v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2006-02-27 18:56:18    
চীনারা দুর্বল স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্ব দেয়

cri
    অর্থনীতির দ্রুত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে চীনের মহানগরে বসবাসকারীদের জীবনের গতিও দ্রুত বাড়ছে। কাজের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের স্বাস্থ্যগত অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাকে আমরা দুর্বল স্বাস্থ্য বলি। তাহলে এই রকম অবস্থা হওয়ার কারণ কি? তা আমাদের জীবনের উপর কিরকম প্রভাব ফেলে?

    মাদাম ফেং পেইচিংয়ের একটি কম্পানিতে কাজ করেন। সম্প্রতি তার কম্পানির কাজের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তার কাজের চাপ বাড়ার কারণে তিনি সবসময় ক্লান্তি বোধ করেন এবং স্বাস্থ্যের অবস্থাও তেমন ভাল নয়। তিনি বলেছেন:

    "কাজের মাঝখানে সময়ে আমার বিশ্রাম নেয়া সময় নেই। কোনোদিন আমি সময়মত খাই নি। আমি দুর্বল স্বাস্থ্যগত অবস্থায় পড়েছি।"

    আসলে মাদাম ফেংও ঠিক জানেন না যে, "দুর্বল স্বাস্থ্য" মানে কি। তাঁর মতে তাঁর নিজের লক্ষণ দুর্বল স্বাস্থ্যের লক্ষণের মত। কিন্তু দুর্বল স্বাস্থ্য মানে কি?

    দুর্বল স্বাস্থ্য, ইংরেজী শব্দ হলো সাবহেলথ। ৩০ বছর আগে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের একজন পন্ডিত এই ধারণা উত্থাপন করেছেন। বহু বছরের গবেষণার পরও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত তার চিহ্নিতকরণ সম্ভব হচ্ছে না। তবে চিকিত্সা মহলে এই সম্বন্ধে একটি সর্বসম্মত ধারণা গড়ে উঠেছে। চীনের বৈমানিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও দুর্বল স্বাস্থ্য মুল্যায়ন কেন্দ্রের পরিচালক উ লিও শিন বলেছেন:

    "দুর্বল স্বাস্থ্যের অর্থ হলো এই যে, মানুষের শরীর সুস্থ্য নয়, অসুস্থ্যও নয়। তা আধুনিক স্বাস্থ্যের মানদন্ডের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তার লক্ষণ হলো, শরীরের অঙ্গপ্রতঙ্গের অবনতি, শক্তিহীনতা, পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সামর্থ্য হ্রাস এবং মানসিক ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদি। কিন্তু এই সব লোক যে কোনো রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তাও বলা যায় না।"

    মিস্টার উ বলেছেন, দুর্বল স্বাস্থ্যগত অবস্থার লোকদের প্রথম লক্ষণ হলো, মাথাব্যাথা, ক্লান্তি, নিদ্রাহীনতা, মন খারাপ ইত্যাদি এবং এই অবস্থা সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস স্থায়ী হবে। অল্প সময়ের জন্যে মাথা-ব্যাথা ও ক্লান্তি দেখা দিলে তা দুর্বল স্বাস্থ্য বলা যায় না।

    তিনি আরো বলেছেন, দুর্বল স্বাস্থ্য হওয়ার কারণ অনেক, প্রধানত ৬টি।

    "ছয়টি কারণ হলো: এক, অতিরিক্ত চাপ ও টান। দুই, বাইওলজিক্যাল ক্লকের এলোমেলো অবস্থা। তিন, জীবনযাত্রার কুঅভ্যাস। চার, বসবাসের দূষিত পরিবেশ। পাঁচ, নিকৃষ্ট মানসিক অবস্থা এবং ছয়, প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা।"

    তাহলে দুর্বল স্বাস্থ্য দেখা দিলে, তার বিপদ কি? প্রথমত, তা হলো বহু দীর্ঘস্থায়ী অসংক্রামক রোগ হওয়ার পূর্বাভাস। সংশ্লিষ্ট গবেষণা অনুযায়ী, অনেকে দুর্বল স্বাস্থ্যগত অবস্থা থেকে অধিকাংশ ম্যালিগন্যান্ট টিউমার, হৃদ ও মস্তিষ্কের শিরার রোগ এবং ডায়বেট রোগীতে পরিণত হয়েছেন। দ্বিতীয়ত, তা স্পষ্টভাবে মানুষের আয়ু কমাতে পারে।

    চীনের হাস্পাতালগুলো দুর্বল স্বাস্থ্যের উপরে গুরুত্ব দেয়। সম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু মহানগর ও মাঝারী শহরের হাস্পাতালগুলোতে দুর্বল স্বাস্থ্য চিকিত্সা কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।

    তার চিকিত্সা ব্যবস্থা হলো, প্রথমত রোগীদের শরীর পরীক্ষা করা। তারপর পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী আরোগ্য হওয়ার পরিকল্পনা তৈরী করা। দুর্বল স্বাস্থ্যের ব্যক্তিদের শারিরীক পরীক্ষার মধ্যে, নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা ছাড়া, মানসিক পরীক্ষাও অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

    চীনে ঐতিহ্যিক চীনা চিকিত্সা ও পশ্চিমা চিকিত্সা-দুটো পদ্ধতিতে দুর্বল স্বাস্থ্যের ব্যক্তিদের আরোগ্য হতে সাহায্য করা হয়। পশ্চিম চিকিত্সা পদ্ধতি হলো পুষ্টি নিয়মিত করা, শরীর চর্চা, যথেষ্ট ঘুম এবং মানসিক সহায়তা। সঙ্গে সঙ্গে কিছু ওষুধও খান।

     চীনের ঐতিহ্যিক চিকিত্সার রয়েছে কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস। দুর্বল স্বাস্থ্যের ব্যক্তিদের জন্যে চীনা চিকিত্সায় সুফল পাওয়া গেছে। চীন চিকিত্সা বিজ্ঞান একাডেমির পরিচালক ছাও হোং সিন বলেছেনঃ "চীনের ঐতিহ্যিক চিকিত্সার মধ্যে আকুপংচার, অংগমর্দন, ছি কুং ইত্যাদি পদ্ধতি দুর্বল স্বাস্থ্যের ব্যক্তির জন্য বহুমুখী চিকিত্সা যুগিয়ে দিয়েছে।"

    তিনি আরো বলেছেন, চীনের ঐতিহ্যিক চিকিত্সা পরীক্ষার ফলাফল ওপর বেশি নির্ভর করে না। তা ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিরদের লক্ষণ অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি বেছে নেয়া হয়। তা রোগীদের জন্য আরোগ্য হওয়ার জন্য ভাল ফল দিয়েছে।