v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2005-04-15 20:57:46    
চীনের আরব সংস্কৃতি

cri
    চীন ছাপান্নটি জাতি নিয়ে গঠিত একটি দেশ। এ সব জাতির মধ্যে ১০টি জাতি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে। তারা মূলত: আর ইসলামী আরব সংস্কৃতি গ্রহণ করেছে এবং তা বিকশিত করেছে। ফলে আরব সংস্কৃতি চীনা জাতির এই বড় পরিবারের অফুবন্ত সাংস্কৃতিক সম্পত্তির একটি শাখার পরিনত হেয়েছে।

    ১ হাজার ত শো বছর আগে চীনের থাং রাজবংশ আমলে লেখাপড়া আর বসবাস করার বহু আরব সুদুর চীনে আসেন। একটি হাদিসে বলা হয়েছে, "জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনে সুদূর চীনদেশে যাও। চীনদেশে আসা এই সব আরবকে চীনের প্রথম প্রজন্সের মুসলমান বলা যায়। তাদের প্রভাব আর পরিচালনায় চীনে প্রজন্মের পর প্রজন্মর মুসলমানরা বংশ বিস্তার করেছে। চীনে এখন যে ইসলামধর্মাবলস্বী দশটি জাতি আছে, সেগুলো হচ্ছে: হুই জাতি, উইগুর জাতি, কাজাখ জাতি. তুঙসিয়াং জাতি, তাতার জাতি, উজবেক জাতি, কিরগিজ জাতি, সালার জাতি, তাজিখ জাতি আর পাও আন জাতি।

  

(হুই জাতি)

(উইগুর জাতি)

(কাজাখ জাতি)

(তুঙসিয়াং জাতি)

(তাতার জাতি)

(উজবেক জাতি)

(কিরগিজ জাতি)

(সালার জাতি)

(তাজিখ জাতি)

(পাওআন জাতি)

  এই দশটি জাতির মধ্যে উত্তর-পশ্চিম চীনের ছিংহাই প্রদেশের স্যুজুয়া জেলার সালার জাতির লোকসংখ্যা সবচেয়ে কম। এই জাতির লোকসংখ্যা মাত্র আশি হাজার।

    হান ফুসালার জাতির একজন মুসলমান । তিনি বলেছেন, সালার জাতি সাত শো বছর আগে মধ্য এশিয়া-অর্থাত্ এখনকার তুর্কমেনিস্তান থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে এক কপি হাতের কোরান এনেছেন। জানা গেছে, সারা পৃথিবীতে মাত্র তিন কপি হাতের লেখা কোরান আছে এবং সেগুলো মুর্দীর্ঘকালের সালার জাতি বরাবরই ইসলামের ঐতিহ্য বজায় রাখে। যেমন তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান সাক্ষার বক্তব্য পাঠ করা প্রয়োজন।

   

(চীনের মুসজিদ)

মসজিদ মুসলমানদের প্রধান আনুষ্ঠানিক উপাসনাস্থল। চীনে প্রতি শুক্রবার দুপুরে মুসলমানরা যার যার বাড়ির নিকটবর্তী মসজিদ সমাবেশিত হয়ে জুর্মার নামাজ পড়েন।

    জনাব পাও চিন কুইহুই জাতির একজন মুসলমান। তিনি নিনসিয়া হুই স্বায়ও শাসিত অঞ্চলে কয়েক শো পুরানো একটি মসজিদ ইমাম। তিনি চীনের বহু জায়গা ভ্রমণ করেছেন। বিভিন্ন অঞ্চলের মসজিদ তার মনে একটি অমোচনীয় রেখাপড়া করেছে। তিনি বলেছেন, আমি চীনের বেশির ভাগ মসজিদ পরিদর্শন করেছি। সেগুলো সত্যি ভাল। আমাদের নিনসিয়া হুই জাতির স্বায়ও শাসিত অঞ্চলে মাত্র নশোরও বেশি মসজিদ ছিল। এখন মসজিদের সংখ্যা আড়াই হাজারে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের অঞ্চলে অধিক থেকে অধিকতর মুসলমান মক্কায় হজ করতে যান।

    একটি অসমাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত কয়েক বছর ধরে বছরে চীনের মক্কায় হজ যাত্রীদের সংখ্যা কয়েক হাজারে দাঁড়িয়েছে।

    চীনের মুসলমানদের পোষাক সংস্কৃতিও আরব রীতিনীতিতে ভরপুর। উত্তর পশ্চিম চীনের সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ও শাসিত অঞ্চলে আরবীদের মতো পাগড়ি ও লাম্বা পোষাক সর্বএই দেখা যায়।

    ম্যাদাম জুলা একজন উইগুর জাতির মুসলমান। তিনি বলেছেন, উইগুর জাতি আর আরবীদের রীতিনীতি এই রকমের। যাদের সঙ্গে প্রথম বারের মতো দেখা হয়, এক সাথে নাচ গান আর খাওয়ার জন্য তাদেরকে বাসায় যাওয়ার আমন্ত্রন জানানো হয়।

    বাসায় খাওয়া আর নাচ গানের জন্য অতিথিদের আমরা যে আমন্ত্রন জানাই, তার মূলে রয়েছে ঘরোয়া পরিবেশ।

    চীনের আরবদের খাওয়ার সংস্কৃতি সবএই দেখা যায়। মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় বেশার ভাগ রেস্তোরা মুসলমানদের জন্য বন্দোবস্ত করা হয়। অমুসলমানদের এলাকায়ও মুসলিম রেস্তোরা পাওয়া যায়। মুসলমান কর্মাদের রীতিনীতি আর চাহিদা মেটানোর করা হয়। আরবীদের সবচেয়ে পছন্দনীয় খাবার-খাসির মাংশও চীনের মুসলমানদের জনপ্রিয় খাবার।

    পশ্চিম চীনের মুসলমানদের মধ্যে এখনো আরবের কিছু ঐতিহ্যিক ক্রীড়া দফা যেমন ধাবমান অশ্বে আরোহন করে মেষ ধরার প্রতিযোগিতা মুষ্টিযুদ্ধ বজায় রয়েছে। প্রতিবছরের শরত্কালে কাজাখ জাতি, তাজিক জাতি প্রভৃতি ইসলাম ধর্মাবম্বী জাতির এলাবায় এই সব ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।

    চীনে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তন হয়েছে প্রায় সহস্রাধিক বছর হল। এর সঙ্গে নিবিড় আরব সংস্কৃতি গড়ীরভাবে চীনের মুসলমানদের জীবনযাত্রায় প্রবেশ করেছে। চীনের মুসলমানরা পরস্পরকে আরবী ভাষায় শুভেচ্ছা জানান। বলা যায়, আরব সংস্কৃতি এই বহুজাতিক চীন দেশকে এক ধরনের অসাধারন বৈদেশিক রীতিনীতি যুড়িয়েছে। এটা চীনের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিনত হয়েছে।