v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2005-05-16 22:35:46    
দুনিয়ার স্বর্গ

cri
    গত বারের আসরে আপনাদের দক্ষিণ চীনের হুনান প্রদেশের পীচ বাগানে নিয়ে গেছি । চীনের রুপকথায় এই পীচ বাগানকে "দুনিয়ার স্বর্গ" বলে গণ্য করা হয়। "দুনিয়ার স্বর্গ" দেখার পর আপনাদের কেমন লেগেছে? চীনের হুনান প্রদেশের পশ্চিমাংশে একটি থুচা আর মিও জাতি স্বায়ত্তশাসিত জেলা আছে।সেখানে বিস্তীর্ণ পর্বতমালর মধ্যে লুকিয়ে আছে একটি সুন্দর পুরানো নগর।নগরের নাম ফনহুওয়াং অর্থাত ফিনিক্স পুরানো নগর।শত শত বছর ধরে এই প্রাচীন নগর সবর্দাই পবর্তমালার ভীতরে শুয়ে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন। ৬০ বছর আগে আধুনিক সাহিত্যিক এবং ঐতিহাসিক সেন ছন উয়েন তাঁর "প্রান্তিক নগর" নামক উপনাসে প্রথম বার এই প্রাচীন নগর সম্বন্ধে বর্ণনা করেছেন।নিতি এই প্রাচীন নগরে জম্ম গ্রহণ করেন এবং বড় হন।কেবল তখন থেকেই ফনহুওয়াং অথার্ত ফিনিক্স প্রাচীন নগর বহির্বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়।

    ফিনিক্স প্রাচীন নগর ফিনিক্স জেলার রাজধানীতে অবস্থিত।একটি মোটা দেয়াল ৪০০ বছরেরও বেশী ইতিহাসসম্পন্ন প্রাচীন নগর ঘেঁরাও করে ।এই জেলার দক্ষিণ-পুর্বাংশে অবস্থিত একটি পাহাড় দেখতে উড্ডয়নমান ফিনিক্সের মতো দেখায় ।সে জন্যেই ফিনিক্স জেলা বলে ডাকা হয় । ৩ লক্ষেরও বেশী অধিবাসী এই জেলায় বাস করে।তাদের মধ্যে অধিকাংশ হলো মিও আর থুচা জাতি।যখন আমি এই নগরের উত্তর দ্বারের ভিতরে প্রবেশ করলাম তখন মিও জাতির মেয়েদের গাওয়া অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানো গা আমার কানে আসল।

    প্রাচীন ফিনিক্স নগর এই জেলা শহরের পশ্চিম অংশ অধিকার করে।বেশ কয়েকটি গলি নিয়ে এই প্রাচীন নগর গঠিত হয়। নগরের চার দিকে প্রাচীন দেওয়াল, প্রাচীনকালের ঘন্টার টাওয়া এবং পুরানো মন্দিরগুলো।গলির সমস্ত রাস্তা লাল রংয়ের পাথর বাঁধানো পথ।পাথর বাঁধানো পথের দুই পাশে নীচু নীচু পুরানো বাড়ীঘর।এ সব বাড়ীঘরের ইতিহাস শতাধিক বছরের।শরতকালে এই প্রাচীন নগরে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ভিড়।লেখক সেন ছন ভিয়েন যিতি প্রথমে এই প্রাচীন নগর বিশ্বের কাছে বর্ণনা করেছেন তিতিই এগুলো পুরানো গলির মধ্যে থাকতেন।তাঁর পুরানো বাড়ী ঠিক পেইচিংএর চক মেলানো বাড়ীর মতো।বাড়ীর দশ-বারোটি ঘরে লেখক সেন ছন ভিয়েনের ছবিগুলো এবং স্টেসিনারী সাজানো হয়।তিনি ছোট বেলায় এখানে কাটলেন ।গাইড পং ব্যাখ্যা করে বলেছেন, লেখক সেন ছন ভিয়েনের পুরানো বাড়ীর ইতিহাস এক শো পন্চাশ বছরেরও সময়ের। এটা হলো প্রাচীন ফিলিক্স নগরের প্রতিনিধিত্বকারী স্থাপত্য।

    এটা হলো ফিলিক্স প্রাচীন নগরের প্রতিনিধিত্বকারী চক মেলানো বাড়ী।লেখক সেন ছন ভিয়েনের পুর্বপুরুষরা এই বাড়ী রেখে দিয়েছিলেন।ঘরগুলোর দেওয়াল কাঠের তৈরী, দেওয়ালের ভিত্তি ইটের বাঁধানো। এখানকার আয়ু অপেক্ষাকৃত আর্দ্র বলে নীচে ইটের তৈরী দেওয়ালের ভিত্তি স্থাপান করা হয়।

    লেখক সেন ছন ভিয়েনের পুরানো বাড়ী থেকে বেরিয়ে আমরা থোচিয়াং নদীর সামনে আসলাম।নদীর পানি স্বচ্ছ এবং বেশী গভীর নয়।সুতরাং নদীর তলদেশের ঘাস ষ্পষ্টভাবে দেখা যায়।নদীর দুই তীরে যেসব স্থাপত্য নির্মান করা হয়েছে সে সব স্থাপত্য পানির পাশে নির্মান করা হয়েছে।এটা হলো প্রাচীন ফিলিক্স নগরের একটি মনোহর দৃশ্য।এ সব বাড়ীঘর নির্ভর করে থাকে নীচের কাঠের স্তম্ভগুলোর উপর।এ ধরনের স্থাপত্য স্থানীয় মিও আর থুচা জাতির স্ববৈশিষ্ট্যসম্পন্ন স্থাপত্য।বাড়ীঘরের নীচে সবুজ পানি, পিছনে সবুজ পাহাড় এবং উপরে মেঘমক্ত নীল আকাশ। কি সুন্দর একটি সৌন্দর্যস্নাত ছবি।নদীর পাশে পর্যটক এবং পিঠে বাঁশের ঝড়ি স্থানীয় কৃষক ছাড়া, গাছপালার ছায়ার নীচে দল দল ছাত্রছাত্রী ছবি আঁকছে।তাঁদের কলমে থোচিয়াং নদীর সুন্দর দৃশ্য প্রাণবন্ডভাবে দেখানো হয় । তবে কৌকায় চেপে নদীতে ভাসতে ভাসতে নদীর দু পাশের সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করা সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি। আমরা একটি কৌকায় চেপে থোচিয়াং নদীর ভ্রমন শুরু করলাম। নদীতে ভিড়ানো ছোট ছোট কৌকাগুলো থেকে মিও জাতির ছেলে-মেয়েদের গাওয়া গান এবং ঢাক বাজানোর আওয়াস অনাবরত কানে আসল।গান এবং ঢাক বাজানোর আওয়াজ পানির ঢেউয়ের গর্জনেরসংগে মিশে যায়।আমাদের নদীর ভ্রমনে বিচিত্র যুগিয়ে দেয়া হল।

    যখন ছোট নৌকা একটি বড় সেতু পার হয় তখন গাইড আমাকে বললেন, এই সেতু প্রাচীন ফিলিক্স নগরের আরেকটি দেখার মতো জায়গা।এই সেতুর ইতিহাস ছয় শোরেরও বেশী বছরের।ইতিহাস লিপিবদ্ধ এই অতী পুরানো সেতু এখনও মজবুত এবং অখন্ড অবস্থায় সংরক্ষিত আছে ।সেতুর উপরে বাতাস-বৃষ্টি টাওয়া নির্মান করা হয়। এই টাওয়ার পাশে দাঁড়ালে থোচিয়াং নদীর দু পাশের সমস্ত মিও ও থুচা জাতির স্ববৈশিষ্ট্যসম্পন্ন স্থাপত্য পুরোপুরি দৃষ্টিগোচর হয়।এই সেতু থেকে আমরা একটি জনব্যস্ত ছোট সড়কে এসে পড়লাম।এই সড়কের দু পাশের দোকানপাটগুলোতে স্থানীয় পণ্যদ্রব্য বিক্রি করা হয়। মিও জাতির বিভিন্ন অলংকার পাওয়া যায় ।তা ছাড়া , স্থানীয় সুচিকর্ম এবং বন্য মাসরুম প্রভৃতি পাহাড়ের প্রাকৃতিক সবজি পাওয়া যায়। এক জন পর্যটক উত্তর চীনের চিনচো থেকে এসেছেন। তিনি একটি মিও জাতির চালানো কাপড় দোকানে তাঁর বান্ধুবীর জন্য কোনো একটি উপহার বেঝে নিছিলেন।তাঁর কথা বলার ভংগীতে ফিলিক্স প্রাচীন নগরের প্রতি তাঁর ভারবাসা প্রতিফিত হয়েছে।

    এখানকার স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।উপরন্তু এখানকার রীতিনীতি অপেক্ষাকৃত সরল।দেখতে বুঝা যায়, স্থানীয় লোক খুব শান্তিতে জীবন যাপন করছেন।এ সব আমরা বড় বড় শহরগুলোতে দেখতে পারি না।আমার মনে হয়, এখানকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, প্রাকৃতিক দৃশ্য স্থানীয় সংখ্যালঘু জাতির সাংস্কৃতিক আকর্ষনের সংগে মিশে যাওয়া।এ সব সত্যিই মানুষের স্মৃতিতে গভীর ছাপ রাখতে পারে।

    প্রাচীন ফিলিক্স নগরে আমি দক্ষিণ চীনের মহা প্রাচীরের সৌন্দর্য দেখতে পেরেছি । প্রাচীন নগর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে একটি মহা প্রাচীর আছে। স্থানীয় গাইড বলেছেন, এটা চীনের ইতিহাসে সবচেয়ে আকারের পুরানো স্থাপত্যগুলোর অন্যতম।

    এই দক্ষিন প্রাচীর দক্ষিণ-উত্তর বিস্তৃত হয়। প্রাচীরের দৈঘ্য ১৯০ কিলোমিটার।স্থানীয় নীল পাথর দিয়ে এই প্রাচীর তৈরী করা হয়।প্রাচীর দেওয়ালের উচ্চতা গড়ে তিন মিটারের বেশী।কোনো জায়গায় আরো উচু হয়।অতীতে এই প্রাচীরের দরুণ হান জাতি আর মিও জাতির মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন । কিন্তু এখন এই প্রাচীর এই পুরানো নগরের একটি আর্কষনীয় দৃশ্যনীয়স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে।