v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2005-06-02 21:41:20    
চীনে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ তত্পরতা

cri
    ধূমপান স্বাস্থ্যের গুরুতর ক্ষতিসাধনকারী একধরণের বদভ্যাস । এটা ফুসফুসের ক্যান্সার ,হৃদরোগ ও ফুসফুসের অন্যান্য রোগ ইত্যাদি অনেক ধরণের রোগ ডেকে আনতে পারে । বতর্মানে সারা বিশ্বে প্রায় একশো দশ কোটি ধূমপায়ী রয়েছে । প্রতিবছর ধূমপান-সংশ্লিষ্ট রোগে মৃতদের সংখ্যা ৩৫ লক্ষে পৌঁচেছে । চীনের তামাক উত্পাদন পরিমাণ ও ভোগের পরিমাণ সারা বিশ্বের একতৃতীয়াংশের উপরে ।১৫ বছরের বেশী বয়সের ধূমপায়ীদের সংখ্যা ৩৫ কোটি । প্রতিবছর দশ লক্ষ লোক ধূমপানের কারণে মারা যায় । ২০০০ সালে চীনে ধূমপান-জনিত রোগ চিকিত্সার ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৯ বিলিয়ন রেনমিনপি'রও উপরে ।

    চীনের সিয়ে হো মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়াং কং হুয়ান হচ্ছেন ধূমপান নিয়ন্ত্রণ সমস্যা বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ । তিনি বিশ্লেষণ করে বলেছেন , যদি ধূমপানকে নিয়ন্ত্রণ করা না হয় তাহলে চীনের ধূমপায়ীদের অনুপাত বতর্মানে বজায় রাখলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সংগে সংগে চীনের ধূমপায়ীদের সংখ্যা আগামী ৩০ বছরে ৪৩ কোটিতে পৌঁছুবে এবং এ থেকে সৃষ্ট সমস্যা আরো গুরুতর হবে । তিনি বলেছেন ,

    "যদি চীন ধূমপান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয় । তাহলে ধূমপান-জনিত রোগ ও মৃতদের সংখ্যা কমানো যাবে আর শ্রমশক্তি রক্ষা করা যাবে এবং একই সময় চিকিত্সার ব্যয় ও রোগের জন্য দারিদ্র্যের কবলে পড়া লোকদের সংখ্যাও কমানো যাবে । তাই ধূমপান নিয়ন্ত্রণের অথর্নৈতিক ফলপ্রসূতা ও স্বাস্থ্যগত ফলপ্রসূতা খুবই স্পষ্ট ।"

    চীন ধূমপান নিয়ন্ত্রণ কাজের উপর বরাবরই খুবই গুরুত্ব দেয় । এটা প্রথমত: আইন প্রনয়নে প্রতিফলিত হয়েছে । যেমন চীন "তামাক বিক্রয় আইন" প্রনয়ন করেছে । তাছাড়া "বিজ্ঞাপন আইন" , "অপ্রাপ্তবয়স্কদের রক্ষা আইন" , "গণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়মবিধি" ইত্যাদি বিশটিরও বেশী আইনবিধিতেও ধূমপান নিয়ন্ত্রণের বিষয়বস্তু রয়েছে ।

    প্রচার ও শিক্ষা তত্পরতা চালিয়ে নতুন ধূমপায়ীদের আবিভাব রোধ করা হচ্ছে ধূমপান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চীনের অবলম্বিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা । এজন্য চীন ধূমপান নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জনসাধারণের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য তামাকের বিজ্ঞাপন-মুক্ত শহর , ধূমপান-মুক্ত হাসপাতাল , ধূমপান-মুক্ত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তত্পরতা চালিয়েছে । প্রতি বছরের ৩১শে মে অথার্ত্ বিশ্ব ধূমপানমুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে চীনের বিভিন্ন স্থানে পরামর্শ , বক্তৃতা সভা , প্রচারের লিফলেট বিতরণ ইত্যাদি বিভিন্ন তত্পরতা চালিয়ে ধূমপানের ক্ষতি সম্পকির্ত জ্ঞান জনপ্রিয় করে তোলা হয় ।

    ওয়ান সিন নামে পেইচিংয়ের একজন ছাত্রী সংবাদদাতাকে বলেছেন , "অতীতে কাউকে ধূমপান করতে দেখলে আমার মনে হতো এটা খুবই সুশ্রী ও খুবই মোহনশক্তি-ভরপুর একটা ব্যাপার । কিন্তু এখন আমি জেনেছি যে ,ধূমপানের ক্ষতি অনেক ,নেশা ধরলে ধূমপান ত্যাগ খুবই কঠিন ,তাই আমরা যুবকযুবতী ও কিশোরকিশোরীরা এটাকে যেনো কখনো না ছুই ।"

    নতুন ধূমপানকারীদের আবির্ভাব ঠেকানোর সংগে সংগে ধূমপানকারীদের ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করার জন্যও চীন অনেক ব্যবস্থা নিয়েছে ।

    ধূমপান নিয়ন্ত্রণ কাজ আরো জোরদার করার জন্য চীন গত বছর "তামাক নিয়ন্ত্রণের কাঠামোগত চুক্তি" স্বাক্ষর করেছে । এই চুক্তি হচ্ছে জাতিসংঘের প্রথম আইনের নিয়ন্ত্রণশক্তি-সম্পন্ন গণস্বাস্থ্য সম্পকির্ত বহুপাক্ষিক চুক্তি । চুক্তিতে যাবতীয় দেশের প্রতি কাযর্কর , উপযুক্ত ও সাবির্ক মোকাবিলার ব্যবস্থা নিয়ে তামাকের উত্পাদন , বিক্রয় ও ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখার আহবান জানানো হয়েছে । চীনের ধূমপান ও স্বাস্থ্য সমিতির ছাও রোং কুয়েই বলেছেন , "তামাক নিয়ন্ত্রণের কাঠামোগত চুক্তির" স্বাক্ষর চীনের ধূমপান নিয়ন্ত্রণ কাজের জন্য নতুন সুযোগ যুগিয়েছে । তিনি বলেছেন ,

    "চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইতিমধ্যে চীনের বিভিন্ন পযার্য়ের ধূমপান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও ব্যাপক সংশ্লিষ্ট কমীর্দের গভীরভাবে চুক্তিটি জানতে , ধূমপানের ক্ষতি সম্পর্কে গোটা সমাজের সচেতনতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালাতে , তামাকের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করতে এবং চীনের সাফল্যের সংগে চুক্তিটি পালনের জন্য উত্তম ভিত্তি রচনা করতে নিদের্শ দিয়েছে ।"