v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2005-10-20 14:41:00    
সুস্বাস্থ্য সম্বন্ধে চীনের ঐতিহ্যিক প্রবীণ চিকিত্সকের মন্তব্য

cri

    মাদাম চু নান সুং চীনের একজন প্রবীণ ঐতিহ্যিক চিকিত্সক । তার বয়স ৮৫ বছর । কিন্তু তার শ্রবণ , দৃষ্টি আর স্মৃতি শক্তি এখনও মন্দ নয় , রক্ত চিপ স্বাভাবিক , দেহের ওজনও ৫২ থেকে ৫৩ কিলোগ্রামের মধ্যে নিয়ন্ত্রত রয়েছে । তিনি প্রতিদিন ৬ ঘন্টা ঘুমান । সবাই বলেন , মাদাম চু দেখতে মাত্র৭০ বছর বয়সীর মতো কেউ কেউ বলেছেন , মাদাম চু এত বয়সে যে এত সুস্থ , তিনি নিশ্চয়ই সুস্বাস্থ্যমূলক বিশেষ ওষুধ খেয়েছেন , অন্যদের এই প্রশ্ন শুনে তিনি শুধু মৃদু হেসে উত্তর দেন । তিনি প্রৌঢ় ও প্রবীণদের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে মত বিনিময় করতে ইচ্ছুক ।

    প্রথমতঃ জীবনের প্রতি উদারতা আবলম্বন করা প্রয়োজন । মাদাম চুর স্বভাব উদার আর মনখোলা । তিনি খেলাধূলা চপন্দ করেন । অল্প বয়স থেকেই তিনি বাস্কেট বল আর টেনিস খেলতে পছন্দ করেন । তার অপেরা ও নৃত্য পরিবেশনও মন্দ নয় । খেলাধূলা ও আমোদ-প্রমোদে যেমন তার দেহের প্রাণ শক্তি সুরক্ষা করা হয়েছে , তেমনি মানুষে মানুষে প্রীতিকর সম্পর্ক জোরদার হবে । ভিন্ন বয়সের লোকদের সঙ্গে আদান প্রদান করলে মানুষের মনোবল আর ধ্যানধারণা তেজিয়ান করে দেয়া যায় এবং সমাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকা যায় । এটি যৌবন সুরক্ষা করার একটি কার্যকর পদ্ধতি ।

    দ্বিতীয়তঃ উপযোগী ও বৈজ্ঞানিক খাওয়া দাওয়ার উপর গুরুত্ব দেয়া উচিত । মাদাম চু সাধারণতঃ টনিক খান না , তিনি মাঝে মাঝে একটু আমেরিকান জিনসেং খান । তিনি মনে করেন , এটা নারীদের সুস্বাস্থ্যের জন্য কল্যানকর । টনিক খাওয়ার চেয়ে উপযোগী আর বিজ্ঞানসম্মত খাওয়া-দাওয়া আরও বেশী উপকারী । তিনি অল্প চর্বিযুক্ত খাবার খেতে পছন্দ করেন , তেলে ভাজা খাদ্য খান না ।এটা বয়স্কদের সুস্বাস্থ্যের জন্য হিতকর ্ এই নিয়ম নিরন্তর মেনে চললে পেট আর অন্ত্রে কার্যকরীতা সুষ্ঠুভাবে বজায় রাখা যায় ।

    তুতীয়তঃ জীবনযাপনের উপযোগী শিথিলতা প্রয়োজন । মাদাম চু খুব পরিশ্রমী । স্ত্রী রোগ বিভাগের ডাক্তার হিসেবে তিনি রোজ ২০জন রোগীর চিকিত্সা করেন । অবসর সময়ে তিনি বিনা পয়সায় রোগীদের চিকিত্সা করা আর অন্যান্য সমাজসেবী তত্পরতায় নিয়োজিত থাকেন । কাজের ক্লান্তি বা মন খারাপ হলে নিদ্রার ক্ষতি হয় । সেজন্য তিনি প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে গরম পানিতে পা ধোন । কুসুম গরম পানিতে পা ধোয়ার সময়কাল ১৫ থেকে ২০ মিনিট । এতে রক্তের চাপ নেমে যায় ্ অবসর সময় তিনি ভ্রমণও পছন্দ করেন । আরেকটি সমস্যা এই যে , নারী হিসেবে বাচ্চা প্রজননের সমস্যা নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন । অল্প বয়সী নারীরা এই বিষয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন না । আসলে এই স্বল্প এক মাসের মধ্যে ভালভাবে খাওয়া , পরিশ্রম করা আর ভাল মন সৃষ্টি করা তাদের পরের সুস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ।

    মাদাম চু মনে করেন যে , সুস্বাস্থ্যের জন্য আসলে কোনো বিশেষ ধরনের পদ্ধতি নেই । এই মূল পদ্ধতি হল ভাল-মন বজায় রাখা এবং জীবনযাপনকে ভালবাসা ।

    এখন লো-ব্লাড-সুগারের ক্ষতি সম্পর্কে আপনাদের কিছু বলা হবে ।

    ডায়াবেটিকদের লো-ব্লাড-সুগার যে দেখা দেয় , তার মূলে মূল কারণ এই যে , তারা খাবার , শরীর চর্চা আর ওষুধ চিকিত্সা এই তিন দিকের ওপর যথাযোগ্য মনোযোগ দেন নি । প্রবীণ ডায়াবেটিকদের মধ্যে সবচেয়ে সহজে লো-ব্লাড-সুগার দেখা দেয় । তার সরাসরি কারণ হল অতিরিক্ত পরিমানে রক্তে চিনি কমানোর ওষুধ খাওয়া আর ইনসুলিন ইনজেকশন নেয়া ।

    হাই-ব্লাড-সুগারের ক্ষতি দীর্ঘকাল ধরে ধীরে ধীরে ঘটে । তা সাময়িকভাবে প্রানকে প্রভাবিত করে না । কিন্তু লো-ব্লাড-সুগারের ক্ষতি দ্রুত । তা প্রানের ক্ষতি সাধন করে । লো-ব্লাড-সুগারে মস্তিষ্কের জীবকোষের কার্যকরীতা কমে যাবে একন কি অচল থাকবে । এর সঙ্গে সঙ্গে লো-ব্লাড-সুগারে হৃতপিন্ডের শক্তি ও অক্সিজেন সরবরাহের কার্যকরীকাও কমে যাবে ।