v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2006-02-10 11:08:10    
কৃষক নাট্যকার হো ছিং কুয়াই

cri
    প্রতি বছরের বসন্ত উত্সবের আগের দিনে অসংখ্য চীনা নাগরীক পরিবার সহ টেলিভিশনের সামনে বসে কেন্দ্রীয় টেলিভিশন কেন্দ্রের বসন্ত উত্সবের প্রীতি সম্মিলনী দেখতে দেখতে নব্বর্ষকে অভ্যর্থনা জানান। এই বছরের প্রীতি সম্মিলনী অনুষ্ঠানের সিয়াংশেং ও মিনি নাটক প্রভৃতি ভাষাভিত্তিক অনুষ্ঠানের প্রধান পরিচালক মিঃ হো ছিং কুয়াই হচ্ছেন একজন বিখ্যাত মিনি নাটকের লেখক এবং কৃষক নাট্যকার।

    ৫৭ বছর বয়স্ক হো ছিং কুয়াই একজন সাধারণ কৃষক। কিন্তু এমন একজন কৃষক বিশাধিক বছরের প্রচেষ্টা চালানোর পর ক্রমে ক্রমে একজন নাট্যকার হয়েছেন। তাঁর সৃষ্ট বহু হাস্য-রসাত্মক মিনি নাটক এবং টেলিভিশন নাটক ব্যাপক দর্শকের সমাদর পেয়েছে। গ্রাম হচ্ছে তাঁর কাজের উত্স। তাঁর অনুপ্রেরণা কয়েক দশকের গ্রামীন জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে। দর্শকরা তাঁর নাটক দেখে হাস্যরসের সঙ্গে  সঙ্গে অনেক জ্ঞানও লাভ করে। গ্রামের প্রতি ভাবাবেগের ব্যাপারে হো ছিং কুয়াইয়ের কথা শেষ নেই।

    তিনি বলেছেন, চীন একটি কৃষি প্রধান বড় দেশ। কৃষকদের অনেক দিক সাহায্য দরকার। এখন অতিরিক্ত শ্রম শক্তি বেশি, তাঁদের জন্য নির্গমন পথ খুঁজে বের করতে হবে। সরকার ছোট নগর প্রতিষ্ঠা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। আমরাও কৃষকদের আধুনিক কৃষি ধারণা উপলব্ধি করার জন্য কিছু কাজ করা দরকার, যাতে তাঁরা সত্যিকার ধনী হওয়ার পথ খুঁজে পান। "

    হো ছিং কুয়াই চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোট বেলায় তিনি তেমন লেখাপড়া করেন নি। দীর্ঘকাল ধরে তিনি তাঁর বাবার সঙ্গে মাছ ধরেন, তারপর গণ মুক্তি ফৌজে যোগদান করেন। উত্তর-পূর্ব চীনের শীতকাল অপেক্ষাকৃত লম্বা, কৃষকরা বছরে মাত্র একবার ফসল চাষ করতে পারেন, অন্য সময় কিছু কাজ নেই, ফলে সময় কাটানোর জন্য কিছু গল্প রচনা করেন। হো ছিং কুয়াই অন্য কৃষকদের মতো আস্তে আস্তে সাধারণ জীবন থেকে মজা খুঁজে বের করতে শিখেছেন। তিনি আস্তে আস্তে স্থানীয় লোকসংগীত দ্বৈত অপেরা পছন্দ করেছেন।

    দ্বৈত অপেরা অর্থাত্ চীনা ভাষায় এররেনচুয়ান হচ্ছে উত্তর-পূর্ব চীনের বৈশিষ্ট্যপূর্ণলোক শিল্পকলা, হান জাতির সংস্কৃতি আর মান জাতির সংস্কৃতির মিশ্র জিনিস, এতে আদিম অধিবাসীগণের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এবং বহির স্টাইল ও আছে। দ্বৈত অপেরায় একজন অভিনেতা আর একজন অভিনেত্রী মিলে নাচ গান করে একটি গল্প অভিনয় করেন, এর প্রবল প্রাণশক্তি আছে। হো ছিং কুয়াই কাজের ফাকে, শাকশব্জি বিক্রি করার সময়, এমন কি সৈন্য হওয়ার কয়েক বছর সময়েও নিরন্তরভাবে দ্বৈত অপেরা শিখেন। ১৯৭৯ সাল থেকে তিনি একটানা পাঁচ বছর ধরে কিছু লোক শিল্পীদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে অভিনয় করেন । এই প্রক্রিয়ায় তিনি সক্রিয়ভাবে বয়স্ক শিল্পীদের কাছে শিখেন, ক্রমে ক্রমে দ্বৈত অপেরার বিশেষজ্ঞে পরিণত হন। কিছু ঐতিহ্যিক গল্প অভিনয় করার পর তিনি নিজেই রচনা করার চেষ্টা করেন। ১৯৯০ সাল থেকে তিনি পেশাগত রচনার কাজ শুরু করেন।

    "লিউ লাও গেন" হচ্ছে হো ছিং কুয়াইয়ের দু'বছর আগে লেখা অতি জনপ্রিয় একটি আধুনিক গ্রামীন অপেরা, এতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, উত্তর-পূর্ব চীনের একটি গ্রামের নেতা লিউ লাও গেন স্বদেশে পযর্টন ও রেস্তোরা ব্রত উন্নয়ন করে গ্রামবাসীদের নিয়ে মিলিতভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার গল্প। এই ধারাবাহিক নাটক প্রচারের পর ব্যাপক দর্শকদের সমাদর পেয়েছে।

