v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2005-09-22 18:53:13    
দক্ষিণ চীনের পুরানো নগর---ফিনিক্স নগর

cri
    দক্ষিণ চীনের হুনান প্রদেশের কয়েকটি জায়গায় আপনারা " দুনিয়ার স্বর্গ" পরিচিত পীচ বাগানের সৌন্দর্যস্নাত দৃশ্য উপভোগ করেছেন , দক্ষিণ চীনের পুরানো নগর---ফিনিক্স নগরের বৈশিষ্ট্য এবং এই নগরে বসবাসরত মিও আর থুচা জাতির রীতিনীতি দেখছেন। আজকের আসরে আমরা আপনাদের চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সানসি প্রদেশের রাজধানী থেইয়ান শহরে নিয়ে যাচ্ছি। সেখানে আপনারা উত্তর চীনের রীতিনীতি দেখতে পারবেন।আশা করি আমাদের এবারকার থেইয়ানেন ভ্রমণ সফল হবে।

    কয়েক বছর আগের কথা। যখন আমি থেইয়ানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতাম , তখন শনিবার বা রবিবার সকালে আমার থেইয়ান শহরের সড়কে হাঁটাহাঁটি করার অভ্যস হতাম ।থেইয়ান শহরের পার্ক, চত্বর প্রভৃতি জায়গায় আমি প্রায়ই যেতাম।এই পুরানো শহর আমার মনে গভীর ছাপ রেখেছে। কিছু দিন আগে, আমি পুরনায় এই শহরে গেলাম।আমি লক্ষ্য করেছি আগে এই শহরের যে সব আমার স্মৃতিতে ছাপ রেখেছে সে সব এখনও রয়ে আছে।এই শহরের সব কিছু আমার কাছে আপন বলে মরে করি।থেইয়ান হচ্ছে সেনসি প্রদেশের রাজধানী। চীনের মধ্য-উত্তরাঞ্চলে এই শহর অবস্থিত।শহরের ইতিহাস ২৫০০ বছরের পরানো। বর্তমানে উচু উচু অট্রালিকা যেখানে সাখানে গোলে উঠেছে ।দিন রাত এই শহরের রাস্তায় গাড়ীঘোড়ার বিরাম নেই।কিন্তু তা সত্ত্বেও এই শহরের ছোট গলি বা বড় রাস্তায় এখনও ঐতিহাসিক চিহৃ ষ্পস্টভাবে দেখা যায়। সারি সারি আকাশচম্বি অট্রালিকাগুলো বেষ্টিত উ ই অথার্ত পয়লা মে চত্বরের উত্তর-পশ্চিম দিকে দাঁড়িয়ে আছে একটি প্রাচীন প্রাসাদের মতো স্থাপত্য।এটা হলো শতাধিক বছর ইতিহাসসম্পন্ন তাও ধর্মের মন্দির।মন্দিরের ভেতরে মোট পাঁচটি উদ্যান আছে।এই মন্দির নির্মাণ শৈলী চীনের প্রাচীন উদ্যানের কর্মশিল্পের সংগে মিশে যায়।মন্দিরের ভেতরে শান্ত।যারা শহরের কোলাহল কিছুক্ষণএড়াতে চায় তারা এখানে সময় কাটা মন্ড নয়। বড় বড় ইংজে সড়ক ধরে পশ্চিম দিকে এগিয়ে গেলে লোকেরা একটি পরানো সড়ক দেখতে পারে।লিউশিয়েন নামে এই সড়কে অনেক পরানো দোকান আছে। সেখানে কেনাকাটান পরিবেশ বেশ ভাল। লোকেরা জিনিসপত্র কেনার পাশেপাশি সেনসির স্থানীয় ভাষা, স্থানীয় খাদ্য এবং স্থানীয় নাটক অনুভব করতে পারে।যারা প্রথম বার থেইয়ান শহরে এসেছেন তারা সাধারণত অস্বস্তি বোধ করে।কিন্তু কিছু দিন পর আস্তে আস্তে তারা এই শহর পছন্দ করে।ম্যাডাম রেন কোনো কাজে থেইয়ান শহরে এসেছেন।তিনি বলেছেন,

