v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2006-02-10 14:21:12    
মক্কায় চীনের মুসলমানদের হজ্ব পালন সহজতর হয়েছে

cri

    সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ১০ লক্ষ মুসলমান মক্কায় হজ করতে গিয়েছিলেন । এই সব হজযাত্রীর মধ্যে বেশ কয়েকজন চীনা মুসলমানও ছিলেন ।

    মিঃ মা চিন লিয়াং একজন ইমাম । তিনি উত্তর-পশ্চিম চীনের নিং সিয়া হুই জাতির স্বায়ত্ত শাসিত অঞ্চলে থাকেন । এই অঞ্চলে মোট ৩ হাজারেরও বেশি মসজিদ , দুটো ইসলামী ইনস্টিটিউট আর বেশ কয়েকটি আরবী ভাষার বিদ্যালয় আছে । মা চিন লিয়াং স্থানীয় একটি ইসলামী ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক হয়েছেন । তিনি এখন একজন পেশাগত ধর্মীয় ইমাম । তিনি সংবাদদাতাকে বলেছেন , এখন প্রতি বছর মক্কায় হজযাত্রীদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে ।

    গত দু'বছরে চীনে হজ্বযাত্রীদের সংখ্যা আগের চেয়ে আনেক বেড়ে গেছে ।

    চীনে প্রতি বছর মক্কায় হজ্ব পালনের জন্য সরকার বিভিন্ন প্রদেশ ও স্বায়ত্ত শাসিত অঞ্চলের মুসলমানদের সংখ্যাভিত্তিক হজ্বযাত্রীদের সংখ্যা বন্টন করে থাকে । এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে , বিশাধিক বছর হল । যেহেতু চীনের বেশির ভাগ হজ্বযাত্রীআরবী ভাষা জানেন না , সেহেতু সরকারের ব্যবস্থাপনা তাদের জন্য খুব সুবিধাজনক হয়েছে ।

    চীনে হুই , উইগুর , কাজাখ , সালা , তুংসিয়াং প্রভৃতি সংখ্যালঘুজাতির লোকেরা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করেন । এ সব জাতির জনসংখ্যা ২ কোটিরও বেশি । তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকেন । মুসলমানদের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভ অর্থাত্ ফরজের একটি হচ্ছে হজ্ব পালন । নিং সিয়া হুই জাতি স্বায়ত্ত শাসিত অঞ্চল একটি মুসলমান - অধ্যুষিত অঞ্চল । এই অঞ্চলে ২১ লক্ষ মুসলমান আছেন । স্বায়ত্ত-শাসিত অঞ্চলের ইসলাম ধর্ম সমিতির প্রধান মিঃ শিয়ে সেন লিন বলছেন ,

    গত কয়েক বছরে চীনের হজ্ব পালনেচ্ছু মুসলমানদের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে । সরকার সংখ্যালঘুজাতির ধর্ম বিশ্বাসের বিষয়ে উদার ও মুক্তদ্বার নীতি পালন করে । এতে মুসলমানরা পুরোপুরিভাবে নিজেদের আশা-আকাংক্ষা বাস্তবায়িত করতে সক্ষম ।

    কিছু দিন আগে নিংসিয়া হুই জাতির স্বায়ত্ত শাসিত অঞ্চলের ১ হাজারেরও বেশি মুসলমান সরকারের উদ্যোগে গঠিত একটি হজ্বযাত্রী দলে যোগ দিয়েছিলেন ।

    ৪০ বছরেরও বেশী বয়সী মাদাম ফাতিমা .লিন সিয়াং লিয়েন এবছর চীনের হজযাত্রী দলের একজন ছিলেন । তিনি একজন দক্ষ শিল্পপতি । বাড়িঘর নির্মাণ কোম্পানি আর রেস্তরাঁর ব্যবসা আছে তার । এবারকার হজ পালনের অভিজ্ঞতা প্রসংগে তিনি আবেগের সংগে বলেছেন ,