    হো ছিং কুয়াই নাটক "লিউ লাও গেন" লেখার এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামের কাছে আধুনিক কৃষি চিন্তাধারা পৌঁছে দেয়া। তিনি মনে করেন, চীনের কৃষি খাতের অনুন্নয়নের মূল কারণ হচ্ছে চিন্তাভাবনা অনুন্নত। এমন অবস্থা পরিবর্তন করতে চাইলে প্রথমে অনুন্নত কৃষি চিন্তাধারাকে পরিবর্তন করতেই হবে। হো ছিং কুয়াই বলেছেন,

    নাটক "লিউ লাও গেন" লেখার সময় আমি ভেবেছি , কিভাবে নতুন চিন্তাধারা পুরো গল্পের মধ্যে মিশাই। প্রথম অংশে আমি দরিদ্ররা পরিবর্তন চায় এমন একটি গল্প রচনা করেছি। দ্বিতীয় অংশে আমি পরিচালনার দিকে কেন্দ্রীভূত করেছি। কৃষকরা নাটক উপভোগ করার সঙ্গে সঙ্গে কিছু নতুন ধারণা শিখতে পারেন, এর বিশেষ সামাজিক ভূমিকা আছে। "

    হো ছিং কুয়াই মিনি নাটক রচনা করার ব্যাপারেও একই রকম মনোযোগ দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের কেন্দ্রীয় টেলিভিশন কেন্দ্রের বসন্ত উত্সবের সম্মিলনী অনুষ্ঠানে হো ছিং কুয়াইয়ের মিনি নাটক সবসময় দর্শকদের উচ্চ প্রশংসা পায়। মিনি নাটক গত দশ বারো বছরে চীনের টেলিভিশনে এক জনপ্রিয় শিল্পকলায় পরিণত হয়েছে। সাধারণত দু'তিন জন অভিনেতা এক সাথে সাত আট মিনিট সময় নিয়ে একটি হাস্যরসাত্মক মঞ্চ মিলনান্ত নাটকে অভিনয় করেন। হো ছিং কুয়াইয়ের রচিত "সত্যি কথা বল" এবং "ক্রাচ বিক্রি" প্রভৃতি মিনি নাটক চীনের ক্ল্যাসিক্যাল মিনি নাটকে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরের বসন্ত উত্সবের মহা সম্মিলনী অনুষ্ঠানের ভাষা ভিত্তিক অনুষ্ঠানের প্রধান পরিচালক হিসেবে তিনি মনে করেন, মিনি নাটকের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, আমার মনে হয়, মিনি নাটকের মর্যাদা এবং ভূমিকা ঠিক বসন্ত উত্সবের দিনে আমাদের ডাম্পলিং খাওয়ার মত। এখন মিনি নাটক চীনাদের মর্মের ডাম্পলিংয়ে পরিণত হয়েছে। অভিনেতা এবং অভিনেত্রী হচ্ছেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বিভিন্ন মাংসের পুর। দর্শকরা নানা রকমের অনুষ্ঠান দেখে বিগত এক বছরের ক্লান্তি দূর করেন। মিনি নাটক পরিবেশ সুবিন্যস্ত করার প্রবল ভূমিকা পালন করে।

    হো ছিং কুয়াইয়ের নাম তাঁর মিনি নাটক এবং টেলিভিশনের ধারাবাহিক নাটকের সঙ্গে সঙ্গে বিখ্যাত হয়েছে। তাঁর রচনা করার আগ্রহও নিরন্তরভাবে বেড়ে গেছে। কিন্তু গত বছরের আগস্ট মাসে তিনি পর পর আকস্মিক মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছেন। দশ দিনের মধ্যে তাঁর বড় ছেলে গাড়ি দুর্ঘটনায় এবং তাঁর স্ত্রী হঠাত্ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ফলে হো ছিং কুয়াই বিশাল দুঃখের সাগরে ডুবে যান। অসংখ্য দর্শক এবং বন্ধুদের সযত্ন ও সহানুভূতিতে তিনি আস্তে আস্তে উপলব্ধি করেছেন যে, তিনি একটি বড় গাছ হারানোর সঙ্গে সঙ্গে একটি বন পেয়েছেন। তত্কালীন অনুভূতি সম্বন্ধে তিনি বলেছেন, সেই সময় আমার মনে হয়, রচনা করা আমার কাছ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। কিন্তু আমি ভাবতে পারি নি, এতো বেশি লোক আমার উপর মনোযোগ রাখছেন। তাঁরা আমার আগেকার নাটকগুলো দেখেন, কৃতজ্ঞতার মন নিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন। আমি মনে করি, এই বনটি আমাকে বিরাট শক্তি যুগিয়ে দিয়েছে। আমি আরো সুন্দর সুন্দর ফুল ফুটিয়ে আমাকে ভালোবাসেন এমন দর্শকদের জন্য অবদান রাখবো। "

    হো ছিং কুয়াই মনে করেন, ব্যথা দূর করার শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে কৃষকদের জন্য আরো বেশি নাটক লেখা, দর্শকদের জন্য আরো বেশি আনন্দ সৃষ্টি করা । হো ছিং কুয়াই বলেছেন, তিনি গ্রাম সম্পর্কে একটি নাটক লেখার পরিকল্পনা করছেন। নাটকে কয়েক বংশধরের জীবনের পরিবর্তন দিয়ে চীনের গ্রামাঞ্চলের পরিবর্তন প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করা হবে। নাটকে তিনি চীনের গ্রামের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত করবেন।