    " থেইয়ান শহরের রাস্তায় বাড়াতে গেলে , আপনি অজানতে নিশ্চয়ই কোনো নতুনত্ব দেখতে পারেন।এই শহরের রাস্তার দু পাশের গাছপালায় যে সব সাইনবোট ঝোলানো আছে সে সব সাইনবোটে গাছের বয়স লেখা আছে।আমি এর আগে কথাও এ ধরনের দৃশ্য দেখি নি।কয়েকটি অতি সাধারণ গলিতে হয়তো দু একটা উচ্চ মানের বইয়ের দোকান মানুষের নজরে পড়ে।এ সব দোকান থেকে মনোরম সংগীত যাত্রীদের কানে আসে।দোকানের পরিবেশ খুবই সুন্দর।তা ছাড়া বেশ কয়েকটি ময়দা খাবার রেস্তাঁরাং আছে।এ সব ময়দা খাবার খুব সুস্বাদু।সুদীর্ঘ ইতিহাসসম্পন্ন থাইয়ান শহরের পক্ষে শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের ছিং রাজবংশ আমলের মন্দির হচ্ছে এই শহরের একটি ইতিহাস বই।এই মন্দিরে এই শহরের সব কিছু লিপিবদ্ধ করা হয়। এই শহরে এমন অনেক গাছ আছে যাদের বয়স দু হাজারেরও বেশী সময়ের।এ সব প্রাচীন গাছ এই শহরের পরিবর্তনের সাক্ষ্য।থাইইয়ান শহরে এমন অনেক স্থাপত্য যাদের ইতাহাস শতাধিক বছরের।শহরে বেশ কয়েকটি মন্দির আছে।এ সব মন্দিরে অনেক পুকীর্তি আছে।এ সব মন্দিরের ভেতরের পুর্কীতিতে অনেক গল্প আর রুপকথা আছে।পেইটিং থেকে আসা পর্যটক মিষ্টার নিন ছি ভিয়েন এ সব মন্দিরের মূল্যয়ন করে বললেন,

    মন্দিরের উদ্যান খুব বড় নয়। বড় না হলে এ সব উদ্যান সেনসির সংস্কৃতির প্রতিরুপ ।মন্দিরের ভেতরে কেবল পুরানো স্থাপত্য আর ধ্বংসাবশেষ।পর্যটকরা এ সব মন্দিরের ভেতরে যেমন ইতিহাস ও সংস্কৃতি দেখতে পারেন তামনি প্রাকৃতিক দৃশ্যও উপভোগ করতে পারেন।সত্যি দেখার মতো জায়গা।একটি মন্দিরে একটি ঝরনা আছে। এই ঝরনা নিয়ে একটি রুপকথা আছে।অনেক দিন আগের কথা। এখন যেখানে মন্দির আছে সেখানে অনেক দিন আগে একটি গ্রাম ছিল।একজন মেয়ে এই গ্রামের একজন ছেলের সংগে বিয়ে হল।তার শাশুড়ী প্রত্যেক দিন তাকে পানি আনতে পাঠান।পানির উত্সব বাসা থেকে অনের দূর।প্রত্যেক দিন মেয়েটি এই কাজ করেন।এক দিন পানি আনার পথে একজন বৃদ্ধর সংগে মেয়ের দেখা হল। বুড় লোক মেয়ের পানি তার ঘোড়া খাওয়াতে চান।অনের দূর থেকে আসা এই ক্লান্ত বুড় লোককে দেখে মেয়ে দ্বিধা না করে রাজি হন।তৃষ্ণার্ত এই ঘোড়া বালতির পানি খেয়ে ফেলল।তখন মেয়ে একটু বিষন্ন হয়ে পড়েন।তিনি মনে মনে ভাবেন, পানি আনান জন্য যদি আবার ওখানে যান তাহলে সময় নেই।যদি খালি বালতি নিয়ে বাসায় যান, তাহলে শাশুড়ীর ধমক থেকে রেহাই পাবেন না।ঠিক সেই সময় বুড় লোক একটি চাবুক মেয়ের হাতে দিলেন।বুড় লোক মেয়েকে বললেন, বাসায় ফিরে যাওয়ার পর, এই চাবুক দিয়ে একটি কলসির গায়ে আঘাত হানলে এই কলসি থেকে আপনাআপনি পানি বের আসবে।তিনি ভয়ে ভয়ে বাসায় ফিরে যান। বাসায় ফিরে যাওয়ার পর বুড় লোক তাকে যে বললেন তিনি তাই করলেন।দেখা যায় বুড় লোকের কথা একদম সঠিক।কলসির উপর কয়েক বার আঘাত হানার পর পানি অফরন্ত কলসি থেকে বের হল। এই রুপকথা কতটা সত্য তা বলা কঠিন।

    অভ্যন্তরীণ স্থল শহর হিসেবে থাইইয়াংর ভাগ ভাল। হুওয়াংহোর একটি শাখা ---ফেনহো নদী শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। একটি বড় শিরার মতো এই নদী শহরের জন্য বিপুল পরিমানের শিল্প আর দৈনন্দিন জীবপযাপনের পানি সরবরাহ করে থাকে।নদীর পাশে একটি পার্ক অবসরে সময় কাটার আর্দশ জায়গা। ফেনহো নদীর পারে বসবাস করা মিষ্টার গাও সিও জেন ব্যাখ্যা করে বলেছেন,

    ফেনগো নদীর পার্কের দর্শনীয় স্থান ২০০২ সালে জাতি সংঘের বসস্থানের পরিবেশের প্রকল্প পুরুষ্কার অর্জন করেছে।এই পার্ক নির্মানে থাইইয়ান পৌ সরকার ১২০ কোটি ইয়ান বরাদ্দ করেছে।গোটা পার্কে ঘাসে আছন্ন এবং গাছ রোপন করা হয়েছে।