নয়কাটার নিড়ানি দিয়ে দানব উখোং-এর গায়ে আঁচড়ও কাটতে পারছে না দেখে ভয়ে সে কাতর হলো । উখোং-কে সে বললো , দয়া করে আমাকে ছেড়ে দাও । আর এবার তুমি গিয়ে পাহাড়ের রাজা হও ।
উখোং বললো যে সে থাং সন্যাসি সুয়ান চুয়াংকে পাহারা দিয়ে পশ্চিম দেশে নিয়ে যাচ্ছে । কাও তার কন্যাকে উদ্ধারের আবেদন জানালো বলেই তোমাকে শায়েস্তা করা । পাহাড়ের রাজা হতে চাই না আমি ।
দানব চু সুয়ান চুয়ানের নাম শুনে তাঁকে দেখতে চাইলো । সে বললো , আমি স্বর্গের নৌবাহিনির নেতা ছিলাম । আনিমাতার ভোজসভায় মাতাল হয়ে গন্ডগোল পাকিয়েছিলাম । তাই স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়েছি । সেই থেকে আমার চেহারা শুকরের মতো । পরে বোধিসত্ব কুয়ানইন আমাকে রক্ষা করেন । আমাকে বৌদ্ধ ধর্মে দিক্ষা দেন । তিনি সুয়ান চুয়ানের সঙ্গে বৌদ্ধশাস্ত্র গ্রন্থ সংগ্রহনের সহযাত্রি হতে বলেছেন । সেই থেকে আমি তাঁর আশায় দিন গুনছি । তাঁর শিষ্য হতে পারলে আমরার পাপ মোচন হবে । দয়া করে তাঁর কাছে আমাকে নিয়ে চলো ।
উখোং প্রথমে দানবের কথা বিশ্বাস করেনি । দানব বললো , মিথ্যে বললে তুমি আমাকে হত্যা করতে পারো । অতএপ , গুহা পুড়িয়ে দিয়ে উখোং দানবকে বেঁধে স্কোয়ার কাও-এর বাড়িতে আনলো ।
দানব মাটিতে উপুড় হয়ে সুয়ান চুয়াংকে খুলে বললো সব কথা । বোধি সত্বের কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে সুয়ান চুয়াং দানবের বন্ধন খুলে দিলেন । কাও খুশি হলেন তার মেয়ে ফেরত পেয়ে । আচার্য খুশি হলেন নতুন শিষ্য পেয়ে । তিনি নতুন শিষ্যের নাম দিলেন পাচিয়ে । সে হলো চু পাচিয়ে । দানব হয়ে গেলো ভালো মানুষ । পাপ মোচন হলো তার ।
আচার্য সুয়ান চুয়ান , উখোং এবং চু পাচিয়েকে সঙ্গে নিয়ে আবার রওনা দিলেন পশ্চিম দেশের দিকে । পেছনে রইলো কাও পরিবার এবং কাও গ্রাম ।
কাওলাও চুয়াং গ্রামে আচার্য সুয়ান চুয়াং শুকর চু পাচিয়েকে দ্বিতিয় শিষ্য করলেন । তারপর দুই শিষ্য নিয়ে আবার শুরু করলেন যাত্রা । এবার সামনে পড়লো বিরাট এক নদি । যেমন তার ঢেউ তেমন তার স্রোত । নদির ধারে এক স্তম্ভে লেখা : বালিস্রোত নদি ।
উখোং আকাশে উঠে চারদিকে দেখলো । বিপদের আঁচ পেয়ে মন খারাপ হলো তার । নেমে এসে সে আচার্যকে জানালো যে নদি তিনশো মাইল চওড়া এবং কোনো নৌকা দেখা যাচ্ছে না ।
কিন্তু কিছু তো খেতে নয় । সবারই খিদে পেয়েছে । তিনজনের জন্য খাবার জোগাড় করে আনলো উখোং ।
নদির পাড়ে বসে তারা খাচ্ছিলো এমন সময় নদি থেকে উঠে এলো এক দানব । লম্বা তার চুল । বড় গোল গোল চোখ । গলায় কঙ্কালের মালা আর এক হাতে বর্শা । ছুটে এসে সে প্রথমেই আচার্যকে ধরতে চাইলো । গুরুকে মুহুর্তে সরিয়ে নিলো উখোং । চু তার নিড়ানি নিয়ে তেড়ে মারতে গেলো দানবকে । উখোং ফিরে এসে দানবকে লাগালো এক ঘা । দানব ছুটে পালিয়ে গেলো বালিস্রোত নদির ভেতর ।
চু নদির ভেতর নেমে কোথাও দানবকে খুঁজে পেলো না । পারে উঠে তাকে গালি দিয়ে ডাকতে লাগলো সে । কিন্তু তার পাত্তা পাওয়া গেলো না । আচার্য মন মরা হয়ে বসে রইলেন আচমকা বিপদ দেখে ।
|