    আগে পরিবার খুব গরীব ছিল । মক্কায় হজ করতে যাওয়া তো দূরের কথা । এখন আমি ধনী হয়েছি । তাই মক্কায় হজ পালনে সক্ষম ।

    মাদাম লিন বলেছেন , মক্কায় হজ্ব পালন করার জন্য হজ্বযাত্রীদের মাথাপিছু গড়পড়তা খরচ ৩০ হাজার ইউয়ানেরও বেশি । এটা তার আর অন্যান্য মুসলমানদের পক্ষে কোনো সমস্যা হতে পারে না ।

    চীনের মুসলমানদের প্রবল ব্যবসায়িক মনোবাসনা ইচ্ছা ও ধারণা আছে । গত কয়েক বছরে সরকার ব্যবসা চালানো আর ধনী হওয়ার জন্য নাগরিকদের উত্সাহ দিয়েছে । বহু মুসলমান বড় শিল্পপতি আর ব্যবসায়ী হয়েছেন । তাদের মধ্যে কারো কারো ধন সম্পত্তি কয়েক কোটি এমন কি দশ কোটি ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে । এখন অধিকাংশ মুসলমানের বার্ষিক আয় ১০ হাজার ইউয়ানেরও বেশি হয়েছে ।

    আর্থিক স্বচ্ছলতা মুসলমানদের হজ্ব পালনের জন্য বস্তুগত নিশ্চয়তা যুগিয়েছে । সরকার তাদের হজ পালনের জন্য সমর্থন আর নিশ্চয়তা সরবরাহ করে । গত শতাব্দির আশির দশক থেকে মুসলমানদের হজ পালনের সুবিধার জন্য চীনের ইসলামী সমিতি প্রতিবছর পেইচিং থেকে মক্কাগামী বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে । হজ্বযাত্রী দলের মধ্যে আরবী ভাষার দোভাষী আর চিকিত্সকের ব্যবস্থাও করা হয় , যাতে হজযাত্রীদের সুবিধা আর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় । সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সংগে যোগাযোগ করা আর চীনের হজযাত্রীদের খাওয়া , থাকা আর যোগাযোগ প্রভৃতি কাজের ব্যবস্থা করার জন্য ইসলামী সমিতি আগে থেকে অগ্রবর্তী কর্মকর্তাদেরও পাঠায় ।

    চীনের পশ্চিমাংশের কানসু , নিংসিয়া আর ছিংহাই প্রভৃতি প্রদেশ আর স্বায়ত্ত- শাসিত অঞ্চলের মুসলমানদের হজ পালনের সুবিধার জন্য গত বছর চীন সরকার প্রথম বারের মতো পশ্চিম চীনের লানচৌ শহর থেকে সৌদি আরবগামী প্রত্যক্ষ ফ্লাইট চালু করেছে । নিং সিয়া হুই জাতির স্বায়ত্ত- শাসিত অঞ্চলের ধর্ম ব্যুরোর কর্মকর্তা মাদাম চিন সিয়াও লিন বলেছেন ,

    আগে হজ্ব পালন করতে যাওয়ার জন্য নিং সিয়ার মুসলমানদের পেইচিং হয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটযোগে রওয়ানা হতে হতো । হজ পালন শেষে তাদের আবার পেইচিং হয়ে যার যার অঞ্চলে ফিরে যেতে হতো । এতে সময় আর অর্থের অনেক অপচয় হয়েছে । এখন নিং সিয়ার মুসলমানরা লানচৌ থেকে বিশেষ ফ্লাইটযোগে ১৬ ঘন্টার মধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছতে পারেন । তাতে প্রচুর সময় আর খরচ বাঁচানো হয়েছে ।

    জানা গেছে , এবছর চীনের হজ্বযাত্রী দলের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার ছিল । আমরা তাদের এবারকার মক্কায় হজ্বপালনের সফলতার জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি ।