v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2005-05-02 19:44:31    
কানাস

cri
    চীনের পশ্চিমাংশে অবস্থিত সিনজিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের নাম নিলে সাধারনত সংগে সংগে মানুষের মনে পড়ে বিশাল গোবমরুভূমি মিষ্টি মিষ্টি আংগুর এবং সুন্দর আর মার্জিত উইগুর জাতির মেয়েদের কথা ।কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিনজিয়াংএ এমন একটি দর্শনীয়স্থান আছে যা পর্যটকদের মুখে মুখে খুব প্রশংস পেয়েছে। এটা হলো কানাস।সেখানে লোকেরা নিজেদের ইচ্ছামতো প্রকৃতির সংগে মিশে যাওয়ার অনুভব উপভোগ করতে পারেন।

    কানাস সিনজিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। এই অঞ্চল রাশিয়া, কাজাখস্তান এবং মংগোলিয়ার সংগে সংলগ্ল। ওখানে পৌছতে হলে সিনজিয়াংএর রাজধানী উরুমুছি থেকে বিমানে চড়ে প্রথমে আলেঠা পৌছতে হয়, তারপর আলেঠা থেকে গাড়ীতে চেপে আর প্রায় চার ঘন্টার পথ।

    যখন আমাদের গাড়ী নানা ধরনের গাছপালায় ঢাকা পাহাড়ী অঞ্চলে পৌছে তখন অদুর থেকে প্রবহমান পানির কুলুকুলু আওয়াজ আমাদের কানে ভেসে আসে ।বুঝা যায় আমরা কানাসের কেন্দ্র স্থানে পৌছে গেছি ।কানাস একটি প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা।পাহাড়ের ভিতরের গাওসেন হ্রদ আর কানাস হ্রদ এই দর্শনীয়স্থানের দুটো প্রধান অংশ।হ্রদের জলসীমা সমুদ্র-সমতলের তুলনায় ১৩৭৪ মিটার উচু জায়গায় অবস্থিত, হ্রদের আয়তন ৪৬ বর্গকিলোমিটারের কাছেকাছি।কানাস হ্রদের চার পাশের পাহাড় সারি সারি পাইন-গাছে ঢাকা। এখানকার সুন্দর দৃশ্য বর্ণনা করে শেষ করা যায় না। এখানে নানা ধরনের উদ্ভিদের সমাবেশ। কোনো কোনো উদ্ভিদ অতি মূল্যবান।তা ছাড়া , এখানে কোনো কোনো দুর্লভ বন্য জানোয়ার ,পাখি আর উভচর সরীসৃপ প্রাণীও দেখা যায়।

    কানাসের ভোরবেলার দৃশ্য উপভোগ করা জন্য স্থানীয় অধিবাসীদের প্রস্তাবে আমি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠলাম। দরজা খুলে তুষারে ঢাকা পাহাড় থেকে ঠান্ডা বাতাস মুখে এসে লাগলো।সংগে সংগে আমার সর্বাংগ কেঁপে উঠল। সিনজিয়াংএ তখন যে গ্রীষ্মকাল তা একেবারেই ভুলে গেছি ।কাঠের আস্তরণের ছোট ছোট পথে একলাই হাঁটতে হাঁটতে অল্প কিছু দূর গেলে অদূর থেকে কানে ভেসে আসলো কানাস নদীর স্রোতের গর্জন এবং বনের পাখির অনবরত ডাকের শব্দ।আকাশচুম্বী সারি সারি পাইন গাছগুলোর ফাঁক দিয়ে তাকালে দূরের মৈত্রী পাহাড় দৃষ্টিগোচর হয়।পাহাড়ের শৃংগের তুষার পুরোপুরি গলে যায় না।তবে পাহাড়ের গাছপালার পাতাগুলো একেবারে সবুজ।ভোরবেলার রৌদে সবুজ বনের গায়ে যেন এক পোঁচ সোনালীরং মাখানো হয়েছে ।বিস্তীর্ণ আকাশ মেঘমুক্ত।আমি কানাসের আসল মালিক ---কানাস হ্রদের পাশে এসে পড়লাম।কানাস হলো মংগোলীয় ভাষা। এর অর্থ হলো, "সুন্দর আর রহস্যময় হ্রদ"।আমাদের ভ্রমনসংগী লি ডে হুওয়া ব্যাখ্যা করে বলেছেন,

    ভাটি থেকে উজান পর্যন্ত গোটা হ্রদের দৈর্ঘ্য ২৪ কিলোমিটার, গড়পড়তা চওড়া দুই কিলোমিটার। আয়তন খুব বড় না হলেও এই হ্রদের পানির মজুদের পরিমাণ বিরাট। মাপের পর দেখা যায়, তার মজুদের পরিমাণ ৫০০ কোটি কিউসেকেরও বেশী।তার ব্যাখ্যা শোনার পর আমরা সমুদ্র-সমতলের তুলনায় ২০০০ মিটার অথার্ত হ্রদের জলসীমার চেয়ে ৬০০ মিটার উচু একটি মাছ উপভোগের টাওয়ারে আরোহন করেছি।সেখানে দাঁড়িয়ে নীচের কানাস হ্রদের সুমহান দৃশ্য দেখে অভিভূত।চকচকে জলসীমা যেন একটি বিরাট আয়না সহজেই নজরে পড়ে।আকাশে বৈচিত্রময় ধাঁচের মেঘ ভাসছে।৫০ কিলোমিটার দূরে মৈত্রী পাহাড়ের শৃংগ এবং হ্রদের তীরের সারি সারি গাছপালার প্রতিবিম্ব হ্রদে ষ্পষ্টভাবে দেখা যায়।আমাদের আরেক জন ভ্রমনসংগী ওয়াং শিউ ডং আমাকে বললেন, পর্যটকরা যাতে কানাস হ্রদের একটি বিশেষ মাছ দেখতে পারেন , সেটাই এই টাওয়া নির্মান করার উদ্দেশ্য।এই মাছের নাম হলো "বড় লাল মাছ"। তিনি বললেন,

    কেবল এই মাছের মাথা প্রায় দুই মিটার লম্বা।তার দেহ কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ মিটার লম্বা।কিংবদন্তীতে বলা হয়েছে, অনেক অনেক দিন আগে, কয়েকটি গরু আর ভেড়া হ্রদে পানি খেতে হাজির হয়। হঠাত একটি বড় লাল মাছ একটি গরুকে পানির ভিতরে টেনে নিল। এই মাছ এক ধরনের গভীর পানির মাছ , পৃথিবীতে খুব কম দেখা যায়। যদিও তিনি এই কাহিনী সম্বন্ধে প্রাণবন্তভাবে বর্ণনা করেছেন, তবু আমাদের ধারনায় এই ধরনের মাছ দেখতে পারা এক ধরনের ভাগ্য বলে মনে করা হয় এবং এত সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ পাওয়া এক ধরনের সুখ বলে মনে করা হয়। বালাবাহুল্য এত সুন্দর পরিবেশে হাঁটাহাঁটি করে ইচ্ছামতো এখানকার পরিষ্কার হাওয়ায় দম নেয়া এক ধরনের উপভোগ তাতে কোনো সন্দেহ নেই।মাছ উপভোগ করার টাওয়ার দাঁড়িয়ে শুধু যে সুমহান কানাস হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারি তাই নয়, মংগোলীয় , কাজাখস্তান জাতির পশুপালকদের বিশাল জম্মভূমিও দেখতে পারি।তৃণভূমিতে হাজার হাজার গরু আর ভেড়া যেন বৈচিত্রময় হিরা একটি বিরাট সবুজ গালিচায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে আছে ।সাদা রংয়ের মংগোলীয় অংগনগুলো হিরা রাক্ষার কৌটার মতো দেখায়।