুরন্ত প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপের মাধ্যমে কৃষক আর পশুপালকদের বাড়িতে সরবরাহ করা হলে তারা মরুভূমিতে গিয়ে মরু -করণ নিবারণে ব্যবহার্য উদ্ভিদ সংগ্রহ করবেন না । এতে যেমন তাদের জীবনযাত্রা সুবিধাজনক হবে , তেমনি পরিবেশের সুরক্ষাও হবে ।

    মধ্য চীনের হোনান প্রদেশের প্রতিনিধি ল্যু চিন ফু একজন ইমাম । সংখ্যালঘু জাতির ধর্মীয় মহলের একজন প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বরাবরই সংখ্যালঘু জাতির জনসাধারণের জীবনযাপনের ওপর মনোযোগ দিয়ে আসছেন । তিনি বলেছেন , সংখ্যালঘু জাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের জনসাধারণ যে কেমন করে স্বচ্ছল হবেন এবং এই সব অঞ্চলের শিক্ষা ও অর্থনীতির উন্নয়নের মান যে কেমন করে অন্যান্য অঞ্চলের সমবর্তী হবে , তিনি তার ওপর খুব নজর রাখেন ।

    জাতীয় গণ-কংগ্রেসের প্রতিনিধি হবার পরবর্তী ৪ বছরে তিনি বহু বিল আর প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন । তিনি আশা করেন যে , সরকারের সাহায্যে সংখ্যালঘু জাতি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে গ্রামীণ রাস্তাঘাটের নির্মাণকাজ জোরদার হবে এবং স্কুলের ব্যবস্থা উন্নত হবে । তিনি বলেছেন , সরকার এই সব বিল আর প্রস্তাবের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে । এই সব অঞ্চলের গ্রামে গ্রামে রাস্তাঘাট নির্মিত হয়েছে আর স্কুলগুলোতে নানা রকম ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে ।

    এবছর ল্যু চিন ফু নতুন বিল নিয়ে এসেছেন । তিনি বলেছেন ,

    এই নতুন প্রস্তাব হলঃ কোনো কোনো বৈদেশিক পুঁজিবিনিয়োজিত শিল্প প্রতিষ্ঠানে হুই জাতির গ্রামীণ শ্রমিকও আছেন । এই সব শিল্প প্রতিষ্ঠানে শিল্পপতিরা চীনের মুসলমানদের আচার ব্যবহার সম্বন্ধে বেশি জানেন না । বিশেষ করে খাওয়া দাওয়ার ক্ষেত্রে মুসলমান শ্রমিকরা খুব অসুবিধা অনুভব করেন । আসলে সংখ্যালঘু জাতির রীতি-নীতির প্রতি মর্যাদা প্রদর্শন করাও আমাদের দেশের সংখ্যালঘু জাতি বিষয়ক নীতি । এই ভিত্তিতে আমরা দেশের ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্দেশ্যে এই সব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ দেয়ার দাবি জানাই , যাতে সংখ্যালঘু জাতির গ্রামীণ শ্রমিকদের জীবনযাত্রার অসুবিধা নিষ্পত্তি করা যায় এবং এই ক্ষেত্রে তাদেরকে সুযোগ সুবিধা আর যত্ন দেয়া যায় ।

    উত্তর-পূর্ব চীনের চিলিন প্রদেশের প্রতিনিধি ছুং লিয়েন পিয়াও এই প্রদেশের রাজধানী ছাংছুন শহরের হাওইয়্যু মুসলিম মাংসজাত খাদ্যদ্রব্য কোম্পানির চেয়ারম্যান । হুই জাতির একজন বেসরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শিল্পপতি হিসেবে তিনি সংখ্যালঘু জাতি সংক্রান্ত সরকারী নীতির ওপর খুব গুরুত্ব দেন । তিনি বলেছেন , সরকার সংখ্যালঘু জাতি বিষয়ক সুবিধাজনক নীতি প্রণয়ন করেছে এবং সংখ্যালঘু জাতির শিল্প প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ ভর্তুকী দিয়েছে । এতে সংখ্যালঘু জাতির প্রতি সরকারের যত্ন আর সহায়তা প্রতিফলিত হয়েছে । তিনি বলেছেন , তিনি এই সব নীতি থেকে উপকৃত হয়েছেন । তার নেতৃত্বাধীন হাওইয়্যু শিল্প গোষ্ঠীতে প্রধানতঃ মুসলিম মাংসজাত দ্রব্য তৈরী করা হয় । সরকার তাদের ওপর খুব অগ্রাধিকার দেয় । গত ৮ বছরেরও একটু বেশি সময়ে তাদের শিল্প গোষ্ঠী একটি বিরাটাকারের শিল্প গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে ।

    ছুং লিয়েন পিয়াও বলেছেন , স্থানীয় কৃষক আর পশুপালকদের সংগে তার আদান প্রদান বেশি । তদন্ত আর গবেষণা চালাবার জন্য তিনি সময় সময় গ্রামাঞ্চলে যান । সুতরাং এই ক্ষেত্রে তিনি অভিজ্ঞ । গ্রামের পরিচ্ছন্নতা সমাজতান্ত্রিক নতুন গ্রামাঞ্চল বিনির্মাণের অন্যতম লক্ষ্য । এই লক্ষ্য হাসিল করার জন্য বহু অঞ্চলে এই ক্ষেত্রের প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে । তিনি গণ কংগ্রেসের কাছে পেশ করা একটি বিলে গৃহপালিত পশুর মল কাজে লাগিয়ে কেঁচু চাষ করার প্রস্তাব দিয়েছেন । তিনি বলেছেন ,

    কেঁচু চাষের মাধ্যমে মাইক্রো উপাদান আর এমিনো এসিড তৈরী করা যায় । এটা গৃহপালিত পশুর খাবার তৈরীর কাজে লাগানো যাবে । তা পরিবেশ সংরক্ষণ আর স্বচ্ছলতা প্রতিষ্ঠা উভয়েরই অনুকূল হবে ।